Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
ঢাকা: আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সন্ধ্যায় দল দুটির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে এক প্রেস কনফারেন্সে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর ঘণ্টা খানেক পর এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান হরতালের ঘোষণা দেন।
বুধবার বিকেলে দল দুটির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার অভিযোগে এ হরতাল দেয়া হয়েছে।
‘পুলিশ-র্যাব ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার কর্তৃক সারাদেশে গণহত্যা, গ্রেফতার, মামলা ও হামলার প্রতিবাদে’ বিএনপি এবং ‘গণহত্যা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে’ জামায়াত সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির ডাক দেয়।
সরকারের উদ্যোগে হামলা: ফখরুল
প্রেস কনফারেন্সে ফখরুল বলেন, “সরকারের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ-র্যাবের সঙ্গে সরকারদলীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররাও হামলায় অংশ নিয়েছে। তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে।”
তিনি দাবি করেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
ফখরুল বলেন, “আমাদের এখন আর পেছানোর সুযোগ নেই। চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। সরকারের এই আচরণে আমরা স্তম্ভিত।”
সাংবাদিকরা এ সময় উল্লেখ করেন, পুলিশ বলেছে, ‘জামায়াত-শিবির নাশকতা করতে পারে, এজন্য বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে ফখরুল বলেন, “আপনারা দেখেছেন, আজ কী হয়েছে। তারা যদি আগে থেকেই তা জানত, তাহলে কেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়নি? তারা ব্যর্থ হয়েছে।”
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশস্থলের পাশে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই পুলিশ মারমুখী হয়ে গুলি চালাতে থাকে। পণ্ড হয়ে যায় বিক্ষোভ সমাবেশ। রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে পল্টন পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষ চলে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। স্প্লিন্টারে আহত হন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আরো বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ পাঁচ সাংবাদিক আহত হন।
রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে গুলিবর্ষণ: জামায়াত
জামায়াতের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বুধবারের গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে সারা দেশে বাধা দান ও মিছিলে ব্যাপকভাবে গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে’ বৃহস্পতিবার হরতাল দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ““ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ সারা দেশে সরকার ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে। পুলিশ গুলি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জনাব মুনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ দুই শতাধিক লোককে আহত ও দেড় শতাধিক লোককে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” এ ঘটনায় সরকারের ‘চরম দেউলিয়াপনাই’ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন পাখির মতো গুলি বর্ষণ করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা ও আহত করছে।”