Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবে গণজাগরণ মঞ্চ

ঢাকা: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য মঙ্গলবার বিকেল চারটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন শাহবাগের আন্দোলনকারীরা।

সোমবার বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্করে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষে জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধী, অন্য পক্ষে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। এখানে নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই।” যারা নিরপেক্ষ তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের হিসেবেই গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেন ইমরান এইচ সরকার।

তিনি বলেন, “এই মাহমুদুর রহমান জ্বালানি উপদেষ্টা থাকাকালীন ফুলবাড়ীর জনতার রক্ত ঝরিয়েছে। এখন তথাকথিত সম্পাদক হয়ে দেশের জনগণের রক্ত ঝরাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা কেউ নাস্তিক নই। উত্তরা ষড়যন্ত্রের এই নায়ক মাহমুদুর রহমানই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশকে আফগানিস্তানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি এদেশে পাকিস্তানে এজেন্ট।”

তিনি বলেন, “এই মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকা আমার দেশের মাধ্যমে এদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমি মুসলমান। আমি নামায পড়ি, রোযা রাখি। আর তিনি বলেছেন, আমি নাকি নাস্তিক। এতো বড় মিথ্যাচার আর হতে পারে না।”

ইমরান বলেন, “এতো বড় মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পড়েও সরকার কেন মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করছে না তা আমার বোধগম্য নয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। সরকার তা গ্রহণ করেনি। এখন বলছি, মঙ্গলবার বিকেল চারটা মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা ও মসজিদ অবমাননার দায়ে মাহমুদকে গ্রেফতার না করলে ওই সময়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।”

ইমরান জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও  নেজামী ইসলামী পার্টি গণজাগরণ মঞ্চকে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিটি পাঠ করেন ইমরান। তাতে বলা হয়, “আলেমরা আমার দেশের মিথ্যা সংবাদে বিভ্রান্ত হয়ে মিছিল মিটিং করেছেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জন্য আমরা আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমাদের বিচার চাই।”

ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, “১৯৭১ বদলেছে, কিন্তু জামায়াত ইসলাম ও শিবিরের চরিত্র বদলায়নি। তারা ৭১’র এ যেমন গণহত্যা করেছে, এখন জনগণের রগ কাটছে, দেশের পবিত্র শিক্ষাঙ্গনগুরো রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।”

ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই শিবিররাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাদের কবিরকে হত্যা করেছিল, এখনো এদের হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে রিজভী আহমেদ। তাই জনরোষ থেকে বাঁচতে হলে শিবিরকে এখনই প্রত্যাখ্যান করুন। অন্যথায় জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”

তিনি আরো বলেন, “এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। এরা মিথ্যাচার করছে। আমরা নাকি নাস্তিক! অথচ এরা শুক্রবার জুমার নামায না পড়ে সাংবাদিক পুলিশের ওপর হামলা করেছে। মসজিদে আগুন দিয়েছে। ”

বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, “মিথ্যাবাদী এই জামায়াত-শিবিরের বাংলার মাটিতে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আমরা অধিকার দেবো না।”

জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসীর বলেন, “আমার জীবনে আমি কোনোদিন রোযা ভাঙিনি। আমি মুসলমান। তাই বলতে চাই, যারা মিথ্যা বলে তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। জামায়াত নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।”

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক বলেন, “যারা জামায়াতের টিভিতে রাতের টক শোতে যান আর জামায়াতের পত্রিকায় কলাম লেখেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা নন। তারা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা।”

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন শাহবাগের নাকি প্রাণ শেষ হয়ে গেছে। যারা এ কথা বলেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, মিরপুরে এসো দেখুন, শাহবাগের আন্দোলন আজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।”

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুল আলম, ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র ঐক্য ফোরামের আহবায়ক সোহান সোবহান, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আজিজুল হক রানা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রবিউল ইসলাম।

এছাড়া সমাবেশে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়ে সংহতি জানান বৃহত্তর মিরপুরের তিন সংসদ সদস্য আসলামুল হক, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রশিকার চেয়ারম্যান কাজী ফারুক, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি সাইফুল্লাহ, মাজহারুল আনোয়ার ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইসহাক মিয়া।

এছাড়া সমাবেশে মিরপুর, কাফরুল, পল্লবীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট