Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হরতালের দ্বিতীয় দিনে বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে নিহত ৩

জামায়াতের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ওফাতপুরে বিজিবির গুলিতে আরিফ বিল্লাহ ও রুহুল আমিন নামে দুই সহোদর নিহত হন। এছাড়া সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে মাহফুজ (১৪) নামে একজন নিহত হয়েছে। তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার ফলিয়া গ্রামে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এলাকায় রেললাইন উপড়ে ফেলেছে হরতালকারীরা। যাত্রীবাহী বাস চলাচল কম হলেও রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার চলাচল ছিল স্বাভাবিক।
আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জামায়াতের ডাকা হরতালের সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ওফাপুর গ্রামে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাই নিহত হন। এতে আহত হন আরও চারজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলারোয়া-সরসকাটি সড়কে গাছ ফেলে জামায়াত-শিবিরি কর্মীরা অবরোধ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক থেকে গাছ সরাতে গেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা  সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আবার ওই এলাকায় গেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাদেরকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের  ঘেরাও করে ফেললে বিজিবি সদস্য তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে  কামারআলী গ্রামের আরিফ বিল্লাহ ও তার ভাই রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় আরও চারজন আহত হয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কলারোয়া গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে লাশ উদ্ধার করা যায়নি।
আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল ৮টার দিকে উল্লাপাড়া শহরের পূর্ব দেলুয়ায় পুলিশের সাথে পিকেটারদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে মাহফুজকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। সে উপজেলার পূর্ণিমাগাতি ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে এবং ফলিযা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিমান কুমার দাস বলেন, আহত অবস্থায় মাহফুজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে পরিবারের লোকেরা তাকে নিয়ে গেছে। মারা গেছে কি-না সঠিক জানা নেই।
আমাদের বরিশাল প্রতিনিধি জানান, আজ সকাল সোয়া ৬টার দিকে বরিশাল-বাবুগঞ্জ সড়কের নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ১৪ জন। সংঘর্ষের সময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ব্যবহৃত ১টি গাড়ী ভাংচুর এবং আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া দুটি পালসার মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বিমান বন্দর থানার কনস্টেবল খোকন, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের ক্যামেরা পারসন জাকির হোসেন সোহেল ও মাইটিভি’র ক্যামেরাম্যান বশির, ছাত্রলীগ কর্মী সোলায়মান এবং শিবিরের ১০ জন আহত হয়। ঘটনার পরপরই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এসময় তারা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে  পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৫ পিকেটারকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে নওগাঁ শহরের তুলশিগঙ্গা ব্রিজ এলাকায় সড়কের ওপর টায়ার জালিয়ে নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে জামায়াত-শিবির। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের তাজের মোড়ে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এসময় তারা নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর প্রতিবাদে রবি ও সোমবার টানা দুদিন হরতালের ডাক দেয় জামায়াত। হরতালের প্রথমদিন গতকাল দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট