Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গ্রন্থমেলায় বসন্তের ঢেউ

সরোজ মেহেদী: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেগেছে বসন্তের ঢেউ। প্রকৃতির বুকে বসন্তের আগমন ঘটেছে। গ্রন্থমেলার গতকালের বেশির ভাগ দর্শনার্থীই ছিল তরুণ-তরুণী। তরুণীরা খোঁপায় ফুল ও লাল-বেগুনী শাড়ি পরে মেলায় এসেছিল গতকাল। ছেলেরা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে। অন্যদিকে আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। বসন্তের প্রকৃতিতে আজ ভালবাসার দিন। চিরচেনা প্রেম ভিন্নরূপে ধরা দেবে প্রিয়জনের কাছে। রাগ-বিরাগ-অনুরাগ ভুলে একীভূত হবে দু’টি হাত। কপোত-কপোতিরা সারাদিনের ঘুরে বিকালে এসে জড়ো হবে বইয়ের আঙ্গিনায় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে। নিজের প্রিয় বইটি কেউ কেউ তুলে দিবে প্রিয়ার হাতে। সন্ধ্যা নাগাদ জমবে আড্ডা। চলবে রাত অবধি। ভালবাসা দিবসকে ঘিরে আজ প্রকাশিত হবে বেশ কিছু ভালবাসার বই। গতকাল মেলায় এসেছে ১২৮টি নতুন বই । নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২২টি বইয়ের। রবীন্দ্রস্মারক গ্রন্থমালার ১৫১টি বইয়ের আরও ১০টি এসেছে গতকাল। বসন্ত উৎসবে বেচাকেনা ভাল হয়েছে বলে জানান প্রকাশকরা। আজও বেচাকেনা ভাল হবে বলে আশা তাদের।
ফাগুনের আগুনে বর্ণিল ছিল একাডেমী চত্বর: উৎসবের সব রাস্তা যেন একীভূত হয়েছিল একাডেমী চত্বরে এসে। চারুকলা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসিতে সকালের বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান শেষে দুপুর গড়াতেই মেলার দিকে আসতে থাকে তারুণ্যের দল। বিকালে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে এক অন্য আবহ পায় একাডেমী চত্বর। গত ১২ দিনের দিনের মেলা প্রাঙ্গণ নতুন রূপে ধরা দেয় যেন। মেয়েরা সাজে বাঙালির চিরচেনা সাজে, কারও খোঁপায় গোঁজা ফুল, মাথায় ফুলের বেড়ি, কারও গলায় মালা, কেউবা হাতে গোলাপ বা গাদা ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছেলেদের কেউ পাঞ্জাবি, কেউ ফতুয়া পরেছেন। এপার থেকে ওপার স্টলগুলোয় দেখছেন নতুন বই। বই-ভালবাসা-প্রেম মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। তাম্রলিপির স্বত্বাধিকারী এ কে এম তারিকুল ইসলাম রনি যেমন বললেন উৎসবের দিনগুলোতে বেচাকেনা হয়ই। একজন আরেকজনকে বই গিফট করে। তিনি বলেন, মেলা যত শেষের দিকে যাচ্ছে বেচাকেনা তত বাড়ছে।
ভালবাসা দিবসের উপহার: ভালবাসা দিবসকে ঘিরে প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু বই। আজ প্রকাশিত হবে আরও কিছু বই। ভালবাসার দিনে বিদ্যা প্রকাশ থেকে আসছে বাংলার পান্থের লেখা বাবা বইটি, কাকলি প্রকাশন থেকে আসছে হুমায়ূন আহমেদের দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, পারিজাত থেকে আলমগীর পারভেজের শূন্য ভালবাসা।
শিখা প্রকাশনী থেকে ইমদাদুল হক মিলনের স্বামী স্ত্রী, নারী পুরুষ, আড়াল, প্রিয় নারী জাতি। অন্বেষা প্রকাশনী থেকে তানিয়া হোসেন’র হলুদ ভালবাসা, আবুল হাসনাত মিন্টু’র কাছে নেই দূরে তো আছি, তরুণী, রানা’র আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে। ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ থেকে সৈয়দ শামসুল হক’র ভালবাসার পদাবলী এসেছে মেলায়, অন্যপ্রকাশ থেকে হুমায়ূন আহমদে’র নিউ ইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ; দিব্য প্রকাশ থেকে সাযযাদ কাদির’র অনুবাদ গ্রন্থ লাভ স্টোরি, বৃষ্টির বিলীন; চারুলিপি থেকে সৈয়দ শামসুল হক’র বৈশাখ রাতে পংক্তিমালা, আনোয়ারা সৈয়দ হক’র মেয়ে হয়েছি বেশ করেছি, নীলা মোস্তফা’র বেদনার নীল; শুদ্ধস্বর প্রকাশনী থেকে অভিজিৎ রায়’র ভালোবাসা কারে কয়, নীলা ফেরদৌসী’র ইংলিশ লাভ স্টোরি, আফরিনা সামস শিলা চৌধুরী’র পাখিজা লাভ স্টোরি, জনতা প্রকাশ থেকে আনোয়ারা সৈয়দ হকে’র আয়নার বন্দী, মাহিনুল সুলতানা কেয়া’র মেঘ সীমানা, সময় প্রকাশ থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল’র রূপ-রূপালী। হাশিম মিলন’র লিরিকগুলো ভালোবাসার; মম প্রকাশ থেকে মোহাম্মদ জুবায়ের’র ভুল জন্ম ভালবাসা। রিদম প্রকাশ থেকে মইনুদ্দিন কাজল’র তুমি আমার। শব্দশিল্প থেকে রুমানা রশিদ ঈশিতা’র নীরবে। কাশবন প্রকাশনী থেকে প্রফেসর মো. আবদুল জলিল’র যে কথা আজও বলা হয়নি। বনলতা প্রকাশনী থেকে বিবর্ণ উপহার, আমেনা আকতার’র যে যায় সব নিয়ে যায় এবং মেঘভাঙা রোদ। নতুনদিন পাবলিকেশন্স থেকে কাজী মোহিনী ইসলাম’র হৃদয়ের ভাঁজে নকশীবোনা মুখ। কথামালা প্রকাশনী থেকে সালাম সালেহ উদদীন’র সেরা প্রেমের গল্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের ভালবাসার মেলা। একুশ আমাদের প্রেম, আমাদের প্রেরণা। একুশের মাসে একটি দিনকে তাই অনেকে ভালবাসার দিন হিসেবে মানতে নারাজ। তবু উপলক্ষ পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠা। যা দেখা গেল গতকাল পয়লা ফাগুনে বসন্ত উদযাপনে। আজ আবার তাদের দেখা যাবে ভালবাসা দিবস উদযাপনে। যেখানে বই হয়ে উঠবে প্রধান উপজীব্য।
শুধু সৃজনশীল প্রকাশকদের স্টল দেয়া হোক: একাডেমী চত্বরে শুধু সৃজনশীল প্রকাশকদের স্টল দেয়া হলে বর্তমান জায়গায় রেখেই মেলা খুব সুন্দরভাবে করা সম্ভব বলে মত দেন ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী জহিরুল আবেদিন জুয়েল। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি বিভিন্ন সংগঠনকে স্টল দেয়া বন্ধ করে দেয় তবে চাপ অনেকটা কমবে। মেলার জায়গা বাড়বে। এতে দর্শক প্রকাশক উভয়ই স্বস্তি পাবে।
জুয়েল বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে মওসুমি প্রকাশকদের দাপট দেখা যায়। তাদের প্রকাশনা নেই, অন্যের বই নিয়ম ভেঙে বিক্রি করছে অথচ কর্তৃপক্ষের এদিকে কোন নজর নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও আগামীবার এসব ভুঁইফোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল দেয়া বন্ধ করার দাবি করেন তিনি।
মেলার সঙ্গে একাডেমী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশকরা মেলার আয়োজন করতে পারলে ভাল হত কিন্তু প্রকাশকদের পক্ষে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব হবে না । একাডেমীই মেলার আয়োজন করুক। তবে তারা যেন নিজেদের কর নীতিমালা মেনে কাজ করে। দেখা যাচ্ছে তাদের করা নীতিমালা তারাই মানছে না। তিনি বলেন, মেলায় পাইরেটেড বই, ভারতীয় বাংলা বই বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন পত্রিকা ও সংগঠনকে দেয়া স্টল বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক চাপ কমানো গেলে মেলা আরও সুন্দর হবে বলে মনে করেন তিনি। মেলা ভাল চলছে জানিয়ে জুয়েল বলেন, আমরা আশা করছি, ১৫ তারিখের পর পুরোপুরি জমবে মেলা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট