Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘ভালোবাসার দিন’


দিনটি ‘ভালোবাসার দিন’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’-‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ নয়। এভাবেই শুধরে দিলেন বাংলাদেশকে ‘ভালোবাসা দিবস’র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং উপস্থাপক শফিক রেহমান।

‘ভালোবাসার দিন’ নিয়ে এক আলাপচারিতায় তিনি জানান এই দিনটি সম্বন্ধে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ভালোবাসা দিবস’র গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতখানি তা জানালেন তিনি খোলা মনে।

বাংলাদেশের জন্য এই দিবসটি তাৎপর্য অনেক। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্যই এই দিনটি নয়। এই দিনটির গুরুত্ব এবং প্রসার নিয়ে শফিক রেহমান বলেন, “বাংলাদেশ জন্মের পর থেকেই অর্থাৎ ১৯৭১ সাল থেকেই রক্তপাত দেখে আসছে। এই দেশের মানুষ ছাড়া, বিশ্বের সব মানুষকে যদি আমেরিকায় ভরে দেয়া হয় তাহলে সে দেশের ঘনত্ব বাংলাদেশের সমান হবে না। যা ভালোভাবেই বোঝা যায় ঢাকার বেইলি রোড কিংবা শান্তিনগরের মতো এলাকাগুলো দেখলে। রেললাইনের দু’পাশের দৃশ্য দেখলেও তা স্পষ্ট বোঝা যায়। এই পরিস্থিতিতে যদি সবাই এক হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান না করা যায়, তাহলে রক্তারক্তি আরো বাড়বে। হিন্দু-মুসলিম রেষারেষি, কে যুদ্ধাপরাধী ছিল-কে ছিল না, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি বিভাজনের ভিত্তিতে যদি হিংসা-প্রতিহিংসা বাড়তেই থাকে তাহলে বাংলাদেশ এক সময় বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। আমি মনে করছি, এতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পারস্পারিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অনেক জরুরি। এর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দরকার ভালোবাসা, প্রেম, সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দেয়া এবং তার চর্চা করা। সেজন্যই ১৯৯৩ সাল থেকে সে সময় আমার সম্পাদিত ‘যায়যায়দিন’র মাধ্যমে এই দিনকে আমি ‘ভালোবাসার দিন’ হিসেবে চালু করার চিন্তা করি। ।”

তবে পশ্চিমের ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বাংলাদেশে কেন ‘ভালোবাসার দিন হয়ে গেল? এই প্রশ্নের জবাবে ‘লাল গোলাপ’ সঞ্চালক বলেন, “আমি পশ্চিমের ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’র দ্বারাই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু সেই দিনটি ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ নামে শুধুই পশ্চিমে পালিত হতো। সেই নামে যদি এই দিবসটি এখানে পালন করা হতো, তাহলে আমাকে উগ্রবাদীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তারা হয়তো বলতো আমি সবাইকে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী করতে চাইছি। তাই, বাংলাদেশে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ আখ্যা না দিয়ে ‘ভালোবাসার দিন’ হিসেবে আখ্যা দিই। এছাড়া এটাও বলি যে, শুধু প্রেমিক বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই ভালোবাসা নয়, মা-বাবা আর সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে, এমনকি জনতা-পুলিশের মধ্যেও যেন ভালোবাসার সম্পর্ক চলমান থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে ব্যাপকতর ভিত্তিতে পালন করার অনুরোধ জানাই।”

প্রখ্যাত এই সাংবাদিক ‘ভালোবাসা দিবস’-কে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ভ্রান্তি কাটানোর জন্য বলেন, “এখানে মনে রাখতে হবে, এটি ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ নয়। অনেকে ভুল করে, এই দিনকে এটা মনে করেন। জাতিসংঘ বিশ্ব নারী দিবস, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, বিশ্ব ছড়ি দিবস প্রভৃতির ঘোষণা দিলেও ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’র ঘোষণা তারা দেয়নি।”

এরপরও ‘ভালোবাসা দিবস’র যে ব্যাপকতা এবং ভালোবাসার গভীরতাকে বোঝাতে শফিক রেহমান বলেন, “মজার ব্যাপার এই যে, জাতিসংঘের ঘোষণা ছাড়াই এই একটি দিনে অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সবাই একযোগে ‘ভালোবাসার দিন’ পালন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন উৎসব আছে। যেমন-ঈদ, পূজা, বড়দিন, বৌদ্ধপূর্ণিমা। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে নববর্ষ উদযাপনের রীতিও আছে। যেমন- বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ, ইরানে নওরোজ এবং স্কটল্যান্ডে থার্টিফার্স্ট নাইট। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিথে বিভিন্ন দিন পালিত হয়ে আসলেও, ভালোবাসার দিন কিন্তু সব দেশেই একই তারিখে পালিত হয়। ভালোবাসার আবেদন যে কতো গভীর ও বিশাল তা এতেই বোঝা যায়।”

তাছাড়া বাংলাদেশে সঙ্গে এই ভালোবাসার দিনের যে গভীর সম্পর্ক আছে তা-ও বুঝিয়ে বলেন শফিক রেহমান, “কাকতালীয়ভাবে, ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখটি বাংলা বছরের ২রা ফাল্গুন। অর্থাৎ বসন্তের দ্বিতীয় দিন। ভালোবাসা প্রকাশের এর চেয়ে ভালো দিন আর কি হতে পারে? তাই এটা দেখে আমি আশ্চর্য হই না যে, ভালোবাসার এই দিন এতো দ্রুত শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে গেছে। অনেকেই এই দিনে যে শুধু প্রেম নিবেদন করে তা কিন্তু নয়। অনেকে এই দিনে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং বিয়েও করেন। তাই, আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সহিংসতার বিপরীতে ভালোবাসার জয় হবেই।”

সব দিবসেরই তো একটা স্লোগান থাকে, ‘ভালোবাসা দিবস’র কী স্লোগান হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে ‘ভালোবাসার দিন’র উদ্ভাবক বলেন, “স্লোগান হলো চলমান ধারাকে নতুন আঙ্গিকে মানুষের কাছে উপস্থাপন করা। যেমন ধরা যাক- মানবাধিকার দিবস একটা নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে তাদের বছর শুরু করলো। নির্দিষ্ট পয়েন্টে আবদ্ধ থেকে তারা তা পূরণের চেষ্টাই করবে। ভালোবাসা দিবসেও এমন স্লোগান থাকতে পারে, যা প্রতিবছর ভালোবাসাকে নতুন নতুন আঙ্গিকে সবার সামনে উপস্থাপন করবে। ভালোবাসার নতুন নতুন দিক। যেমন, এবারের ভালোবাসা দিবসের স্লোগান হতে পারে ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে ভালোবাসা আনুন’ কিংবা ‘ভালোবাসার দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বর্জনের পক্ষে সোচ্চার হোন’ এমন কিছু।”

‘ভালোবাসা দিবস’-কে পুঁজি করে যে বাণিজ্য হয় সে ব্যাপারে শফিক রেহমান বলেন, “ভালোবাসা দিবসকে পুঁজি করে বাণিজ্য হলে তো ভালোই। আমি এর প্রশংসা করি। এই দিনকে কেন্দ্র করে একজন ব্যানার আঁকিয়ে যদি কিছু অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারেন, তা অবশ্যই ইতিবাচক। বার্তা২৪ ডটনেট যদি এই দিবসকে পুঁজি করে কোনো বিশেষ বিজ্ঞাপন পেয়ে থাকে, তা নিঃসন্দেহে ভালো। আমি এই বাণিজ্যকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের দেশের বর্তমানে অর্থনীতির যে অবস্থা, তাতে যদি কেউ ভালোবাসার দিনে একটু আয়ের মুখ দেখতে পারে তাতে মন্দ কী? রমনা বটমূলে বসে ভিক্ষা করার চেয়ে, ভালোবাসার দিনকে পুঁজি করে ব্যবসা করা অনেক ভালো। আর কে না বাণিজ্য করে? একজন পিতাও তার সন্তানকে বড় করে এবং আশা করে এই সন্তান তাকে একসময় আয় করে খাওয়াবে।”

তবে ভালোবাসার দিনে ভালোবাসাটাই মুখ্য থাকবে এটাই সবার কাম্য এবং আড্ডা শেষে ‘ভালোবাসা দিবস’র শুভেচ্ছা জানিয়ে শফিক রেহমানও এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বার্তা২৪

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to ‘ভালোবাসার দিন’

  1. Rjib hossain

    February 14, 2012 at 11:55 am

    Many many thanks for information