Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদ মুলতুবি রেখে ১৪ দলের এমপিদের এলাকায় পাঠানোর পরামর্শ

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন জেলার তুলনায় রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্তই বলা যায়। বিভিন্ন জেলায় যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে তাতে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দলের এমপি ও নেতারা আগের মতো সক্রিয়ভাবে মাঠে নামছেন না বা নামতে পারছেন না। ঠিক এ পর্যায়ে নিজ নিজ এলাকায় ১৪ দলের এমপিদের পাঠানোর পরামর্শ দিল আওয়ামী পেশাজীবী নেতারা।
তাদের পরামর্শ হলো, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ মুলতুবি রেখে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হোক।
পেশাজীবী নেতারা বলেন, “চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সব বিভেদ ভুলে গিয়ে স্বাধীনতার সপক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জামায়াত-শিবির খেলা শুরু করেছে। আমাদের এখনই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে।”
মঙ্গলবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এ পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
তিনি বলেন, “দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। জনগণকে জামায়াতিদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন মানুষকে ভালোবাস, দেশকে ভালবাসো। আমরা সে আদর্শেই কাজ করে যাচ্ছি।”
সাজেদা বলেন, “জামায়াত যেন আর ছোবল মারতে না পারে সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনগণকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, দেশকে সাহায্য করতে হবে এবং দেশের সকল জনগণকে সাহায্য করতে হবে।” এসময় তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষ যেন রক্ষা পায় সেজন্য সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “পদ্মার ওপারে কোনো জামায়াতি চক্র নেই। যেখানে জামায়াতিদের চক্র আছে সেখানে সতর্ক হতে হবে।”
আওয়ামী লীগের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “বর্তমান সময়ের সার্বিক বিবেচনায় শিগগির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেস নোট দেয়া হবে। আমরা তাদেরকে বলেছি প্রেস নোট দেয়ার জন্য। যদিও আরো আগেই তাদের এটা করার দরকার ছিল।”
তিনি বলেন, “আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া জামায়াত শিবিরকে মাঠে নামিয়েছেন। তাদের দিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন করছেন। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনকে উসকে দিচ্ছেন।”
তিনি আরো বলেন, “খালেদা জিয়া যদি তাদেরকে উৎসাহিত না করতেন তাহলে দেশে এ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য খালেদা জিয়া দায়ী। জামায়াত সারা দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তার দায়ভার খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে।”
পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “অনেকে বলেন দেশ কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। আমি বলি ৪২ বছরের আর্বজনা পরিস্কার করতে যাচ্ছি। এতে একটু ধুলা উড়বে, একটু ভেঙ্গে পড়বে, কিছুটা রক্তপাত তো হবেই।”
তিনি বলেন, “জামায়াত-শিবিরের ভিত ভেঙে দিতে হবে। তাদের নির্মূল করতে হবে। সে প্রকিয়া চলছে।”
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “মনে করি না দেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অপারেশন করতে গেলে যেমন কিছু রক্তপাত হয়। এখন আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছি। তাতে একটু ঝড় তো উঠবেই। ১৪ দলের অবস্থান সঠিক রয়েছে। আরেকটু গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে।”
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গত ৪২ বছরে দেশে অর্থনৈতিকভাবে তারা অনেক শক্তিশালী হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। অনেকে বলে জামায়াত নিষিদ্ধ করলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। আমি বলবো তারাতো এখনই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর কী করবে সে চিন্তা না করে দ্রুত তাদেরকে দমন করার জন্য তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, “চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংসদদের এলাকায় অবস্থান করা উচিত। এজন্য সংসদ মুলতবি রাখা যেতে পারে।”
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত সভাপতি কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, “নিজেদের মধ্যে বিভেদ বারবার আমাদেরকে পরাজিত করছে। নিজেদের এ বিভেদ দূর করতে না পারলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা জয়লাভ করবে। তখন রাস্তা-ঘাটে আমাদেরকে গরু ছাগল যেভাবে ধরে ধরে জবাই করে সেভাবে জবাই করবে। যেকোনো মূল্যে বিভেদ ভুলে আমাদেরকে বিজয় অর্জন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ করে লাভ নেই। তাদেরকে নিষিদ্ধ করলে বিএনপিতে অথবা অন্যকোন ইসলামী দলে যোগ দেবে। তাই জামায়াতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে তাদের ভিত ভেঙে দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে তারা আর মাজা সোজা করে না দাড়াতে পারে।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর উপাচার্য অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত-শিবির নির্বাচন চায় না। ওরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে আবার ১/১১ সৃষ্টি করতে চায়। ওরা জানে নির্বাচনের মাধ্যমে কোনোদিনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”
এ সময় আরো বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি   প্রফেসর এম শাহাদাৎ উল্লাহ প্রমুখ।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট