Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডা. ইমরান ঘোষণা দিলেই কি ফাঁসি হয়ে যাবে?

গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান ঘোষণা দিলেই ফাঁসি হয়ে যাবে কিনা সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, গণজাগরণ আন্দোলন কার বিরুদ্ধে? বিচার কিভাবে হবে? ডা. ইমরান ঘোষণা দিলেন- ফাঁসি দাও- তাতেই কি ফাঁসি হয়ে যাবে? নাকি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার হবে? আমরা এই প্রশ্নের উত্তর চাই। গতকাল দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টঙ্গীর বোর্ডবাজারে এক কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় পছন্দ হয়নি বলে শাহবাগে তরুণ প্রজন্ম বসেছে। এখন গণজাগরণের এ নতুন প্রজন্মকে কেউ বিশ্বাস করছে না। সরকারের সঙ্গে তাদের দহরম এমন পর্যায়ে গেছে, তা এখন প্রেমপ্রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দেশবাসী জানে, এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে কে? আইন তৈরি করেছে কে? বিচার করছে কে? বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে কে? তদন্ত করেছে কারা? ট্রাইব্যুনাল গঠন, আইন প্রণয়ন, প্রসিকিউশন টিম নিয়োগ, তদন্ত, বিচারের রায় সবই করেছে সরকার। এখন আমাদের প্রশ্ন, শাহবাগের নতুন প্রজন্ম কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে? তিনি বলেন, গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপি’র অবস্থান পরিষ্কার। যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে আমাদের কোন অস্পষ্টতা নেই। আমরা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আজ জাতিসংঘ বলেছে এই বিচার ওইভাবে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞও বলেছেন একই কথা। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের গোপন কথোপকথন স্কাইপিতে প্রকাশ হয়ে গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, চার বছরে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকার বুঝে গেছে, আগামীতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। সেজন্য নির্দলীয় সরকারের বিধান বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে সরকার। তারা আসলে বিগত চার বছরের ব্যর্থতা ও অপকর্ম ঢেকে ফেলতে নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ বসিয়ে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াতে প্রকাশিত একটি সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, পত্রিকাটি বলেছে- ভারতের সমর্থনে শাহবাগের আন্দোলন চলছে। আমাদের প্রশ্ন- বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভাগ্য নিয়ে আন্দোলন ও রাজনীতি করবে। এখানে প্রতিবেশী দেশ কি কারণে সাহায্য সহযোগিতা করবে- আমাদের তা আজ বুঝতে হবে। মহানবী (সা.)-র বিরুদ্ধে ব্লগে কটূক্তি করার নিন্দা জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যখন এর প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামছে, তখন সরকারের পুলিশ বাহিনী গুলি করে তাদের হত্যা করছে। এ পর্যন্ত ৩০ জন মুসল্লিকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশকে সংঘাত ও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া ব্লগারদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গত চার বছরে বিএনপির ১৪৫ জন নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। সরকার তাদের কোন হদিস দিতে পারেনি। গোটা দেশ একটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম, হমায়ুন কবির খান, মজিবুর রহমান, আজিজুর রহমান প্যারা, এসএম শাহান শাহ আলম, সালাউদ্দিন সরকার, সোহরাব উদ্দিন, ডা. মাজহারুল আলম, হেলাল উদ্দিন, সুরুজ আহাম্মেদ বক্তব্য দেন। বর্ধিত সভায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন থেকে ১৫১ সদস্যের জেলা কমিটি, ১০ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলী ছাড়াও উপজেলা-পৌরসভা ও অঙ্গ সংগঠনের ৩৮০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট