Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গুলিতে নিহত ২৪

জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনেই ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে সারা দেশে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ছয় জেলায় এক পুলিশ সদস্যসহ মারা গেছেন অন্তত ২৪ জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত আরও অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বগুড়ায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ছাড়াও হরতালকারীরা হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সরকারি দলীয় নেতাদের বাড়িতে। গতকাল রাত পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দিনভর সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর জেলার শাহজাহানপুর থানার নিরাপত্তায় দুই প্লাটুন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সন্ধ্যায় সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়। পুরো জেলার পরিস্থিতি ছিল থমথমে। জয়পুরহাটে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়। রাজশাহীতে মারা যান ৪ জন। এছাড়া ঝিনাইদহ, গাজীপুর, সাতক্ষীরায় তিন জন মারা যান। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হরতালকারীরা রেললাইন উপড়ে ফেলায় কুমিল্লা নোয়াখালী রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সাতক্ষীরায় মহাসড়ক কেটে রাস্তা বিচ্ছিন্ন করে দেয় হরতালকারীরা। নতুন করে হামলা সংঘর্ষ হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি জেলায়।
বগুড়ায় গুলিতে নিহত ১০
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, হরতাল চলাকালে বগুড়ায় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন, বাণিজ্য মেলা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মহিলা ও বিএনপির কর্মীরাও অংশ নেন। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় দিনভর। হরতালকারীদের প্রতিরোধ করতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গুলি চালালে মহিলাসহ ১০ জন মারা যান। এছাড়া গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর ৫টায় ফজর নামাজ শেষে একযোগে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা গোটা শহরে মিছিল শুরু করে। একপর্যায়ে ইয়াকুবিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের মোড় থেকে স্টেশন রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট সাতমাথার দিকে এগোতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এ সময় মিছিলকারীরা ইয়াকুবিয়া মোড়ের এসএ পরিবহন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, এটিএন বাংলা অফিস ও এটিএন শোরুমসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ গুলি চালালে টিটু (২২) ও আলমগীর (২৫) ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনার পরেই সকাল ৭টায় শহরের পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। শহরের জয়পুরপাড়ায় অপর একটি মিছিল বের করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বাদল (৩৭) নামের ১জন মারা যান। পরে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়িতে হরতালকারীরা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন দুলু মিয়া (৪০) ও সাবু মিয়া (৪৫)। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধরা শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একে একে কইগাড়ি ফাঁড়ি, নারুলী ফাঁড়ি, ফুলবাড়ী ফাঁড়িতে হামলা চালায়। একই সঙ্গে শাজাহানপুর থানায় হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে তাদের। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন মহিলাকর্মীরা। সংর্ঘষে মারা যান আরজিনা (৪৫), মরজিনা (৪০), আবদুর রহমান (৬০), আছিয়া বেগম (৪৫)। আহত হন শাজাহানপুর থানার ওসি মাহমুদুল আলম। পরে ওই থানার নিরাপত্তায় আসেন সেনা সদস্যরা। বিকালে সেনা সদস্যরা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যায়। শাজাহানপুরে থানাতে হামলার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে হামলা চালায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এছাড়া নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ ও নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে হরতালকারীরা। তারা নির্বাহী কর্মকর্তার ও উপজেলা চেয়ারম্যানে গাড়ি ভাঙচুর করে। দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দীনের বাসায় হামলা চালায়। এ সময় তারা বাইরে থাকা একটি জিপ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। অপর দিকে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের বাসায় হামলা চালানো হয়।  হামলায় দৈনিক করতোয়ার ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতালকারীরা বগুড়া রেল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে। তারা সাবগ্রাম ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে রেল লাইন তুলে ফেলেছেন। এ কারণে লালমনিরহাট-বোনারপাড়া ও সান্তাহারের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেখা গেছে, হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও ইট ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস যেন বের হতে না পারে সেজন্য সকাল থেকেই জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের গেট বন্ধ করে দিয়ে সেখানে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অপর ১৩ জন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
গোদাগাড়ীতে নারী-শিশুসসহ
নিহত ৫
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী/রাবি প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় শতাধিক আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোদাগাড়ীর রত্না সিনেমা হল মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোদাগাড়ীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। নিহতরা হলেন- মহিষালহাট জামে মসজিদের ইমাম মুজাহীদ (৪৮), ইসমাইল হোসেন (১৮), রফিকুল ইসলাম (১৩), আলিম (১৮) এবং অজ্ঞাত পরিচয় (২৭) এক নারী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবির পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ ও বিজিবিও পাল্টা রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও প্রায় ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মহিশালবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মুজাহিদ মারা যান। অন্যরা হাসপাতালের ভর্তি করার পর মারা যান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর ১২টা থেকে উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। এদিকে, রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর, শালবাগানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও বিজিবি ওই এলাকায় যৌথ তল্লাশি চালায়। এছাড়া নগরীর সিটি হাট এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে এবং একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। পরে দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম জানান, হরতাল চলাকালে মিছিল নিয়ে নাশকতা চালায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জয়পুরহাটে নিহত ৬
জয়পুরহাট/পাঁচবিবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আর্মড ব্যাটালিয়নের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে ৬ হরতাল সমর্থক নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৩৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জয়পুরহাট শহরে ও পাঁচবিবি সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে হরতালের সমর্থনে কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী ও নারী-পুরুষ জয়পুরহাট শহরের পল্লী বিদ্যুৎ, হিচমি এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আর্মস ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বাধা দেয়। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পাঁচবিবি উপজেলার রহমতপুর গ্রামের মজনু (৩০) মারা যান। অন্যদিকে পাঁচবিবিতে পুলিশের হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মারা যান বড় মানিক গ্রামের হাসিব (৫০) ও শালাইপুর গ্রামের আবদুল হাকিম (৩২)। এ সময় অন্তত ২০ জনের মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ও পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জয়পুরহাট হাসপাতালে নাসির (১৬) নামে এক শিবিরকর্মী মারা যান। পাঁচবিবির মহিপুর হাসপাতালে মারা যান কাশরা গ্রামের মজিদুল ইসলাম (২০) ও আয়মারসুলপুরের আবদুল হাকিম (৩২)।
হরিণাকুণ্ডুতে হামলায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের কর্মীদের সংঘর্ষে ওমর ফারুক (৩৮) নামে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১০ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন। নিহত কনস্টেবল ওমর ফারুকের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জে। তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সনাতনপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। আহতদের মধ্যে এএসআই রফিকুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক করম আলী, কনস্টেবল ফারুক হোসেন, কনস্টেবল আকবর শেখ ও কনস্টেবল বায়েজিদসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হরিণাকুণ্ডু শহরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়নে করা হয়েছে। হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, দুপুর ১২টার দিকে সহস্রাধিক জামায়াত-শিবিরকর্মী লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে উপজেলা পরিষদে হামলা চালায়। এ সময় ১৫ জন পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হলে জামায়াত-শিবির তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকে ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। তাদের হামলায় ১০ জন পুলিশ আহত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের পেছনে কনস্টেবল ওমর ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উপজেলা প্রকৌশল অফিস, মৎস্য অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিস, বিআরডিবি আফিসসহ বিভিন্ন অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে বিকালে ঝিনাইদহ শহরে আওয়ামী লীগ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ওই মিছিল থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় বাসার আসবাবপত্র তছনছ করে আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমান নিন্দা জানিয়েছেন।
জামায়াত-শিবিরের মহিলা কর্মীদের লাঠি মিছিল: অপরদিকে ঝিনাইদহে লাঠি মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবিরের মহিলা নেতাকর্মীরা। দুপুরে ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের বিষখালী বাজারে আশপাশের ১০টি গ্রাম থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হয়। পরে তারা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল বের করে। সকাল থেকে তারা ঝিনাইদহ-যশোর সড়ক অবরোধ করে দেন।
সাতক্ষীরায় নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ৩
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা শহরতলীর রইচপুর গ্রামে বিজিবির সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩ জন বিজিবি সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বেলা ১১টায় রইচপুর এলাকায় পিকেটারদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ১৫-১৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে রইচপুর এলাকার মফেজউদ্দীনের ছেলে মাহবুবর রহমান (৩০) নিহত হন। হামলায় ৩ জন বিজিবি সদস্য আহতসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় নাজির হোসেন (৩০), সোহাগ (১২) ও ইছানুর আলী (৪৫)। এদিকে, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় হরতালকারীরা।
শ্রীপুরে ট্রাক চাপায় উপজেলা
শিবির নেতা নিহত
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, শ্রীপুরের জৈনা বাজারে পিকেটিং করার সময় শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক (২৭) ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ছফির উদ্দিনের ছেলে। ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজারে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রীপুর উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক আনিসুর রহমান তার পদবি ও মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোর ৬টার দিকে মহাসড়কের জৈনা বাজারে পিকেটিং করার সময় একটি মালবাহী ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার সহকর্মীরা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট