Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘শুধু জামায়াত নিষিদ্ধ হবে’

সব ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করা হবে না, শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এমপিরা এ তথ্য জানান। তারা বলেন, এটি যত তাড়াতাড়ি করা সম্ভব হবে, দেশ তত অরাজক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। কেননা আমাদের লড়াই ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। একাত্তরের মতো যারা শহীদ মিনার ও গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গেছে, রক্তাক্ত পতাকা পুড়িয়েছে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছে- সেই রাজনৈতিক দল জামায়াত-শিবিরের স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না। এর আগে জাতীয় পতাকাকে অসম্মান, শহীদ মিনার অবমাননা, গণজাগরণ মঞ্চ ভাংচুর ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সংসদ অধিবেশন উত্তাল হয়ে ওঠে। এমপিরা সম্মিলিত প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা বিরোধী এই দলটি কোন ইসলামী দল নয় বলে তারা দাবি করেন। স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুুল হামিদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনির্ধারিত ওই বিতর্কের সূচনা করেন সরকারি দলের  সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, শুক্রবার দেশব্যাপী যারা তান্ডব চালিয়েছে তারা কারা? যারা দেশের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে মিছিল করে, শহীদ মিনার ভেঙ্গে, মসজিদের কার্পেট পুড়ে ফেলে, বোমাবাজি করে তারা কারা? এরা সবাই জামায়াত-শিবির। তিনি বলেন, মসজিদের মধ্যে বোমাবাজি করে, জায়নামাজ পুড়িয়ে কী ইসলাম রক্ষা করা যায়? যারা করেছে তারা কী প্রকৃত ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে। জামায়াতী নাশকতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে হবে। আমাদের লড়াই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে নয়। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রূখে দাঁড়াতে হবে। তোফায়েল আহমদ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংবিধানেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধু এই দলটির নেতাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমান জামায়াতকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির গত শুক্রবার একাত্তরের মতো শহীদ মিনার ভেঙ্গেছে, গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গেছে, রক্ত¯œাত পতাকা পুড়িয়েছে, সাংবাদিকদের উপর হামলা ও নির্যাতন করেছে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছে- সেই দলের বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না। তিনি বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে, ধর্মীয় উস্কানী দিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চায়- তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সন্ত্রাসী-জঙ্গী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলেও যা, না করলেও না। উনসত্তর-একাত্তরের মতো গর্জে উঠে এদের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়ানোর জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শেখ ফজলুর করিম সেলিম বলেন, প্রজন্মসেনা রাজীব হায়দারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার ব্লগে ঢুকে জামায়াত-শিবির মহানবী (সা.) এর নামে কটুক্তি ঢুকিয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য দৈনিক আমার দেশ ও নয়াদিগন্ত ছাপিয়ে দেশবাসীকে উস্কে দিয়েছে। এ দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছড়াচ্ছে। কক্সবাজারের রামুতেও এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করবো না, যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না সেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোন পার্থক্য নেই, এরা স্বাধীনতা বিরোধী। বিএনপি-জামায়াত যতই ষড়যন্ত্র করুক যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবে না, বরং যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, এদেশের শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমান। কারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আগুন নিয়ে খেলা করতে চাইছে? কারা জাতীয় পতাকাকে আগুন লাগিয়ে পদদলিত করে অপমানিত করছে? তিনি বলেন, সহিংসতা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিদিনই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে সঙ্কটের সমাধান করতে হবে।  মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা অপশক্তিকে কঠোরহস্তে দমন করার দাবি জানান তিনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট