Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাঈদীর রায় ঘিরে উত্তেজনা, বিজিবি মোতায়েন, সংঘর্ষ, আজ হরতাল

টানটান উত্তেজনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে আজ। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলনের ২৪ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। আজও শাহবাগ স্কয়ারে রায়ের জন্য অপেক্ষা করবেন আন্দোলনকারীরা। রায় ঘোষণার দিনে হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে এ হরতাল আহ্বান করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। ব্যবসায়ী সংগঠন এবং আন্দোলনকারী তরুণ প্রজন্ম এ হরতাল প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। হরতালকে ঘিরে সারা দেশে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্তত ২০টি স্থানে জামায়াত শিবিরের ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৩ জন। রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, পল্টন, মগবাজার, মালিবাগ, বাংলামটর, মিরপুর, কাকরাইল, ফকিরাপুল ও সূত্রাপুরে সংঘর্ষ হয়েছে। রাজধানীতে ৩টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, সাভার ও গোপালগঞ্জে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। উদভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি গত ২৯শে জানুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল গতকাল এক আদেশে আজ এ মামলায় রায়ের কথা জানায়। সরকারপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আমরা সাঈদীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আশা করি তার সর্বোচ্চ শাস্তিই হবে। এর আগে গত বছরের ৬ই ডিসেম্বর সাঈদীর মামলাটি শুনানি শেষে একবার রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্কাইপ বিতর্কে বিচারপতি মো. নিজামুল হক ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করলে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে এ মামলায় যুক্তিতর্ক নতুন করে শোনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর আগে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ এবং আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। রায়ে পলাতক আযাদকে মৃত্যুদণ্ড এবং কারাবন্দি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৫ই ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ স্কয়ারে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের নেতৃত্বে নেমে আসে নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষ। তাদের প্রতিবাদ এখনও অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ভিন্ন অন্য কোন রায় মেনে নেয়া হবে না বলে এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। অন্যদিকে, সাঈদীর কোন ধরনের সাজা মেনে না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত-শিবির।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় গ্রেপ্তার: বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলায় মাওলানা সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯শে জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২রা আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ১১ই জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে ৩রা অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনকালে মুক্তিযুদ্ধকালে পিরোজপুর জেলায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং এ ধরনের অপরাধে সাহায্য করা ও জড়িত থাকার ঘটনায় ২০টি অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ২০ ও ২১শে নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান।
সাঈদীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১০০ থেকে ১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে, সাঈদী আরবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী এবং বাকপটু। এটাকে ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তিনি সখ্য এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এজাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেন। এ কারণে তিনি রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার হতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বে ও সহযোগিতায় পিরোজপুরের পারেরহাট বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি ও রাজাকার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সাঈদী মুক্তিযুদ্ধকালে পাড়েরহাট বন্দরের বিপদ সাহার মেয়ে ভানু সাহাকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন করতেন। বিপদ সাহার বাড়িতেই আটকে রেখে অন্যান্য রাজাকারসহ ভানু সাহাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। একসময় ভানু সাহা দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে একদল রাজাকার পিরোজপুরের হুগলাবুনিয়া গ্রামে হানা দেয়। রাজাকারদের আগমন দেখে গ্রামের বেশির ভাগ হিন্দু নারী পালিয়ে যান। কিন্তু মধুসূদন ঘরামীর স্ত্রী শেফালী ঘরামী ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তখন সাঈদীর নেতৃত্বে রাজাকাররা তাকে ধর্ষণ করেন। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এ নিয়ে গ্রামে বিভিন্ন কথা ওঠায় শেফালী ঘরামী দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন।  সাঈদীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালাতো। তাদের বাড়িঘর লুট করাসহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতো। পরে লোকজন সর্বস্ব হারিয়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। আর যারা যেতে পারেননি তাদের সাঈদী ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেন। তাদের নিয়ে তিনি মসজিদে নামাজ পড়তেন। তাদের মুসলমান নামও দেন তিনি। এছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, পিরোজপুরেই জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও মুহাম্মদ জাফর ইকবালের পিতা পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমানকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় হত্যা করে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, সাঈদীর আসল নাম দেলোয়ার হোসেন শিকদার। একাত্তরে তিনি পিরোজপুরে এ নামেই পরিচিত ছিলেন। লোকে তাকে ‘দেইলা রাজাকার’ নামেও চিনতেন। স্বাধীনতার পর তিনি নিজের অপরাধকে আড়াল করার জন্য বোরকা পরে গরুর গাড়িতে চড়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে অস্ত্রসহ যশোরের মো. রওশন আলীর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। অনেকদিন পর তার অপরাধের কাহিনী জানাজানি হলে তিনি পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপন অবস্থা থেকে বের হয়ে আসেন এবং ভুয়া মাওলানা পরিচয়ে ওয়াজ মাহফিল শুরু করেন। নিজের নাম পাল্টে করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এভাবেই তিনি আল্লামা মাওলানার পরিচয়ে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেন।
সাঈদী যা বলেছিলেন: গত ২৯শে জানুয়ারি শুনানির শেষ দিনে ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রেখেছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমি কোরানের সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি, এটাই কি আমার অপরাধ? এটা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে এ অপরাধে অপরাধী হয়ে হাজার বার ফাঁসির মঞ্চে যেতে রাজি আছি। বিচারপতি নিজামুল হক বিচারে ভ্রষ্ট পথ অনুসরণ করেছিলেন বিধায় এক রাশ গ্লানি নিয়ে তাকে সরে পড়তে হয়েছে। আজ সেই চেয়ারে আপনি (বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর) সম্মানিত চেয়ারম্যান। এটাই আল্লাহর বিচার। আমার বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং শতাব্দীর জঘন্য ও নিকৃষ্টতম মিথ্যাচার। আল্লাহর কসম! আমার বিরুদ্ধে রচনা করা চার সহস্রাধিক পৃষ্ঠার প্রতিটি পাতার প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শব্দ, প্রত্যেকটি বর্ণ মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে কোন এক দেলোয়ার শিকদারের করা অপরাধ সমূহ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যার পাহাড় রচনা করেছেন। আজ আমি আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে আপনাদের সামনে বলতে চাই, সরকার ও তার রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক চিত্রিত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের হত্যাকারী, লুণ্ঠন, গণহত্যাকারী, ধর্ষক, অগ্নি সংযোগকারী, দেলোয়ার শিকদার বা ‘দেলু’ বা দেইল্যা রাজাকার আমি নই। আমি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রিয় জন্মভূমি এই বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের নিকট চিরচেনা পবিত্র কোরানের একজন তাফসিরকারক, কোরআনের পথে মানুষকে আহ্বানকারী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই ৪২ বছরের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে কোন বিষয়েই কোন মামলা ছিল না। সামান্য একটি জিডি-ও ছিল না। গণতন্ত্রের লেবাসধারী বর্তমান এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বদান্যতায়, মহানুভবতায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আজ আমি ১৭টি মামলার আসামি। সেই জুন ২০১০ থেকে অদ্যাবধি কথিত মানবতাবিরোধী ২০টি অপরাধের অভিযোগসহ ১৭টি মামলা আমার বিরুদ্ধে দায়ের করে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে সরকার আমাকে তাদের এক রাজনৈতিক তামাশার পাত্রে পরিণত করেছে, যা আজ দেশবাসীর কাছে মেঘমুক্ত আকাশে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতোই স্পষ্ট। তদন্ত কর্মকর্তা এবং সহযোগীরা তাদের তৈরী অভিযোগগুলো প্রমাণের জন্য কয়েকজন বিতর্কিত চরিত্র ব্যতিত সাক্ষী প্রদানের জন্য কাউকেই হাজির করতে পারেননি। তারপরও প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এই ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টেনেছেন। এই ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৃত বিবেচনায় আমার বিরুদ্ধে পরিচালিত মামলার রায় প্রকাশ করে গেছেন। স্কাইপ কথোপকথনে তার ভাষায়- “সাঈদীর কেইসটা ডিফারেন্ট। এই সাঈদীর কেইসটার লগে আইনের সম্পর্ক খুব বেশি না। এডা আমাদের দেশী দরবারের মতোই।” সাঈদী বলেন, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যানের প্রকাশিত এই মতামত বা মন্তব্যের পর এই মামলা চলার নৈতিক অবস্থান কোথায় থাকে? তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে আমি সাধারণ সমর্থক হিসেবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করি। এর পূর্বে আমি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক ছিলাম না। ১৯৯০ সালের শুরু অবধি আমার রাজনৈতিক কোন পরিচয়ও ছিল না। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাইরে আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতায় সময় ব্যয় একেবারেই অনুল্লেখযোগ্য। সংকোচনহীন ভাবে বলতে গেলে, রাজনীতির জটিল সমীকরণের বিষয়ে আমার অজ্ঞতা এবং সময়ের অভাবহেতু প্রচলিত রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার অবস্থান একজন অ্যামেচার রাজনীতিবিদের পর্যায়ে। তিনি বলেন, আমার তাফসির মাহফিলগুলোতে হাজারো লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে। এইসব মাহফিল থেকে অসংখ্য অগণিত মানুষ সঠিক পথের দিশা পেয়েছে, নামাজি হয়েছে। এটাই কি আমার অপরাধ? আমি সাঈদী লক্ষ কোটি মানুষের চোখের পানি মিশ্রিত দোয়া ও ভালবাসায় সিক্ত। এই ভালবাসাই কি অপরাধ? আমি আমার সারা জীবন নাস্তিক্যবাদী ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে কোরান ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য দিয়ে এসেছি। বর্তমান সরকারের আমলে আমি দু’টা খুনের মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে হজ পালনে মক্কা শরীফ গিয়েছিলাম। হজের দু’দিন পরে মীনা কিং প্যালেসে বাদশাহ লাঞ্চের দাওয়াত দিলেন। বাদশাহর সঙ্গে করমর্দন হলো, কুশল বিনিময় হলো, পাশাপাশি টেবিলে খাওয়া-দাওয়া করলাম। আমার মনে কোন দুর্বলতা থাকলে আমার জন্য এটা খুবই সহজ ছিল যে, বাদশাহকে বলে সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতাম। আমি আমার সকল বিষয় সেই মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছি, যিনি আমার কর্ম বিধায়ক এবং তাঁকেই আমি আমার একমাত্র অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছি। সাহায্যকারী হিসেবে মহান আরশের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-ই আমার জন্য যথেষ্ট।
জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আজ: সারা দেশে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের নায়েবে আমীর মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি, সরকারের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড ও পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামাদের ওপর জুলুম নিপীড়নের প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। এর আগে কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে দলের ৪ নেতাকর্মী খুনের প্রতিবাদে ১৮ই ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সকাল-সন্ধ্য হরতাল পালন করে দলটি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এটি জামায়াতের পঞ্চম হরতাল। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল এক বিবৃতিতে এ হরতালের ঘোষণা দেন। এদিকে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ এই হরতাল প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে হরতালের সমর্থনে বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। রাজধানীর ধানমন্ডিসহ কয়েকটি জায়গায় গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মাওলানা সাঈদীর মামলার রায় ও হরতালের পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থানকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল রাতে রাজধানীতে বিজিবি নামানো হয়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত নগরবাসী গতকাল সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরতে শুরু করেন। এতে সন্ধ্যার পরই অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী। হরতালের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নাস্তিক, মুরতাদরা ইসলাম, পবিত্র কোরান, বিশ্বনবী (সা.)-কে অবমাননা করছে। দেশের আলেম, ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও সর্বস্তরের জনতা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানালে সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে গুলি করে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার আলেমকে আহত করেছে, লক্ষাধিক ইসলামপ্রেমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার দীর্ঘ ৩২ মাস ধরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মিথ্যা মামলায় আটক রেখেছে। সরকার ইসলাম উৎখাতের অংশ হিসেবে আলেমদের গায়ে হাত দিয়েছে। আলেমদের গুলি করে হত্যা করছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার। তিনি বলেন, আমরা আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত বন্ধ এবং অবিলম্বে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরান মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি। হরতাল সফল করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসি দাবি আদালত অবমাননা নয় কি?: খেলাফত আন্দোলন প্রধান ও সমমনা ইসলামী দলের শীর্ষ নেতা মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ফাঁসির দাবি করা আদালত অবমাননা নয় কি? শাহবাগ কি দেশের সর্বোচ্চ আদালত চত্বর! নাকি আরেকটি জাতীয় সংসদ? ব্লগারদের ইসলামী রাজনীতি বন্ধের অযৌক্তিক দাবি, আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং এসব দাবির সরকারের পূর্ণ সমর্থন ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে কোন নবীপ্রেমিক বিবেকবান ইসলামী জনতা তাদের এ দাবি মেনে নিতে পারে না। যতই দিন গড়াচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষী আওয়ামী লীগের কুমতলব জাতির কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র থেকে জাতিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। গতকাল দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা ইলিয়াস মাদারীপুরী, মুফতি এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা ওলিউল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা আশরাফ বলেন, নবীপ্রেমিকরা রাসূল (সা.)-এর ইজ্জত রক্ষায় যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে। সরকারি দলের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধী নেতাকর্মী আলেম-ওলামা এবং দাঁড়ি-টুপিওয়ালা সাধারণ মুসল্লি, তৌহিদী জনতার ওপর পুলিশের হিংস্র আক্রমণ কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না। ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে ঈমান রক্ষার আন্দোলন দমানো যাবে না। তিনি আগামীকাল শুক্রবার দল মত নির্বিশেষে সকলকে নবীপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
রায় ও হরতাল ঘিরে সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতের রায় ঘোষণা ও জামায়াতের ডাকা হরতাল উপলক্ষে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। মাঠে নামানো হয়েছে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। ট্রাইব্যুনাল চত্বর ও স্পর্শকাতর পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সোয়াত, বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট ও র‌্যাবের হেলিকপ্টার। যেকোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, রায় ও হরতালের নামে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থাপন করা হবে। নাগরিক জীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রায় দুই লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার  সঙ্গে সমন্বয় করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাঈদীর রায় ঘোষণার দিন ঘোষণার পরপরই জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়। এর পরপরই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের  গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। এর পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নাশকতা হামলার উদ্দেশ্যে ভিনদেশী জঙ্গি লস্কর-ই-তৈয়্যেবা  দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর জনমনে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। সূত্রমতে, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই  বিজিবির ৪০টি প্লাটুন সদস্য রাজপথে টহল দেয়। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ ও র‌্যাবকে সহযোগিতা করার জন্য বিজিবি সদস্যদের নামানো হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ, মতিঝিল, মিরপুর, কূটনৈতিক জোন ও সচিবালয় এলাকাসহ গাবতলী থেকে সায়েন্সল্যাব, আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যদের  মোতায়েন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল ঘিরে ৩০ সিসি টিভি: মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয়  বিচারের রায়  ও হরতালকে কেন্দ্র করে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে বসানো হয়েছে প্রায় ৩০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যদের। যেকোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নজরদারি করতে ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরায় স্থাপন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রবেশ পথে  মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য ডিভাইস দিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হয়। পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে অন্যতম রায়কে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে। শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনাল-ই নয় মতিঝিল, রমনা, মগবাজার, শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল-সুপ্রিম কোর্টের সর্বত্রই নিরাপত্তার চাদর বিছানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রায়কে ঘিরে এমনিতেই অতিরিক্ত ২০ প্লাটুন পুলিশ  মোতায়েন রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কমপক্ষে ১০ প্লাটুন পুলিশ চাওয়া হতে পারে, এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করা ছিলো। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়কে ঘিরে সদর দপ্তরসহ রাজধানীর প্রতিটি ব্যাটালিয়নকে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় র‌্যাবের হেলিকপ্টার: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারি করতে র‌্যাবের হেলিকপ্টার উড়বে আকাশপথে। কোথাও বড়  ধরনের বিশৃঙ্খলার তথ্য পাওয়া মাত্রই পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো দুর্গম এলাকা ও দূরবর্তী জায়গা নজরদারি করবে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।
গাড়ি চলাচলের ঘোষণা: জামায়াতের ডাকা হরতাল কর্মসূচি  প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি। হরতালে রাজধানীতে বাস চলাচলের ঘোষণা দিয়েছেন সমিতির কর্মকর্তারা। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে কিছু বলেননি। গতকাল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে হরতালে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।  কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য হরতালের নামে সারা দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির। এটি  কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজধানীতে বাসে আগুন, পুলিশের গুলি: রাজধানীর ধানমন্ডিতে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের খেলোয়াড়দের বহনকারী গাড়িতে হামলা হয়েছে। ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে একটি বাসে আগুন দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। পান্থপথ ও দয়াগঞ্জে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। রামপুরায় ছাত্রশিবিরের মিছিল থেকে ৩টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মগবাজার রেলক্রসিং এলাকায় হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়াও হাতির ঝিল, কাকরাইল, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা।  কুড়িল বিশ্বরোডে ৯টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে ছাত্রশিবির কর্মীরা। বাংলা মোটরে বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।
দয়াগঞ্জে শিবিরের মিছিল থেকে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এখানে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে ৩ শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে শিবির সূত্র দাবি করেছে। গুলিবিদ্ধ একজন শিবির নেতার নাম বলেছেন শিবির নেতারা। আবদুল্লাহ নামের গুলিবিদ্ধ ছাত্রশিবিরের দয়াগঞ্জ এলাকার ওই নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। রাজধানীর পল্টন এলাকায় পরপর আট/দশটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখানে ছাত্রশিবিরের মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। ফকিরাপুল এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা  জানিয়েছেন, ফকিরাপুল মোড় এলাকায় বিকট আওয়াজে দশ/পনেরটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
ভালুকা প্রতিনিধি জানান, কুটূক্তিমূলক লিফলেট বিতরণের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় লোকজন পৌরসদরের কাঠালী গ্রাম থেকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে মাদরাসা শিক্ষকসহ ৩ জনকে আটক করে ভালুকা মডেল থানায় সোপর্দ করেছে।
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, বালাগঞ্জ থানা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোয়ালজুর বাজারস্থ তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান লতিফ মেডিকেল হল থেকে একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সিলেট কতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান বালাগঞ্জ থানার ওসি আবদুছ ছালেক।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, বগুড়া প্রজন্ম মঞ্চ ভাঙচুরের মামলার প্রধান আসামি জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখের সভাপতি মাওলানা আলমগীর  হোসাইনসহ ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড জামায়াত আমীর রুহুল কুদ্দুস ডিলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে গুজব এবং পটকা ফুটিয়ে প্যানিক সৃষ্টি করে শহর ফাঁকা করার চেষ্টা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির।
বগুড়া সদর থানার ওসি সৈয়দ শহিদ আলম জানান, ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রজন্ম মঞ্চ ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা আলমগীর হোসাইনকে গতকাল বিকালে শহরের মালগ্রাম থেকে এবং ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা ডিলুকে কলোনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ জেলা শহরের সিকদারপাড়ায় অবস্থিত জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান আল-ইসলাম ট্রাস্ট বিল্ডিংয়ের ৩ তলার পশ্চিম পাশে গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ইসলামী জীবনবীমা তাকাফুল অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর,ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার রাত ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতে আল-ইসলাম ট্রাস্ট অফিসে জামায়াত-শিবিরের গোপন বৈঠক চলছে এমন খবরের ভিত্তিতে উত্তেজিত জনতা ওই অফিস ঘেরাও করে হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার রাতে গোপন বৈঠক চলছে এমন খবরের ভিত্তিতে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই অফিসে ঢুকে ৪ যুবককে দেখতে পায়। যুবকরা নিজেদেরকে গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ইসলামী জীবন বীমা তাকাফুলের কর্মকর্তা কর্মচারী দাবি করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহী মহানগরীতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় মহানগরীর শিরোইল রেল স্টেশন এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়ত-শিবিরকর্মীরা মিছিল শুরু করে। পুলিশ এতে বাধা দিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৬ থেকে ৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় মিছিলকারীরা মহানগরীর ছোট বনগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, সংঘর্ষের সময় ৩ জন শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানান, সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ও হরতালের পক্ষে গতকাল জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। আগুন দেয়া হয় শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে। অন্যপক্ষ শিবগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ শতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়। প্রায় একই সময় জেলা জামায়াতের অফিসের সামনে জমায়েত হয়ে সমাবেশ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সমাবেশে বক্তব্য  দেন, জেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম ও পৌর আমীর মুখলেসুর রহমান। পরে জেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর লতিফুর রহমান ও পৌর আমীর মুখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকটি অটোতে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রেস ক্লাবের সামনে এসে হঠাৎ করে পুলিশ ও দোকানপাট লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ হয়ে যায় এবং আতঙ্কে লোকজন ছোটোছুটি শুরু করে। সদর থানার ওসি খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা জানান, জামায়াত-শিবিরের হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে।
এসএসসি পরীক্ষা আবার পেছালো: দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি দাবিতে জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডাকার পর বৃহস্পতিবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। আগামী ৮ই মার্চ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা হবে বলে বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র ঢালী। সাঈদীর যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় হবে বৃহস্পতিবার। এদিনই সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে জামায়াত। আজ আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে সাধারণ বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে সামাজিক বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা ছিল। এর আগে এবারের এসএসসি ও সমমানের দুটি পরীক্ষা হরতালের কারণে পেছানো হয়। -
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট