Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে এ শপথ পাঠ করান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সমাবেশ থেকে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণজাগরণ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি। আজকের শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নারী জাগরণ সমাবেশ  থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ৭ই মার্চের চেতনায় সারা দেশের প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে আগামী ২২শে মার্চ পর্যন্ত এ কর্মসূচির সময় বাড়ানো হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। দুপুরের পর থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্রোতের মতো আসতে থাকে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ডের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে আসতে থাকেন নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোক সমাগম। একসময় পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। গণসংগীত, প্রতিবাদী কবিতা আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা। বিকাল চারটার দিকে সমাবেশে গান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ৭১ সালের ৭ই মার্চের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তখন আমি তার পাশে বসে গান পরিবেশন করে জনতাকে উজ্জীবিত করেছিলাম। তিনি পরপর দু’টি গান পরিবেশন করেন। তার গানে উদ্বেল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেটের প্রবেশপথে বসানো হয় আর্চওয়ে। শতাধিক র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজরদারি করেন। অপূর্ব নামের এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করে ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়। তার ভাষণ শুনে সমবেত জনতা অভিভূত হয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সবাই সেই দিনের মতো বারবার আওয়াজ তোলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে। মুক্তিযুদ্ধ না  দেখা তরুণ প্রজন্ম ফিরে যায় একাত্তরে। এরপর ৭১ সালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার হাতে নির্যাতিত সখিনা খাতুনের হাতে পূর্বঘোষিত ১০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। গতকাল ছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের ৩১তম দিন। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগের বাইরে ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, বাহাদুর শাহ পার্ক ও যাত্রাবাড়ীতে গণজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নারী জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ পরিচালনা ও বক্তব্য রাখবেন নারীরা। এর জন্য গার্মেন্ট শ্রমিক ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বিকাল ৩টা থেকে ছুটি দিতে মালিকদের আহ্বান জানানো হয়। এরপর ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ৫ই মার্চ আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আজ তীব্র গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমরা যে ৬ দফা দাবি উত্তোলন করেছি তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ইতিমধ্যে আমাদের দাবি পূরণে সংসদে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সারা দেশে সহিংসতা চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা সামপ্রদায়িক হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। মনে রাখবেন যাতে কোন ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমরা জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না। ৭ই মার্চের চেতনা নিয়ে আমাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তেই উপনীত হয়েছি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিন তার ভাষণ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের রক্তকণিকায় মূর্ছনা তুলেছিল। ৭ই মার্চ আমাদের অনুপ্রেরণা। ইমরান বলেন, আমরা ৭ই মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের কারণে সারা দেশে কার্যক্রম চালাতে পারিনি। তাই আগামী ২২শে মার্চে পর্যন্ত এই কর্মসূচির সময় বাড়ানো হলো। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আপনারা সবাই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি সমবেত জনতাকে শপথ পাঠ করান। শপথে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্র্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম বয়কট করবো। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসির, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিঠু, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও ছাত্র সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান খান বক্তব্য রাখেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট