Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লাঠি নিয়ে হরতাল প্রতিহতের ডাক

লাঠি নিয়ে হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল বিকালে শাহবাগ চত্বরের সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন ছাত্রনেতারা। আহ্বান জানান সামপ্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের রাজপথে প্রতিরোধ করার। এছাড়া আজ সকাল থেকেই সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার। সারা দেশের বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোকে তা যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানান। সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
বিকাল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়।  মূল চত্বর থেকে একটু দক্ষিণ দিকে সরিয়ে ট্রাকে সমাবেশ মঞ্চ তৈরি করা হয়। জুমার নামাজের পর থেকেই শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন জড়ো হতে থাকেন। আগের দিনের দেশব্যাপী সহিংস পরিস্থিতি ও কঠোর নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য সমাবেশে মতো এত লোকসমাগম হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। স্লোগান আর প্রতিবাদী গানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ায় সবার মুখেই ছিল আনন্দের ঝিলিক। অনেকেই এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এদিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে স্থাপিত মিডিয়া সেলে চলছে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। নানা বয়সের মানুষ গণস্বাক্ষর করছেন। সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কয়েক শ’ র‌্যাব, পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সতর্ক নজরদারি করেন। গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান বলেন, গত ৫ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা ট্রাইব্যুনালের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। ফলে গতকাল এক ঐতিহাসিক রায় পেয়েছি আমরা। রাজাকার সাঈদীর যে ফাঁসির রায় হয়েছে তা ১৬ কোটি মানুষের রায়। গণজাগরণ মঞ্চ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আমাদেরকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার জামায়াত-শিবির সারা দেশে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে জামায়াত-শিবিরের চেহারা। তারা পুলিশ বাহিনী ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। হিন্দু ভাইদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। সারা দেশের মানুষের প্রতি জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. ইমরান বলেন, ৭১ সালে আমাদের পূর্বসূরিরা পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছিল। আমরা তাদের পরাজিত করবো। বাংলাদেশের একটি মাটি কণাও যদি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা রক্তাক্ত করতে চায় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ছেড়ে দেবে না। জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিপথগামী তরুণদের রাজপথে নামাচ্ছে। আপনারা নিজেদের শুধরে নিন। এই রাজাকাররা আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের এই অপশক্তিকে দমন করুন। এই সামপ্রদায়িক অপশক্তি ৭১ সালে যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল আজকেও তারা সেভাবে দেশব্যাপী গণহত্যা চালাচ্ছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ রাস্তায় চার ফুট হাঁটলে জামায়াত-শিবির পালানোর পথ পাবে না। কিন্তু আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেবো না। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এই জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করবে। ডা. ইমরান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মাথা নত করতে শিখে নাই। আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। এই আন্দোলন শেষ না করে আমরা ঘরে ফিরবো না। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন দিয়ে আসছিল। আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম তাদের পাশে না দাঁড়ানোর। কিন্তু তারা মঙ্গলবার হরতাল দিয়ে আবারও জামায়াত-শিবিরকে সমর্থন করেছে। আমরা রাজপথে যুদ্ধাপরাধীদের হরতাল প্রতিহত করবো। এরপর তিনি দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজ সকাল থেকে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এবং সকাল ১১টা-১২টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ছাত্রনেতারা যা বললেন: ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, একজন জাতীয় নেতা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে প্রেম প্রেম খেলছেন। তিনি বলেছেন, সরকার গণহত্যা শুরু করেছে। আমি তাকে বলতে চাই, আপনার উস্কানিতেই জামায়াত-শিবির এই তাণ্ডব চালিয়েছে। আপনাদের ছাড়বে না। মঙ্গলবার হরতাল ডাকায় বিএনপিকে ধিক্কার জানিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে মরণ খেলায় নামবেন না। তাহলে তরুণ সমাজ আপনাদের ছাড়বে না। হরতাল প্রতিরোধে সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি। জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফসির বলেন, হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা রাজপথে মিছিল বের করলে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেবেন। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, জামায়াত-শিবির সামপ্রদায়িক উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করছে। রাজপথে জামায়াত-শিবিরের হরতাল প্রতিহত করতে বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। পুলিশের সঙ্গে আপনারাও হরতাল প্রতিহত করবেন। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আমরা তা বক্তব্যকে ঘৃণা জানাই। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির হরতালে নাশকতা সৃষ্টি করতে পাকিস্তান থেকে লস্কর-ই-তৈয়্যেবার জঙ্গিদের ভাড়া করে এনেছে। আপনারা এখন থেকে জামায়াত-শিবিরের হরতাল প্রতিহত করতে গজারি লাঠি নিয়ে আসবেন। সমাবেশে ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ মিঠু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মইন, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও ছাত্র সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান খান বক্তব্য দেন।
কঠোর নিরাপত্তা: সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উত্তরদিকে রূপসী বাংলার সিগন্যাল পশ্চিমদিকে কাঁটাবন, দক্ষিণদিকে চারুকলা এবং পূর্বদিকে শিশুপার্কের মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ফটকেই বসানো হয় আর্চওয়ে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ব্যক্তিকেই মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক শ’ র‌্যাব, পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজরদারি করেন। এছাড়া গণজাগরণ সমাবেশের চারপাশে বসানো হয় গোপন ক্যামেরা। – See more at: http://mzamin.com/details.php?nid=NDQ2ODU=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==#sthash.tklPPno5.dpuf

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট