Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘ক্ষমতায় গেলে সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করবে বিএনপি’

 কুকীর্তি ঢাকা দিতেই সরকার নানা কৌশল করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে। দুঃশাসন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। তদন্ত করেছে সরকারের নিয়োগকৃত লোকজন, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারকই এ রায় দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের এই সাজানো নাটক জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন এ সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে সকল মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করবে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের সব মৌলিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। এ সরকার বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার করেনি। পদ্মা সেতু, ডেসটিনি, হল-মার্ক, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট চালিয়েছে। এখন তাদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকতে যে ষড়যন্ত্র করছে তা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, যতই রাজনীতি আর কৌশল করুন না কেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, দেশে বর্তমানে যে সঙ্কট চলছে তার থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হস্তান্তর। তাই দেশবাসীর উদ্দেশে বলতে চাই, আসুন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। জনতার বিজয় অনিবার্য। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণ যখন সরকারের থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের কুকীর্তি ধামাচাপা দিতে সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করছে। সরকার যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে নাটক করছে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে রাজনীতি বন্ধ করুন। ষড়যন্ত্র বা কৌশল করে কোন লাভ হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল তা শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন যেটা করছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ আওয়ামী লীগ গঠিত অপরাধ  ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অনাস্থা দিয়েছেন। সঙ্গতকারণেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। শাহবাগে তরুণদের প্রতিবাদ নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিকে শাহবাগ ছিল প্রতিবাদী তরুণদের প্রতিবাদের চত্বর। এখন ধীরে ধীরে তা আওয়ামী চত্বরে পরিণত হয়েছে। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সরকার আসলে বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। এর সব কিছু ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করা বিচারক নিজামুল হক নাসিম ফাঁস করে দিয়েছেন- কিভাবে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়েছে- ফাঁসির রায় দিলেই আপিল বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে। খোকা বলেন, শাহবাগের আন্দোলন এ সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গণঅনাস্থা। নিজেদের লোকজনই এ সরকারের বিরুদ্ধে গণঅনাস্থা দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যখন কোন কৌশল করতে পারছে না ঠিক তখনই জামায়াত-শিবিরকে মারধর শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে যাতে জামায়াত অংশ নেয় এ জন্যই জামায়াতের ওপর এ অত্যাচার। খোকা বলেন, কয়েকজনের নামমাত্র বিচার ও ফাঁসি হলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করতে হলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি প্রতিবাদী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের পাশাপাশি জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার হয়ে জাতীয় আন্দোলনে শরিক হোন। গতকালের সমাবেশে বক্তব্য প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের। সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য দেন। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, মে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরীসহ বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন। এক পর্যায়ে নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুর আড়াইটায় বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে নয়াপল্টন। সমাবেশ চলাকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে অবস্থান ও স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ বিচারের একটি রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে সৃষ্ট তারুণ্যের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহে রাজধানীসহ সারাদেশে পূর্বঘোষিত তিনটি কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপি। পরে সরকারের দুঃশাসনের প্রতিবাদে ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট