Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গণহত্যা বন্ধ করুন, পরিণাম হবে ভয়াবহ

সরকারের দুর্নীতি ও গণহত্যার প্রতিবাদে আগামী ৫ই মার্চ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল ডেকেছে বিএনপি। একই ঘটনায় সারা দেশে আজ প্রতিবাদ মিছিলও করবে দলটি। গতকাল বিকালে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, এ মুহূর্তে গণহত্যা বন্ধ করুন। আমি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। গণহত্যার দায়ে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, আমরা অনতিবিলম্বে এ রক্তপিপাসু খুনি সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। যুদ্ধাপরাধ বিচারে শাহবাগের তরুণ ও সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। প্রশ্নবিদ্ধ কোন বিচার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভক্তির দিকেই ঠেলে দেবে। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ঐক্য ও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশ আরও ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। তাই সব ধর্মমতের এবং পাহাড় ও সমতলবাসী প্রতিটি গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতি আমার আহ্বান, দল-মত-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সকলে মিলে  আসুন দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই। আসুন, ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে রক্ষা করি। উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, যে কোন মূল্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার জন্য। আমি দেশবাসীকে এ সঙ্কটের মুহূর্তে রাজপথে নেমে আসার ডাক দিচ্ছি। নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে জনগণকে সোচ্চার হবার আহ্বান এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছি।
আমি স্তম্ভিত, আমি ক্ষুব্ধ: বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া বলেন, আমি স্তম্ভিত। আমি ক্ষুব্ধ। আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবার কোন ভাষা আমার নেই। দেশে আবার চলছে পৈশাচিক গণহত্যা। পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা চলছে। গণহত্যার পৈশাচিক তাণ্ডবে মেতে উঠেছে সরকার। ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় রক্ত ঝরছে, প্রাণ যাচ্ছে দেশের শান্তিপ্রিয় নিরস্ত্র নাগরিকদের। নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর থেকে কুলবধূরাও রেহাই পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, কোন ভিনদেশী হানাদারেরা যেন বাংলাদেশের মানুষের উপর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। খালেদা জিয়া বলেন, আজ ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এবং একই সময়ে সারা দেশে মহানগর ও জেলা সদরগুলোতে বের হবে প্রতিবাদ মিছিল। সরকারি সন্ত্রাস ও গণহত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এইসব মিছিলে আমি সকলকে শরীক হবার আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী ৫ই মার্চ সর্বাত্মক হরতাল পালনের জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, একটি সরকার নিজের দেশের নাগরিকদের উপর এমন গণহত্যা চালাতে পারে তা আমাদের কল্পনারও অতীত। এ ধরনের গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই আমরা ১৯৭১ সালে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছিলাম। সেই স্বাধীন দেশে আবার কোন অজুহাতে কখনও কোন সরকার গণহত্যার পথ বেছে নেবে তা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমি এই মুহূর্তে এ গণহত্যা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।
গণহত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না: বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনীসহ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় যে অস্ত্র কেনা হয়, সেই অস্ত্র নির্বিচারে জনগণের উপর ব্যবহার করবেন না। আপনাদের কর্তব্য, জনগণের জীবন রক্ষা, নির্বিচারে জীবন কেড়ে নেয়া নয়। একটি গণবিচ্ছিন্ন ব্যর্থ সরকারের অন্যায় হুকুমে আপনারা গণহত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। জনগণের মৌলিক মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, গত কয়েক দিনের ভয়াবহ সংঘাতে যারা জীবন দিয়েছেন, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা ও স্বজনদের সমবেদনা জানাচ্ছি। এসব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছি। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সরকার সৃষ্ট নৈরাজ্যের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
গোটা জাতিকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে: বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশ আজ এক ভয়াবহ সঙ্কটে। এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা স্বাধীনতার পর আর কখনও সৃষ্টি হয়নি। গোটা জাতিকে আজ বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম পবিত্র ইসলাম ও মহান স্বাধীনতাকে আজ পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতাপ্রিয় তেমনি ধর্মপরায়ণ। ধর্ম ও স্বাধীনতা কোনটির উপর আঘাতই তারা সহ্য করে না। ইসলাম ও স্বাধীনতায় কোন বিরোধও নেই। অথচ একটি কুচক্রী মহল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের নামে পবিত্র ইসলাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে নোংরা কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি দারুণভাবে আঘাত হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয়- ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন এ কুৎসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি তুলেছেন তখন সরকার তাদের উপর চালিয়েছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। শুধু তাই নয়, এসব ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা মসজিদে ঢুকে মুসল্লি, খতিব ও ইমামদের হেনস্তা করেছে। প্রতিবাদ মিছিল থেকে কিশোর-তরুণদের ধরে নিয়ে তাদের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে। নিজগৃহে গৃহবধূকে পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সরকার হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে: বিরোধী নেতা বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারি দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব হত্যাকাণ্ডে তাদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একটি হত্যার ঘটনারও কোন তদন্ত, প্রতিকার বা বিচারের উদ্যোগ নেয়নি সরকার। অন্যদিকে একটি গোষ্ঠীকে সরকার উস্কানিমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটনে প্রতিনিয়ত আস্কারা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। জাতীয় জীবনে বিভেদ-বিভাজনকে উস্কে দিচ্ছে। স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে সম্মানিত নাগরিকদের নাম ধরে হুমকি দিচ্ছে। সরকার-বিরোধী সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে। নির্যাতিত সাহসী সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের ধরে ধরে জবাই করার আওয়াজ তুলছে। বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরে উৎসাহিত করছে। এসব তৎপরতার মাধ্যমে আমাদের জনজীবনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অর্থনীতিকে যারা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার তাদের বাধা দেয়ার পরিবর্তে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা তাদের কাছে গিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থন যোগাচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হবে: খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এখানে রাষ্ট্রীয় ও সরকারি নিবর্তনে নিগৃহীত কোন নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও এ কথা সমভাবে প্রযোজ্য। আমরা বারবার পরিষ্কারভাবে বলেছি, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার আমরাও চাই। সে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ এবং দেশী ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে। আমরা বিচারের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পক্ষপাতী নই। দেশবাসী জানে, এ বিচার প্রক্রিয়া, ট্রাইব্যুনাল ও আইন নিয়ে শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। সে কারণে বার বার সরকারকে সতর্ক করে বলেছি, প্রশ্নবিদ্ধ কোন বিচার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভক্তির দিকেই ঠেলে দিবে। কাজেই এ ব্যাপারে একটি জাতীয় ঐক্যমত গঠন খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার আমাদের কথায় কান দেয়নি। কারও সঙ্গে কোন আলাপ-আলোচনাও করেনি। খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, যারা বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দূর করার কথা বলেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেছে, তাদের বিচার-বিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিরোধী নেতা বলেন, এ বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচারক নিয়োগ, প্রসিকিউশন গঠন, তদন্ত পরিচালনা ও আইনজীবী নিয়োগ সবকিছুই করেছে সরকার। অথচ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়, সরকার তার সঙ্গেও একাত্মতা ঘোষণা করে। শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রতিটি অভিযুক্তকে ফাঁসি দেয়ার যে দাবি জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শুধু সমর্থনই ব্যক্ত করেননি বরং ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের প্রতি বিক্ষোভকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরণের ঘটনা নজিরবিহীন। এসব ঘটনার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের সর্বশেষ আশাটুকুও সম্পূর্ণ তিরোহিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের কোন বিচারকের পক্ষেই স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা বা রায় দেয়া সম্ভব নয়। তাই এই ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।
ভয়াবহ পরিস্থিতির দায় সরকারের: বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- সরকার বিচার প্রক্রিয়ার উপর চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই ন্যায়বিচারের পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। শুধু তাই নয় তারা জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করে এক ভয়ঙ্কর সংঘাত ও সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি নাগরিক আজ উৎকণ্ঠিত। সকলের নিরাপত্তা আজ বিপন্ন। এ অনৈক্য ও সংঘাত আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকেও আজ গুরুতর হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টির সমস্ত দায়দায়িত্ব এ সরকারকেই বহন করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার ওপর বিক্ষোভের চাপ প্রয়োগকে সমর্থন করে, জাতিকে বিভক্ত করে সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়ে এবং নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশ আরও ভয়ংকর বিপর্যয়ে দিকে ধাবিত হবে। সে কারণে আমরা অনতিবিলম্বে এ রক্তপিপাসু খুনি সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।
সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে: খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে সরকার ইতিমধ্যেই পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আক্রমণ চালাচ্ছে। দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের উপরও হামলা চালিয়েছিল। আমি সরকারকে এমন আত্মঘাতী ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে কোন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ভাইবোনদের প্রতি আহ্বান জানাই- অতীতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেমন সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন আজ দেশ ও জাতির এই দুঃসময়ে ঠিক সেভাবেই জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙক্ষা ও সংগ্রামকে প্রচার ও প্রকাশ করে চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিন।
আমরা নিশ্চুপ দর্শক হতে পারি না: খালেদা জিয়া বলেন, আমরা শান্তির পক্ষে। সংঘাত-সংঘর্ষ-হানাহানির বিপক্ষে। আমরা গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে। দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান। কাজেই সরকার যে ভয়াবহ অবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে, গণহত্যায় মেতে উঠেছে, তাতে দেশের দায়িত্বশীল সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা নিশ্চুপ দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। আমি সারা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে এ সরকারের ঘৃণ্য ও গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, যে কোন মূল্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার জন্য। আমি দেশবাসীকে এ সঙ্কটের মুহূর্তে রাজপথে নেমে আসার ডাক দিচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারি সন্ত্রাস ও গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে আজকের (শনিবারের) প্রতিবাদ মিছিলে আমি সকলকে শরিক হবার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আগামী ৫ই মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালনের জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, আমি সরকার ও প্রশাসনকে বলবো, জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে কোন বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। আমি বলবো, আর একটি গুলিও যেন চালানো না হয়। জুলুম-নির্যাতনের পথ বেছে নিলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
আসুন দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই: খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার। অযোগ্যতা, সন্ত্রাস ও নৃসংশতায় তারা নিজেদের অতীত রেকর্ডও এবার ভঙ্গ করেছে। সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছলেবলেকৌশলে প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রকৃত জনমতকে আড়াল করতে চাইছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তারা নিজেরাও জানে। তাই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনী প্রহসন করে আবার গদিতে বসতে চায়। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণদাবি, জাতীয় সঙ্কট ও সীমাহীন ব্যর্থতা-দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তারা দেশকে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গুম, খুন, সন্ত্রাস, গণহত্যা, হামলা-মামলা ও মিথ্যাচারের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে, রক্তার্জিত গণতন্ত্রকে এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। তাই সব ধর্মমতের এবং পাহাড় ও সমতলবাসী প্রতিটি গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতি আমার আহ্বান, দলমত-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সকলে মিলে আসুন দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই। আসুন, ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে রক্ষা করি। জনগণের জানমালের হেফাজত করি। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানাই। জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করি। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, সারওয়ারী রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, মোরশেদ খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। – See more at: http://mzamin.com/details.php?nid=NDQ2ODQ=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==#sthash.t0vkJLza.dpuf

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট