Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মোমের আলোয় প্রতিবাদ

ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিট। শাহবাগ স্কয়ারে উপচে পড়া জনস্রোত দাঁড়িয়ে গেল ‘জয় বাংলা’ বলে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে নীরবে এক মিনিট দাঁড়িয়ে রইলেন সবাই। এরপর সবার হাতে হাতে উঠলো মোমবাতি। মোমের আলোয় নীরব প্রতিবাদ। এভাবে দেশজুড়ে প্রদীপ জ্বেলে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শস্তির দাবি জানিয়েছেন লাখো মানুষ। শাহবাগের আলোর মিছিল কিছুক্ষণের জন্য ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানীর সব রাস্তায়। আলোতে, স্লোগানে জানানো হয়েছে প্রতিবাদ। গণভবনে নাতনির হাতে মোম বাতি তুলে দিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। জাতীয় সংসদের সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাইরে এসে আলোর প্রতিবাদে শরিক হন। মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএল-এর ম্যাচ চলাকালেই খেলোয়াড়রা মোমবাতি জ্বালিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। শাহবাগ স্কয়ারে আলোর মিছিল চলে সাত মিনিট ধরে। এরপর সেখান থেকে ঘোষণা দেয়া হয় শুক্রবার তিনটায় জাগরণ সমাবেশ করার। এই সমাবেশ থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
বিকাল তিনটায় শুরু হবে আজকের সমাবেশ। চলবে ৫টা পর্যন্ত। মোমবাতি প্রজ্বলনের পর এ ঘোষণা দেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক-এর আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার। এর আগে গত  শুক্রবার মহাসমাবেশ পালন করা হয়। দ্বিতীয়বারের মতো আজ সমাবেশের ডাক দেয়া হলো। শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী দিকনির্দেশনা আসবে আজকের সমাবেশ থেকে। দাবি আদায়ে কয়েক দিনের একটি নির্দিষ্টি সময়ের মধ্যে সমাবেশ বেঁধে দেয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারেন আয়োজকরা। সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইমরান আরও বলেন, আমাদের যে ক’টি প্রধান দাবি ছিল, তার একটি, ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের দাবি বাস্তবায়নের পথে। আইনটি রোববার সংসদে পাস হবে বলে আমরা আশা করছি। এটি আমাদের আরেকটি প্রাথমিক বিজয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াতে ইসলামীর সামপ্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধসহ অন্যান্য যে দাবি শাহবাগের মঞ্চ থেকে এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সারা দেশকে ‘একাত্ম’ করতে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি। যার যার অবস্থান থেকে সবাই একটি করে মোমবাতি ধরিয়ে শামিল হন প্রতিবাদে। ৫ই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক। ধীরে ধীরে তা রূপান্তরিত হয় জনতার আন্দোলনে। এরপর টানা আন্দোলন চলছে। আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন সবাই।
সংসদে মোমবাতি জ্বালালেন এমপিরা: ‘প্রজন্ম চত্বরে’র তরুণদের আহ্বানে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে হৃদয়ের আগুন মোমবাতির মাধ্যমে জ্বালিয়ে দিলেন জাতীয় সংসদের দুই শতাধিক এমপি। গতকাল সংসদ অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সন্ধ্যা সাতটার আগেই জমা হন এমপিরা। ’৬৯-র তুখোড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে শ্লোগানে প্রকম্পিত করেন সংসদ এলাকা। এ যেন কিছু সময়ের জন্য ’৬৯ আর ’৭১-এ ফিরে যাওয়া। ‘তোমার আমার ঠিকানা/ পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/, তুমি কে/আমি কে/ বাঙালি বাঙালি’- স্লোগানে এমপিরাও আজকের প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের কণ্ঠ মেলালেন। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে কণ্ঠ মেলাতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীও। সন্ধ্যা সাতটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেন জনপ্রতিনিধিরা। সবারই হাতে প্রজ্বলিত মোমবাতি। আগুনের শিখা আর নীরবতা যেন বাবরবার বলছে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়/ রাজাকারদের ঠাঁই নাই।’ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অন্যান্য এমপির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমীর হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ আবদুুস শহীদ, মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংসদ বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা। কর্মসূচি শেষে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘৬৯-এ যে বাঙালি জাতি অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল দীর্ঘ ৪০ বছর পর আজ আবারও তারা জেগে উঠেছে। তখনও তার নেতৃত্বে ছিল তরুণরা। এখনও তরুণরাই জেগে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, যখন তরুণ সমাজ জেগে ওঠে, তাদের পথ রুদ্ধ করার মতো কেউ থাকে না। বিল পাসের মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো হবে। চিফ হুইপ আবদুস শহীদ বলেন, রাজাকার-আলবদররা এদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে সেই জাতিকে আবার আলোকিত করলো তরুণ সমাজ। এ থেকেই ধারণা করা যায় ইতিহাস সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে না।
যেভাবে দিনের কর্মসূচি শুরু: দিনের আলো ফুটতেই সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের ১০ম দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৬টা ৫ মিনিটে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকার শপথ নেন। জাতীয় সংগীত শেষে সম্মিলিত কণ্ঠে তারা স্লোগান ধরেন ‘ফাঁসি, ফাঁসি, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।
আলোকচিত্র প্রদর্শন: চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তায় মুক্তিযুদ্ধকালে আলোকচিত্র প্রদর্শন করছে রংপুর জেলার প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা ১০ জন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধকালে বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন করছি। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিদিনই প্রতিবাদী গান ও গণসংগীতের মাধ্যমে প্রাণবন্ত রাখছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও উদীচী। এছাড়াও গ্রাম বাংলা থিয়েটার পরিবেশন করছে প্রতিবাদী কবিতা, থিয়েটার করছে গান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগ সংগ্রহ করছে স্বাক্ষর এবং ছবির হাটে চলছে প্রতিবাদী চিত্রকলা প্রদর্শনী।
ক্রীড়া সংগঠন ও তারকাদের সংহতি: তরুণদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন এবং সাবেক ও বর্তমান তারকা খেলোয়াড়রা। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে শাহবাগের আন্দোলনস্থলে আসেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, যারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তাদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে ক্রীড়াঙ্গনের সবাই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সরকাদের উচিত দ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বাদল রায়, ক্রীড়া পরিবারের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবুল, কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান, জিমন্যাস্টিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ রহমান বাবুল, টেনিস ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আবু সালেহ মো. ফজলে রাব্বি খান, সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিজ উদ্দিন, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম, চেঙ্গিস, হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর, তায়কোয়ান্ডে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইাসলাম, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গাজী সাইফুল তারেক, কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহসান বাদল, কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নিজামুদ্দিন চৌধুরী, শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইনতেখাবুল হামিদ, ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হামিদা বেগম, হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতুল্ল, বাস্কেট বল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক একে সরকার, ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেইউ আকসির, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম, ফুটবল তারকা শেখ আসলাম, আবদুল গাফফার, ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু, শুটিং তারকা সাবরিনা সুলতানা প্রমুখ। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সংহতি জানিয়েছেন।
বিভিন্নজনের সংহতি: আন্দোলনে গতকালও সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্নজন। অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা সকাল ১১টার দিকে প্রজন্ম চত্বরে এসে সংহতি জানান। বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল-ও জানান। এছাড়া রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর বালিকা আইডয়াল ল্যাবরেটরি ইনিস্টিটিউট, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সংহতি জানান। দুপুরে চত্বরে সংহতি জানাতে আসেন বীরাঙ্গনা রওশন আরা। তিনি বলেন, একাত্তরে রাজাকাররা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। আমাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালায়। কিন্তু আমি তার কোন বিচার পাইনি। আমি অনেক জায়গায় এর বিচার চেয়েছিলাম। কেউ আমার কথা শোনেনি। তাই আজ এ গণজাগরণের প্রতিবাদী জনতার কাছে বিচার দিলাম। তিনি বলেন, আমার দু’ছেলে আজ এতিম। আমার বোনের স্বামী ছিল রাজাকার। সে আমাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সংহতি: শাহবাগের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের ডিন সেরাজুল হক, চেয়ারম্যান বসন্ত কুমার বর্ধন, বিজনেস বিভাগের শিক্ষক সাইদ আলম প্রমুখ। ড. ফরাস উদ্দিন আন্দোলন মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
হায়দারের গানে উজ্জীবিত জনতা: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী হায়দার হোসেন। দুপুর পৌনে ১টায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে আসেন তিনি। এ সময় তিনি সংগীত পরিবেশন করেন। তার গানে উজ্জীবিত হয়ে হয়ে ওঠে আন্দোলনস্থল। হায়দারের গাওয়া ‘বিচারপতি বিচার করো, সত্য ন্যায়ের বিচার চাই’ প্রতিবাদী এ গানটিতে এ সময় কণ্ঠ মেলান সবাই। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তিনি গান শেষ করেন। তিনি আয়োজকদের আহ্বানে যুদ্ধাপরাধীদের টিভি চ্যানেল ও সকল প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে বয়কট করার ঘোষণা দেন।
বিশাল আকৃতির ঝাড়ু: রাজাকারদের ঝাড়ু পেটা করতে ৪০ ফুট লম্বা ঝাড়ু স্থান পেয়েছে গণজাগরণ চত্বরে। চারুকলার সামনে বিশাল আকারের এ ঝাড়ুটি শোভা পাচ্ছে। ঝাড়ুটি রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঝাড়ুর এক অংশে লেখা রয়েছে, ‘মঙ্গল আনো দেশের-দশের, রাজাকারের গুষ্টি ধরে, জোরে জোরে ঝাঁটা মারো।’
জেলায় জেলায় কমিটি: আন্দোলন আরও বেগবান করার জন্য জেলায় জেলায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা: গতকাল সকাল থেকেই প্রজন্ম চত্বরের চারিদিকে কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো  হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। সেখানে অস্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ প্রজন্ম চত্বরে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করেছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রীদেরও ব্যাগ তল্লাশি বাদ যায়নি। চত্বরে চারটি প্রবেশপথ বিশেষ করে আজিজ সুপার মার্কেটের রাস্তা, শিশু পার্ক মোড়, রূপসী বাংলার প্রবেশপথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব। এ বিষয়ে প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানকারী পুলিশের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, জামায়াত-শিবিরের হামলা হতে পারে এজন্য সকাল থেকে এক হাজার র‌্যাব, পুলিশ এ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
স্বেচ্ছায় রক্তদান: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা রক্তের প্রয়োজনে আসছেন শাহবাগ। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের প্রতিবাদী তরুণরা মানুষের প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছেন। রক্তের প্রয়োজন হলেই মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিচ্ছেন। বিভিন্ন গ্রুপের রক্তদানকারী স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন মানুষের জন্য এ সহায়তায়।
ভালবাসা দিবসের স্লোগান: ভালবাসা দিবসে নতুন স্লোগান দিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। দুুপুরে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে তিনি স্লোগান তোলেন, ভালবাসি দেশ/ ভালবাসি মানুষ।
রাজাকারবিরোধী ব্রিগেড গড়ার ডাক: রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পাড়ায়-মহলায় ‘ব্রিগেড’ গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রজন্ম চত্বরের অগ্নিকণ্ঠী লাকি আক্তার। ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান তিনি। এদিকে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসে ‘অগ্নিকন্যা’ লাকি আক্তারের জন্য কবিতা আবৃত্তি করেছেন সাদিয়া জামান ফাতিমা শিখা নামের এক নারী মুক্তিযোদ্ধা। ‘বসন্ত দিনের স্বপ্নকুমারী’ নামের কবিতাটি তিনি নিজেই লিখেছেন। তিনি বলেন, লাকিকে দেখলে আমার সেই একাত্তরের কথা মনে পড়ে। তখন আমরাও সংগ্রামের মধ্যে ছিলাম। তাই আমি নিজে লাকিকে উৎসর্গ করে কবিতা লিখেছি।
সাবেক ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি: সাবেক ছাত্র নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন শাহবাগে। তবে তারা কোন বক্তব্য রাখেননি। নেতাদের মধ্যে ইসহাক আলী খান পান্না, রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজেকুজ্জামান রতন, বজলুর রশিদ ফিরোজ, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার রোটন, লিয়াকত শিকদার, ডাকসুর সাবেক জিএস ড. মুশতাক আহমেদ, নাজমুল হক প্রধান, শিরিন আকতার, মানবেন্দ্র দেব, র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাবু, অজয় কর খোকন, রফিকুল ইসলাম কতোয়াল প্রমুখ সেখানে উপস্থিত হন।
আহ্বান: জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মিডিয়ায় কোন ধরনের প্রোগ্রাম ও বিজ্ঞাপন না দেয়ার জন্য শিল্পী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টায় শাহবাগ মোড়ের নবজাগরণ মঞ্চ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। মঞ্চ থেকে মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়, আমাদের শিল্পী বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি অতীতে যারা দিগন্ত টিভিতে প্রোগ্রাম করেছেন তারা যেন আজ থেকে না করেন। এদের কোন ধরনের অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম না দেন। সেই সঙ্গে কোন বিজ্ঞাপনদাতা যেন তাদের মিডিয়ায় বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেন। কারণ এরা স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট