Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিরোধীদের তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে পুলিশ

টার্গেট বিরোধী জোটের সক্রিয় নেতাকর্মী। তাদের গ্রেপ্তার ও আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে মাঠে নামছে পুলিশ। ইতিমধ্যে জামায়াত-বিএনপির সক্রিয় কর্মীদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। প্রত্যেক ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকার দলের নেতাকর্মীরা জামায়াত-বিএনপি এবং ১৮ দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করছেন। অনেক এলাকায় এই তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। পুরো তালিকা হাতে পেলেই অপারেশনে নামবে পুলিশ। বিরোধী নেতাকর্মীদের দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অপারেশন টিম গঠনেরও চিন্তা করা হচ্ছে। বিরোধী কর্মীদের ‘দুষ্কৃৃতকারী’ হিসেবে এ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় আলেমদের পৃথক তালিকা তৈরির পর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের মোকাবিলায় জেলায় জেলায় পর্যাপ্ত গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর ও সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়, সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের জানমাল নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার তা-ই করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, বিরোধীদলীয় জোটের এক দফা দাবি ঘোষণার পরপরই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- যাতে কোন রাস্তা বিকল হয়ে না পড়ে। সরকারের বিশেষ বার্তা পেয়ে সারা দেশের গ্রাম ও থানাভিত্তিক সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বেঠক করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কোথাও কোথাও বৈঠক চলছে। সরকারের কৌশল বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে সেই বার্তা জেলা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশ গেছে থানা পর্যায়ে।  সংশ্লিষ্ট নাগরিক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দুষ্কৃৃতকারীদের শনাক্ত করতে বলা হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে ‘দুষ্কৃৃতকারীদের’ মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে। সূত্রমতে, ইতিমধ্যে বিরোধীদলীয় জোটের লক্ষাধিক নেতাকর্মীর তালিকা করেছে সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের সক্রিয়-নেতাকর্মীদের নাম। পাশাপাশি থানায় থানায় দায়ের করা বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামিদের জড়ানো হয়েছে। তারা যাতে কারাগার থেকে বের হতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ ও নাগরিক কমিটির লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোথাও দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কেউ  জামিন নিয়ে ছাড়া পেলেও ফের পাকড়ারও করতে বলা হয়েছে। সূত্রমতে, পুলিশের এসব কৌশল সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে র‌্যাব-পুলিশ যাতে মনোবল হারিয়ে না ফেলে কিংবা পিছু না হটে সে কারণে এলাকাভিত্তিক নাগরিক কমিটির লোকজনকে তাদের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য-বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা হয়। তথ্য সমন্বয়ের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন ও  যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে  আরও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। এ সংক্রান্তে সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা একাধিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওইসব প্রতিবেদনের আলোকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ফাঁড়ি, থানা ও ব্যারাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্রমতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন নিষ্ক্রিয় করতে টেকনোবেইজড কলাকৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোবাইল ফোনে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের কথোপকথনরে সূত্র ধরে আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করায় জমায়েত পরিকল্পনা ভণ্ডুল করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ই মার্চ পর্যন্ত জামায়াত দেশব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডব চালায়। তাদের পরিকল্পিত হামলা ও নাশকতার শিকার হয়েছে থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, ট্রেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সরকারি দপ্তর, অফিস-আদালত, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিভিন্ন জেলার অসংখ্য সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘরে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলা, বিভিন্ন সেতুর পাটাতন খুলে নেয়া, গাছ কেটে ফেলে ও রাস্তা কেটে সড়ক অবরোধ, নির্বিচারে যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের নিমিত্তে সশস্ত্র জামায়াত-শিবির কর্মীদের নিবৃত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালালে তারা পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে গাইবান্ধায় ৪ জন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ১ জন, ঝিনাইদহে ১ জন, পীরগাছায় একজনসহ মোট ৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৬ জন পুলিশ সদস্য। এর বাইরে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে আরও ৬৮ জন নিহতের কথা বলা হয়েছে। তবে তারা কাদের হাতে নিহত হয়েছেন সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। এছাড়া এসব ঘটনায় গত ৩রা মার্চ পর্যন্ত  সারা দেশে ২৩৫টি মামলা করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে বিরোধী দলের কয়েক লাখ নেতাকর্মীকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট