Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রণব হতে পারতেন প্রধান শিরোনাম

প্রণব মুখার্জি হতে পারতেন বাংলাদেশী মিডিয়ার প্রধান শিরোনাম। এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা হলো না। হয়ে গেল বাংলাদেশী রাজনীতির অসুস্থ প্রতিযোগিতা, লাশের খবর। প্রণব মুখার্জিকে শুধু ভারতের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখলে চলবে না। তিনি বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন তাই তার কদর নেই দিল্লির রাজনীতিতে তা কি ভাবা যায়? প্রটোকল হয়তো তাকে আটকে রাখছে। এখনও কংগ্রেসের নেপথ্যের কারিগর তিনি। ঢাকায় এলেন, সংবর্ধনা পেলেন রাজকীয়। সম্মাননা তো ছিলই। কিন্তু কোথায় যেন ঘাটতি। বাংলাদেশের রাজনীতিকরা সম্মিলিতভাবে তাকে সম্মান জানাতে পারলেন না। প্রণব বাবু তার এক ঘনিষ্ঠজনের কাছে বলেছেন, ঢাকায় গেলাম এবারও সবাইকে নিয়ে কোন অনুষ্ঠান করতে পারলো না। সরকার প্রধানকে ইঙ্গিত করেই তা তিনি বলেছেন বলে ধারণা করা যায়। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বিমানে যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ভারতীয় সাংবাদিকরা, তখন তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। খোলাখুলি কোন মন্তব্য করেননি। তার অবস্থান থেকে কোন মন্তব্য করার কথাও নয়। সংসদে ভাষণ দেবেন এমনটাই লেখালেখি হয়েছিল মিডিয়ায়। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। যে সংসদে বিরোধীরা নেই, সে সংসদে যেতে প্রণব বাবু নিজেই আগ্রহ দেখাননি। বিরোধী নেত্রী বেগম জিয়া নিরাপত্তার অজুহাতে নির্ধারিত সাক্ষাৎসূচি বাতিল করলেন। এটা শোভন হয়নি। সরকার এখানে এগিয়ে আসতে পারতো। বলতে পারতো ঠিক আছে সরকার নিরাপত্তা দেবে। তখন যদি বিরোধী নেত্রী না আসতেন তখন দেখা যেতো খালেদা জিয়া কি করেন। সরকার এই সুযোগ নিলো না। বাংলাদেশী রাজনীতির ধারা অনুযায়ী এটা আশা করাও যায় না। এটা করলে রাজনীতি করবে কে? সবকিছু নিয়েই এদেশে রাজনীতি। খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলতে পারতেন হরতাল চলছে, এর মধ্যে যাই কি করে? তবুও দেশের স্বার্থে যাচ্ছি দেখা করতে। তাতেও একটা কিছু বলা যেতো। বিএনপি নেতারা বলেন, প্রণব বাবু যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা এসেছিলেন তখনও দেখা করেননি বিরোধী নেত্রীর সঙ্গে। অর্থমন্ত্রী হয়ে আসার পর মোলাকাত হয়েছিল। এটা কোন যুক্তি নয়। তাছাড়া কেউ কেউ বলেন, শাহবাগের প্রতি ভারতের একতরফা সমর্থন খালেদাকে বিচলিত করেছে। ১৮ দলীয় জোট শরিকদের প্রতি সরকারের আচরণ তথা পাইকারিভাবে মানুষ হত্যার কারণে খালেদা জিয়া বিক্ষুব্ধ হতেই পারেন। তাই বলে আচমকা সাক্ষাৎসূচি বাতিল করতে গেলেন কেন? তিনি তো ক্ষমতায় ছিলেন। আবারও হয়তো ক্ষমতায় আসবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা জরুরি। এটা বোধ করি তিনি মানবেন। ভারতীয় মিডিয়ার উচ্ছ্বাস অবশ্য বাংলাদেশে অন্য এক বার্তা দিয়ে চলেছে। সরকার যেমন এ থেকে ফায়দা তুলতে চান, তেমনি ভারত মনে করে এটাই সুযোগ বাংলাদেশকে ’৭১-এর ধারায় ফিরিয়ে আনার। এর পেছনে তাদের কি যুক্তি রয়েছে জানি না। তবে হিসাবটা একটু ভুল আখেরে তা প্রমাণিত হবে। কারণ, বাংলাদেশ তো অনেকখানি বদলে গেছে ইতোমধ্যেই। আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তার পাল্লার সঙ্গে সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেরও মূল্যায়ন হয় এদেশে। সম্ভবত এ কারণেই টাইমস অব ইন্ডিয়া খালেদা-প্রণব বৈঠক বাতিলের পরপরই লিখেছে- ভারতকে তার নীতির পরিবর্তন করতে হবে। বাড়াতে হবে খালেদার সঙ্গে যোগাযোগ। সরকারের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে শাহবাগ কতটা ভূমিকা রেখেছে বা রাখবে তা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মিডিয়ার একপেশে ভূমিকা দেখে যদি কেউ মূল্যায়ন করেন তাহলে ভুল করবেন। গ্রামগঞ্জের চিত্র ঠিক বিপরীত। আগে শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন হতো। এবার গ্রামেও ছড়িয়েছে। মানুষ কষ্টে আছে। দিনের পর দিন হরতালে মানুষের মন বিষিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে বৃষ্টির মতো গোলাগুলি হচ্ছে তা দেখে কেউ কেউ ভাবতে শুরু করছেন এটা তো দেখি আরেক সিরিয়া হতে যাচ্ছে। লেবানন রণাঙ্গনের কথা অনেকেই ভুলতে বসেছেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ৬৭ জন মানুষের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন কি বলা যায়? এরা কি রাষ্ট্রের নাগরিক নন? জামায়াত শিবির হলে গুলি করে মারা যায়? কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না। রাষ্ট্র বা সরকার কি এভাবে দায়িত্ব এড়াতে পারে? এরকম চললে একদিন আমাদের গায়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা লেগে যাবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কেউ কেউ হয়তো চাচ্ছেনও তাই। শেখ হাসিনার সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক ছিল। তিন-চতুর্থাংশ মেজরিটি নিয়ে আসা সরকারের কাছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তো থাকবেই। যদিও দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে আসা সরকারগুলো বাংলাদেশে ভাল কিছু দিতে পারেনি। বরং গণতান্ত্রিক শাসনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা কিন্তু তাই। খালেদার প্রথম জমানার সরকার এতটা খারাপ ছিল না। ডজন ডজন হরতাল-অবরোধের মধ্যেও স্থির ছিল সরকার। দুর্নীতি ছিল কম। শেখ হাসিনার প্রথম সরকার অনেক ভাল ছিল, তার সমালোচকরাও একবাক্যে তা কবুল করেন। যেই তিনি তিন-চতুর্থাংশ সমর্থন নিয়ে এলেন তখনই যেন সব গোলমাল হতে থাকলো। আদালত-নির্ভর হয়ে গেল সরকার। বিরোধীদের ওপর এক ধরনের প্রতিশোধ নিতে চাইলেন। খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করলেন। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দিলেন। আদালতের ওপর ছেড়ে দিলেন রাজনীতির ভবিষ্যৎ। এটা যে মস্ত বড় ভুল তা ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে বাইরের দুনিয়ার কাছে নয়া এক পরিচিতি দিয়েছিল। এখন বাংলাদেশ হাঁটছে সেসব দেশের দিকে, যেসব দেশে খারাপ নির্বাচন হয়। যুদ্ধাপরাধ একটি সর্বজনীন ইস্যু। সবাইকে নিয়ে এগোলে ভাল হতো। তাহলে আজ দেশের যে অবস্থা তৈরি হচ্ছে তা থেকে জনগণ মুক্তি পেতো। জনগণের কথা কে ভাবে? ৪২ বছর আগের ঘটনার বিচার করার আগে অবশ্যই স্পর্শকাতর এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির অঙ্ক মাথায় রেখে করলে ভাল হতো। দেশটা ঐক্যবদ্ধ না হলে বিচার যে কত ঝুঁকিপূর্ণ আমরা প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি। এখানেও মিডিয়া। তারা কালোকে সাদা বলেই যাচ্ছে। এর ফলে কি হচ্ছে? সত্য জানতে পারছে না সরকার। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, সরকার সত্য জানতে চায় কিনা? একটি ভুয়া ও আজগুবি গুজবে ৫০ হাজার মানুষ কেন রাস্তায় বের হয়ে গেল তা তলিয়ে দেখছেন না কেউ। নিকট অতীতেই আমরা দেখেছি তাহরির স্কোয়ারের বিপ্লব- সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইসলামী ব্রাদারহুডকে ক্ষমতায় নিয়ে এলো। আগের লেখায় লিখেছিলাম, বিএনপি ঘুমিয়ে ছিল, হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। তখন নড়েচড়ে বসলো ঠিকই। তবে নীতি ও কৌশল নির্ণয়ে পুরনো পথকেই বেছে নিলো- যে পথে সমাধান বিলম্বিত। মাঝপথে মজা লুটবে অন্যরা। শেখ হাসিনার সরকার এখনও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপিকে এক পাল্লায় মাপতে গিয়ে বিভাজনের রেখা আরও পোক্ত করে দিচ্ছে। এতে অন্য শক্তির অভ্যুদয়ের পথকে তারা দারুণভাবে উৎসাহিত করছে। উদার রাজনীতির ধারা দুর্বল হচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উস্কে দেয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ থেকে কারা লাভবান হবে? কোন তদন্ত না করেই বলে দেয়া হচ্ছে এর জন্য ওরা দায়ী। তদন্ত করে দেখতে অসুবিধা কোথায়- কারা এই ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত। মিডিয়া এখানে একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারতো। কিন্তু তা না করে বলা হচ্ছে, সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সময় কোথায়? এখন যুদ্ধে যাওয়ার সময়। এটা নাকি আদর্শের লড়াই। এই যদি হয় আদর্শের লড়াই তাহলে আমরা আমজনতা যাব কোথায়?

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট