Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদন

রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আপিলের সুযোগ এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা জানান। একই বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন-২০১৩ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই আইনের এই সংশোধনী বিল আকারে পাস হবে। ফলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী  সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সংশোধিত আইনেই আপিল করা যাবে বলে আশা করা যায়। এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে  বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানিয়েছিলেন, সোমবারই আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, এ আইন সংশোধনের পর প্রসিকিউশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উভয়েই আপিল করতে পারবে। আইনের সমান সুযোগ তৈরি করতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির আপিলের সুযোগ থাকলেও প্রসিকিউশন বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আপিল করতে পারে না। আইন সংশোধনের পর দুই পক্ষই আপিল করতে পারবে। তিনি জানান, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল বিভাগ ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে। বাড়তি সময় প্রয়োজন হলে আদালত আরও ১৫ দিন সময় নিতে পারবে। অর্থাৎ আপিল করার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। এমনিতে কোন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে নথিপত্রের পেপার বুক তৈরির নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে তার প্রয়োজন হবে না। এতে অনেক কম সময়ে আপিল নিষ্পত্তি করা যাবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব তথ্য-উপাত্ত দিয়ে মামলা পরিচালনা হয়েছে বা আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এ সংশোধনীর ফলে তাতে কোন প্রভাব পড়বে না। এ সংশোধনী একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তন। এর আগে ১৯৭৩ সালের আইনে সরকারের আপিলের কোন সুযোগ ছিল না। পরে ২০০৯ সালে আইন সংশোধন করে এতে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ যোগ হয়। এখন আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির মতো সরকার বা প্রসিকিউশনেরও আপিলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসকে সংজ্ঞায়ন ও আইনকে আরও যুগোপযোগী করতে এ সংশোধন করা হচ্ছে। সন্ত্রাস, বৈশ্বিক সমস্যা এবং ক্রস বর্ডার টেরোরিজম বাড়ছে। তাই আন্তঃরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া কার্যকরভাবে সন্ত্রাস দূর করা যায় না। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের ডেফিনেশনগুলোকে ডিফাইন না করতে পারলে সন্ত্রাস দমন করা যাবে না। ক্রস বর্ডার সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসকে সংজ্ঞায়িত করতে আইনে কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০১২ সালে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন পাস হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসে অর্থায়নের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়। এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দি পার্টনারশিপ (সংশোধন) আইন-২০১৩’-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিভিন্ন সার্ভিসের ফি চার টাকা, ১০ টাকা এমনকি দেড় টাকাও ছিল, যা সেকেলে। এসব সার্ভিস ফি সামঞ্জস্য করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। এই আইন সংশোধনের ফলে চার টাকার একটি আবেদনপত্রের দাম চারশ’ টাকা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য ফিগুলোও বাড়বে। বৈঠকে বাংলাদেশ পানি সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। গত বছরের ২১শে মে এই আইনটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পানি সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাই আইনের মূল লক্ষ্য। পানি নিয়ে একটি নীতি আছে কিন্তু একটি আইনি কাঠামো থাকলে নীতি বাস্তবায়ন সহজ ও কার্যকর হয়। পানি ব্যবস্থাপনা, পানির সদ্ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে বিধি-নিষেধ, পানির লেভেল-সীমা নির্ধারণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা, পানি দূষণ রোধ সংক্রান্ত বিষয় এই আইনে রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংজ্ঞায়িত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন-২০১৩ এ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনটি লঙ্ঘন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, সড়ক সংরক্ষণ তহবিল বোর্ড আইন-২০১৩ এর খসড়াতেও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। গত বছরের ১০ই সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা কিছু পর্যবেক্ষণ রেখে এই আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়। এছাড়া, ‘দি সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন-২০১৩ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট