Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পুলিশের নির্বিচারে গুলি

দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে পণ্ড হয়ে গেছে রাজধানীতে বিএনপির গতকালের বিক্ষোভ সমাবেশ। গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ অন্তত ১৫০ নেতাকর্মী। ৫ জন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসা একটি মিছিলে পুলিশের বাধাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন। এদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। ওদিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতও হরতাল ডেকেছে আজ।  রাতে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে আজকের হরতাল সফল করা নিয়ে আলোচনা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত বিকাল সাড়ে চারটায়। বিক্ষোভ সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। এ সময় হঠাৎ করেই বিজয়নগর মোড়ের স্কাউট ভবনের গলিতে একটি মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। মিছিল থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। এ সময় মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশও টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চ থেকে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও ঘটনার আকস্মিকতায় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। সমাবেশের বিজয়নগর মোড়ের দিকে থাকা কর্মীরা স্কাউট ভবনের দিয়ে এগিয়ে যায়। পুলিশও সমাবেশের দিকেই এগিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। বিএনপি কর্মীরা নয়াপল্টন জোনাকী হলের সামনে একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ বিক্ষোভ সমাবেশ মঞ্চ লক্ষ্য করে নির্বিচারে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তেই বিজয়নগর থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ। গুলিবিদ্ধ হন মঞ্চে থাকা দলের একাধিক সিনিয়র নেতা। আহতদের দ্রুত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বিকাল ৫টার দিকে ফের বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে ফকিরাপুল মোড়ে। জবাবে পুলিশ আর্মড এপিসির টহলদল ফকিরাপুল মোড়ে টিয়ার শেল ও শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। সাড়ে পাঁচটার দিকে বিজয়নগর মোড়ে ফের ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একটানা ৪৫ মিনিট চলে এ সংঘর্ষ। এতে টিয়ার শেলের গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকায়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলে এম্বুলেন্সে করে বিএনপি ও অঙ্গদলের গুলিবিদ্ধ নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালামকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ জানান, নজরুল ইসলাম খানের মাথা থেকে ১২টি ও পিঠ থেকে ৫০টি ও আবদুস সালামের শরীর থেকে অন্তত ২০টি ছররা গুলি বের করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। চোখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হরা হয়েছে পথচারী সেনা কল্যাণ সংস্থার এমডি’র পিওন হোসেন আলী তালুকদারকে। ঘটনার সময় তিনি নয়া পল্টন এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মুখে, বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরসেদ হোসেন মিঠুকে। মাথায় ও কানে গুলি লেগেছে মহাখালী স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ছাত্র জিয়াউল হাসানের, ঢাকা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জুয়েলের গুলি লেগেছে দুই পায়ে। বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র আলমগীর হোসেনের গুলি লেগেছে পিঠে ও বাম হাতে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা নিতে আসা ওই চার ছাত্রকেই গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সাংবাদিক আহত
নয়াপল্টনে সংঘর্ষে চার আলোকচিত্র সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের নাইম আহমেদ জুলহাস, নিউএজের আলী হোসেন মিন্টু, নয়া দিগন্তের নূর হোসেন বিপুল ও ইত্তেফাকের সাইফুল ইসলাম। আহতদের সবাই রাবার বুলেট ও ছররা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শিবিরের মিছিল ঠেকাতে
ব্যবস্থা: পুলিশ
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মেহেদী হাসান বলেন, আজকের এই ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নাশকতা সৃষ্টির জন্য পল্টন, শান্তিনগর ও এর আশপাশে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ওত পেতে ছিল। জামায়াতের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিএনপির নেতাদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে তারা নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটবে না। তিনি জানান, বিএনপির সভার শেষ দিকে শিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তাই পুলিশও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
সরকারের নির্দেশে গুলি হয়েছে সমাবেশে: নজরুল
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের নির্দেশে সরকারের বাহিনী বিএনপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। এটা অন্যায়, অগণতান্ত্রিক। আওয়ামী লীগ দেশে কাউকে রাজনীতি করতে দেবে না। তারা একবার আইন করে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিল, এখন দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে। তবে বাংলাদেশে তাদের সে আশা কখনও পূর্ণ হবে না। পুলিশের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল বিএনপির। সেখানে শিবির-জামায়াত মিছিল করতে আসবে কেন? পুলিশ মিথ্যাচার করছে।
সারাদেশে সকাল সন্ধ্যা
হরতাল: ফখরুল
এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। গতকাল বিকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ পণ্ড ও পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মীরা আহত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন ডাকে দলটি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ-র‌্যাবের আজকের হামলায় আমরা স্তম্ভিত, বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের কর্মসূচির ওপর এভাবে বর্বরোচিত নির্মম হামলা হতে পারে, তার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা নেই। তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে এ হামলায় অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী। তারা বিভিন্ন গলির ভেতর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ প্রায় দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, কয়েকদিনে সারাদেশে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র যুবলীগ, ছাত্রলীগের হত্যা, নির্যাতন, উৎপীড়ন, মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকে বুধবার (গতকাল) ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগরীতে দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বক্তব্য রাখার পর সভার শেষ পর্যায়ে আকস্মিকভাবে বিনা উস্কানিতে পুলিশ-র‌্যাব সমাবেশের ওপর উন্মত্তের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ-র‌্যাবের পাহারায় আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাও এ হামলায় অংশ নেয়। তারা বিভিন্ন গলি থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে ও বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। সমাবেশকে লক্ষ্য করে ফকিরাপুল মোড় ও নাইটিংগেলের মোড় দু’দিক থেকে পুলিশ আমর্ড কার থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সভার মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসে। এরই সঙ্গে পুলিশ-র‌্যাব বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অবিরাম টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় এক বিভীষিকাময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। মির্জা আলমগীর বলেন, এখনও গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে আছে। রণসজ্জায় সজ্জিত পুলিশ-র‌্যাব শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়ে সরকারের গণতন্ত্রের একটি নমুনা প্রদর্শন করলেন। আমরা প্রতিদিন আওয়ামী গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি প্রত্যক্ষ করছি। গণহত্যা, গুম, গুপ্তহত্যা, অপহরণ, বীভৎস নির্যাতন এবং মামলা হামলা নির্ভর এ সরকার। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের স্বার্থ ও তাদের জানমালের তোয়াক্কা করে না। তারা রাষ্ট্রকে এক ভয়ঙ্কর অত্যাচারের যন্ত্র বানিয়ে বিরোধী মতকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অত্যাচারের যাঁতাকলে প্রতিনিয়ত পিষ্ট করছে। এরা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। এরা ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত থাবায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সর্বব্যাপী দুর্নীতি, লুটপাট এবং দখলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হত্যা এদের নিত্যদিনের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন কঠিন ও চূড়ান্ত প্রতিরোধে এদের পতন ঘটানো ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় নেই। আর ফিরে দেখার কিছু নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন দেশের সর্বত্র নিশ্ছিদ্র ব্যারিকেড গড়ে তুলতে হবে। এ রক্তপিপাসু সরকারের আজকের নারকীয় তাণ্ডবের প্রতিবাদে আজ সারাদেশে বিএনপির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। সকাল থেকেই পুলিশ নাশকতার আশঙ্কা করছিল- পুলিশের এ বক্তব্যের ব্যাপারে মির্জা আলমগীর বলেন, আপনারাই উপস্থিত থেকে সবকিছু দেখেছেন। সকাল থেকে তাদের কাছে যদি নাশকতার তথ্য ছিল তাহলে তারা এটা বন্ধ করেননি কেন? সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর এমএ মান্নান, ডা. জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, মহিলা দলের সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শামীমুর রহমান শামীম, হাবিবুর রশীদ হাবিব, হেলেন জেরিন খান, রফিক শিকদার, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জোট নেতাদের সঙ্গে
বৈঠক খালেদার
চলমান পরিস্থিতিতে জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলীয় নেতা এই বৈঠক ডেকেছেন। উল্লেখ্য, গত ৫ই ফেব্রুয়ারি শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতসহ জোট নেতাদের এই প্রথম বৈঠক। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে খালেদা জিয়া জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই ১৮ দলীয় জোট ৬ই জানুয়ারি হরতাল ডাকে। এরপর ১৮ দলীয় জোটের কোন কর্মসূচি পালিত হয়নি। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েক দিন হরতাল করেছে। সে হরতালে সারা দেশে সাধারণ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে একদিন হরতাল করেছে বিএনপিও। গতকালের বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মর্তুজা, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে অংশ নেন।
হরতালে এলডিপির সমর্থন
রাজধানীর নয়া পল্টনে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় ডাকা আজকের হরতালে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে এলডিপি। গতকাল এক বিবৃতিতে এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম ও মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ এ সমর্থন জানান। তারা বলেন, এই ফ্যাসিবাদী সরকার বিরোধী দলের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে গণতন্ত্র বিনষ্ট ও বিরোধী দল শূন্য করার যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জনগণ তা কখনও মেনে নেবে না। তারা দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে হরতাল সফল করার আহ্বান জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট