Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যেভাবে শাহবাগ স্কয়ারের গণজোয়ার

ঠিক ইন্টারনেটের গতির মতোই কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগে জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয় ব্লগাররা। সঙ্গে করে ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’ লেখা ব্যানারও নিয়ে আসে। মঙ্গলবার বেলা তখন দেড়টা থেকে দুইটা। ধীরে ধীরে জাদুঘরের সামনে ব্লগারদের ভিড় বাড়তে থাকে, জড়ো হয় কুড়ি থেকে পঁচিশ জন। তার আগে রায় প্রকাশিত হওয়ার কয়েক মিনিটের ভেতরই ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভেটিস্ট নেটওয়ার্ক-এর নামে ম্যাসেজ দেয়া হয়- ‘হয় মান, না হয় প্রাণ, রাজাকারের ফাঁসি চাই, ফাঁসি ছাড়া পথ নাই’। ম্যাসেজ দেয়া হয় শাহবাগে আসতে। শাহবাগের জাদুঘরের সামনে অনেকদিন ধরেই আড্ডা দেন কুড়ি পঁচিশজন ব্লগার। তিন মাস আগে তারা একটি সংগঠন গড়ে তুলে নাম দেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভেটিস্ট নেটওয়ার্ক। শাহবাগের সামনে প্রথমে আসেন ডা. ইমরান। প্রথমে অল্প কয়েকজন লোক নিয়েই তারা বসে পড়েন শাহবাগ মোড়ে। কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই লেখা ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেন। ব্যানার দেখে তাদের সঙ্গে বসে পড়েন আরও কিছু ছাত্র তরুণ। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে ওই দিন বিকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোট সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মশাল মিছিলের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত প্রগতিশীল ছাত্র জোটের অন্য শরিকরা হলো- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের স্থান বলে পরিচিত টিএসসি এলাকার একটি অংশ জুড়ে বইমেলা চলার কারণে প্রগতিশীল ছাত্রজোট তাদের মশাল  মিছিল করতে শাহবাগের দিকে আসে, ব্লগারদের মধ্যে একটি অংশ বামপন্থি থাকায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সঙ্গে ব্লগারদের সমঝোতা হয় এক সঙ্গে কর্মসূচি পালন করতে। সমঝোতার পর প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। অবস্থানের খবর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছলে ছাত্র সংহতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সহ অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শাহবাগের অবস্থানে যোগ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অবস্থানে যোগ দেয়, বিভিন্ন হল থেকে সাধারণ ছাত্ররাও আসতে থাকে শাহবাগের দিকে, যোগ দিতে থাকে সাংস্কৃতিক কর্মীরাও। বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ডেকে আনেন ক্যাম্পাসে শিবির বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ। রাতের বেলা শাহবাগের অবস্থান জমিয়ে তুলে চারুকলার শিক্ষার্থীরা। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে রাতভর অবস্থান চলে প্রতিবাদী তারুণ্যের। পরদিন ৬ই ফেব্রুয়ারি সকালে প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর ও রথীন্দ্রনাথ রায় এসে সংহতি প্রকাশ করে সংগীত পরিবেশন করলে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আরও  জমে ওঠে শাহবাগ। এভাবেই সৃষ্টি হয় শাহবাগ  স্কোয়ারের। ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশের পথ এসে মিশে গেছে শাহবাগে, শাহবাগ হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী জনতার মিলন ক্ষেত্র।
মাত্র কয়েকজন প্রগতিশীল ব্লগার, মুক্ত চিন্তার মানুষ জন্ম দিয়েছে শাহবাগ স্কোয়ারের, গোটা দেশের মৌলবাদ বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির অন্তরে নতুন করে আরেকটি একাত্তরের নাড়া দিয়েছে। তাদের অন্যতম প্রধান নায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষ, জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারি গ্রামে। পিতা আবদুল মতিন সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। আগে রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কমিটির সদস্য। ইমরান পড়াশোনা করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজে, ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকেও একটি কোর্স শেষ করেছেন। বর্তমানে ইমরান ব্লগে লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত। তবে স্বাচিপ সমর্থক বলে জানা গেছে। তিনি কোন চাকরি করেন না। সংগঠক হিসেবে পরিচিত আরও চার ব্লগার হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী মারুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী পিয়াল। বামপন্থি বলে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া থেকে বিবিএ পাস করে আসা অমিত এবং ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র মাহবুব। এছাড়া এ আন্দোলনের সঙ্গে থাকা মোফাখারুল ইসলাম তৌফিক তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স পাশ করেছে। বর্তমানে বি্‌িবএ পড়ছে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তৌফিকের বাড়ি গাইবন্ধা জেলায়। লক্ষীপুরের ছেলে সুজিত সাহা পড়াশোনা করছে বয়েটের সিভিল প্রকৌশল বিভাগে। হাসান এখন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাষ্টার্স পাশ করেছে। সৈয়দ জাকির হোসেন রনি একটি কোম্পানীতে চাকুরী করে। আন্দোলনে সোচ্চার তম্ময় বয়েটের ছাত্র। ব্লগার ডা. হালিম, চলচিত্র কর্মী বিন্দু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজান, মাহমুদুর রহমান।
এছাড়াও শাহবাগের আন্দোলনকে গতিময় করে তুলতে আড়ালের কাজগুলো করতে থাকেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কমরেড প্রসাদ রায়ের সন্তান অঞ্জন রায়, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মাসুম, বাকিবিল্লাহ, সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন সহ ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান নেতা হাসান তারিক ও শুভ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট