Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যেভাবে খুন হন ব্লগার রাজীব

শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন (৩৫)কে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রাতে পল্লবী থানাধীন পলাশনগর ৫৬/৩ নম্বর বাড়ির সামনে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহত রাজীব স্থপতি প্রকৌশলী ও ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী  এবং শাহবাগে চলমান গণজাগরণের নেতা ইমরান এইচ সরকারের ঘনিষ্ট বন্ধু। নিহত রাজীব ‘থাবা বাবা’ নামে ‘আমার ব্লগ’ ও ‘নাগরিক ব্লগ’-এ লিখতেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহবাগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্লগাররা। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী ইমরান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। নিহতের স্বজনরা জানান, ব্লগার রাজীব শাহবাগ আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। শ্লোগান দিয়েছেন। এছাড়া সাইবার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এর জের ধরে আন্দোলন বিরোধী জামায়াত-শিবির তাকে হত্যা করতে পারে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে মিরপুর বাউনিয়া বাঁধ সংলগ্ন পলাশ নগরের ৫৬/৩ নম্বর বাড়ির সামনে কালো মুখোশপড়া কয়েকজন যুবক আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে ঘিরে ধরে। এরপর তারা রাজীবকে কুড়াল ও চাপাতি দিয়ে এলোপাথারি কোপাতে শুরু করে। এসময় রাজীব প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মুখোশপড়া আততায়ীরা তাকে দৌড়ে ধরে পুনরায় কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। রাজীবের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। তখন আশপাশের স্থানীয় লোকজন চিৎকার করে এগিয়ে গেলে ওই মুখোশপড়া সন্ত্রাসীরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই লাশ উদ্ধার করে। পল্লবী থানার ওসি আবদুল লতিফ শেখ বলেন, লাশের পাশে একটি ল্যাপটপ, চশমা ও মোবাইল ফোন পড়ে ছিল। লাশের ১শ’ গজ দূর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে রক্তাক্ত ১টি চাপাতি ও ১টি ছুরি। হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসাবে এগুলো জব্দ করা হয়েছে। এদিকে শাহবাগের আন্দোলনকারী ব্লগাররা জানিয়েছেন, রাজীব বাসায় খাবার খেয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে শাহবাগ মোড়ে আসেন। এর প্রায় এক ঘন্টা পর তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ওই ফোনে কথা বলেই রাজীব বাসার দিকে রওনা দেন। এ থেকে ব্লগাররা ধারণা করছে রাজীবকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজীবের মামা খুররম হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, রাজীব গতকাল বিকেল তিনটার দিকে শাহবাগ থেকে বাসায় আসেন। এরপর সে ল্যাপটপে বসে ব্লগিং শুরু করেন। এরপর বিকাল ৪টায় আবার শাহবাগ ফিরে যান। শাহবাগ থেকে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে আসার পথে বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর আশপাশের লোকজন ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলন করায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাকে হত্যা করেছে। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, তার পিতার নাম ডা. নাজিম উদ্দিন। মায়ের নাম নারগিছ আক্তার। মা নারগিছ আক্তার কাপাশিয়া থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা। তার পিতা-মাতা দু’জনেই কাপাশিয়ায় থাকেন। তবে রাজীবের ছোটভাই নোবেল এবং রাজীব মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ৫৬ নম্বর পলাশনগর বাড়িতে থাকতেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট