Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বিমর্ষ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দৈনিক পত্রিকাও পড়ছেন না। সারাক্ষণ চিন্তা করেন, তসবিহ জপেন। আদালতে ফাঁসির রায় হওয়ার আগেও তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, সে সময় পত্রিকা পড়তেন, আচরণও অনেকটা স্বাভাবিক ছিল, নিরাপত্তা প্রহরীদের নাগালে পেলে আলাপ জমাতেন, কথা বলতেন। কিন্তু বদলে গেছেন ২৮শে ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ হওয়ার পর থেকে। মামলার রায়ের দিন থেকে তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না, নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গেও কথা বলছেন না।
তিনি খুবই বিমর্ষ, চিন্তিত, সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, তসবিহ জপছেন। চুল-দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করলেও এখন সেটাও করছেন না।
কোন আত্মীয়-স্বজনও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, পরিবারের কেউ আসেন নি জেলগেটে, সাক্ষাতের অনুমতিও চাননি। কয়েদির পোশাক পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ ফুট বাই ৮ ফুট কনডেম সেলে বসবাস করছেন তিনি। জেল কোডের বিধান অনুসারে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের কোন কাজ দেয়া হয় না, সে কারণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কোন কাজ দেয়া হয়নি। জেলের বাইরে থেকে তার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মধ্যে ব্রাশ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান নেয়ার অনুমতি আছে সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেল গেটে তার নামে টাকাও জমা আছে। সূত্রমতে মামলার রায়ের পর তিনি নিত্য ব্যবহার্য ওই সব দ্রব্যের কিছু নেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ২৩ জন ফাঁসির আসামি। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৫ জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের খাবার দেয়া হয় অন্যান্য সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মতোই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও সে ভাবেই খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খাবার দেয়া হয় চিকিৎসকের পরীক্ষার পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে তিন বেলা ১২ ছটাক চাল ও আটা। সকালে দেয়া হয় আটার রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত। প্রতিদিন ডাল এক বেলা, সবজি দুই বেলা, যেদিন দুপুরে মাছ সেদিন রাতে দেয়া হয় মাংস আবার দুপুরে মাংস দেয়া হলে রাতে মাছ। তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য বাইরের কোন খাবার দেয়ার অনুমতি নেই। জেলের খাবারই তাকে খেতে হয়। সূত্রমতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সব দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ করা হয় ওই সব পত্রিকার মধ্য থেকে যে কোন একটি পত্রিকা নিজের টাকায় পড়তে পারবেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীই আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গোলাম আযম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ১-এ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ২-তে আছেন জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট