Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আজ তিন মিনিট স্তব্ধ থাকবে দেশ

আজ তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে পুরো বাংলাদেশ। বিকাল ৪টায় সবাই যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাবে যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনে। গতকাল শাহবাগ আন্দোলনের সপ্তম দিনে এ আহ্বান জানানো হয়েছে দেশবাসীর প্রতি। এ দিনেও স্লোগান, প্রতিবাদে উত্তাল ছিল শাহবাগ স্কয়ার। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঢল নেমেছিল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। আন্দোলন চালিয়ে যেতে গতকাল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ভোরের আলো ফোটার পরপরই বাড়তে থাকে শাহবাগ স্কয়ারে জনসমাগম। দিনভর পুরো এলাকায় আসতে থাকা জনস্রোত বিকালে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তুলেন শাহবাগের বাতাস। কিছুক্ষণ পরপর গণসংগীত গেয়ে আন্দোলনকারীদের উজ্জীবিত করে রাখা হয়। টানা সাতদিন ধরে অনেকে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাদের মুখে নেই কোন ক্লান্তির ছাপ। গতকালও সংহতি জানান বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন। দুপুরের দিকে কিছু সময় যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য মাইক বন্ধ থাকলেও থেমে থাকেনি স্লোগান। তখন উপস্থিত সবার কণ্ঠেই জোরালো ছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনে সংহতি জানান চিত্রনায়ক ফারুক। তখন উপস্থিত জনতা তাকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। দুপুর দেড়টার দিকে অভিনেত্রী অপি করিম ও ডলি ইকবালের নেতৃত্বে কয়েকজন নৃত্যশিল্পী সমাবেশে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় তারা রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে একত্রে স্লোগান ধরেন। আন্দোলনকারীদের উজ্জীবিত করতে কিছুক্ষণ পরপর উৎসাহমূলক ঘোষণা দেয়া হয়। বিকালে নাট্যকার ড. ইনাম আহমেদ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন। বিকাল পাঁচটায় সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কেএম সফিউল্লাহ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দেশে কিছু বিশ্বাসঘাতক রয়ে গেছে আমরা ভাবিনি। কিন্তু এবার তাদের রক্ষা হবে না। সন্ধ্যার পর আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রাত ১০টার দিকে  লোকসমাগম কিছুটা কমলেও রাতভরই চলে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান।
গতকালও ছিল শিক্ষার্থীদের দখলে: গতকাল শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল । সকাল থেকেই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করেই সমাবেশে আসতে শুরু করেন। বাড়তে থাকে সমাবেশের পরিধি। সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ওই বিভাগের শিক্ষকদের নেতৃত্বে সমাবেশে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা ঢোল-বাদ্য নিয়ে নেচে গেয়ে নানা স্লোগান দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান। এরপর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুলের শিক্ষার্থীরা কয়েকজন শিক্ষকের নেতৃত্বে  জাগরণ চত্বরে প্রবেশ করেন। তারা মিছিল সহকারে সারিবদ্ধভাবে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানান। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দেন। এভাবে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করেই চলে আসেন রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনে। স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তুলেন গণজাগরণ চত্বর। গণসংগীতে মাতিয়ে রাখেন উপস্থিত জনতাকে। এসেছিল মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। ১০টি বাসে করে, ২০ জন শিক্ষকের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষার্থীরা এ সমাবেশে যোগ দেন।
শোলাকিয়ার ইমামের সংহতি: কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনরতদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। দুপুরে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সকল মুসলিম ও ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানাতে এসেছি। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। হিটলার-নাৎসী পন্থিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। তিনি আরও বলেন,  হে আল্লাহ, যারা ৭১-এ আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে তাদের বিচার তুমি কর। বিচারপতিরা জালিম। তারা সঠিক বিচার জানে না। তাদের বিচার আল্লাহ করবেন। তিনি আরও বলেন, হে আল্লাহ তুমি লক্ষ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমাদের এ প্রার্থনা কবুল কর। জামায়াত-শিবির নিপাত যাক। মোনাজাত শেষে তিনি আন্দোলনকারীদের সাফল্য কামনা করেন।
ব্যবসায়ীদের সংহতি: এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা শাহবাগের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিকালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এ সংহতি প্রকাশ করে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বর্তমান সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ পরিচালকরা। এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, সারা দেশের সাড়ে তিন কোটি ব্যবসায়ী এ আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে, থাকবে। আন্দোলনে যে কোন ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আজ দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ দেখালে তোমরা। মুক্তিযুদ্ধের পরে এতো বড় আনন্দ আর দেখিনি। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ যেদিন দেখব সেদিন সবচেয়ে খুশি হবো।
চিত্রনায়ক ফারুকের সংহতি: শাহবাগে আন্দোলনরতদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলা চলচ্চিত্রের চিত্রনায়ক ফারুক। বেলা ১২টায় তিনি গণজাগরণ মঞ্চে আসেন এবং উপস্থিত তারুণ্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এসময় তিনি বলেন, তারুণ্যের এ জাগরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই- এ কথা তরুণ প্রজন্ম ঘুণে ধরা রাজনীতিবিদদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংহতি: গতকালও শাহবাগের আন্দোলনের প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকরা সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারস এসোসিয়েশন, ইউনিভার্সিটি অব ল্যাবরেটরি স্কুল, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়,  শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজ, ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়, রেডক্রস কলেজ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা পলিটেকনিক কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়, নূর  মোহাম্মদ রাইফেলস কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজ, ইস্কাটন গার্ডেন গার্লস হাইস্কুল, প্রভাতী বিদ্যানিকেতন, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ।
১৯৭১ বর্গফুটের ব্যানার:  ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। তার সঙ্গে মিল রেখে আজিজ সুপার মার্কেট থেকে শাহবাগ মোড়ে বিশাল আকারের ১৯৭১ বর্গফুটের ব্যানার বিছিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ। এই ব্যানারটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এই দরদে সালাম জানান এক মুক্তিযোদ্ধা। বলে ওঠেন, বাবা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ করা সার্থক মনে হচ্ছে। এতদিন মনে হত কি জন্য যুদ্ধ করলাম আর কিইবা  পেলাম। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সঠিক কাজই করেছি। ব্যানারটিতে লেখা হয়েছে, ১৯৭১-এ পেরেছি, ২০১৩তেও পারবো। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবেই। কারণ ১৯৭১’র  রেসকোর্স ময়দানই ২০১৩তে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। বিশাল আকারের এই ব্যানারটি গণস্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিশাল আকারের ব্যানারটি এরই মধ্যে স্বাক্ষরে ভরে গেছে। তারপরও অনেকে চাইছে নিজের ক্ষোভ ঝাড়তে। কোথাও এক চিলতে ফাঁকা পেলেই লিখছেন মনের আবেগ ও দাবির কথা।
আন্দোলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ: রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ স্কয়ারে চলা সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস শেষ করেই যোগ দিচ্ছেন শাহবাগে। সমাবেশের বাইরে বৃত্ত তৈরি করে নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাস করছেন। গগনবিদারী স্লোগানে রাজাকারদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে যোগ দিচ্ছেন শাহবাগে। ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে নেচে-গেয়ে তৈরি করছেন অন্য রকম আবহ। বাদ যান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। তারাও নেচে গেয়ে আন্দোলনে ছড়াচ্ছে উৎসবের রঙ। বিকালের দিকে ছিন্নমূল শিশুরাও সমাবেশের পূর্বপাশে চক্রাকারে নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাস করছিল। বুকে লিখেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি। বিকালে এই উৎসবে শরিক হতে সপরিবারে চলে আসেন অনেকে।
বারডেমে ‘স্লোগানকন্যা’ লাকী: রোববার রাতে তার ওপর হামলার পর কিছুক্ষণের জন্য লাকী সমাবেশে উপস্থিত হলেও এরপর থেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন। গতকাল দুপুরে কয়েক মিনিটের জন্য আন্দোলন মঞ্চে গেলেও স্লোগান বা কোন বক্তব্য দেননি। লাকী বারডেম হাসপাতালের তৃতীয় তলায় চিকিৎসাধীন আছেন। বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লাকী পানি শূন্যতায় ভোগছেন। তার বিশ্রামের প্রয়োজন। তার শরীরের জন্য ও আন্দোলনের জন্য তার বিশ্রাম জরুরি। তবে তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান মহাপরিচালক। শুরু থেকে টানা ছয় দিন আগুন ঝরানো স্লোগান দিয়ে রোববার বিকালে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শাহবাগ আন্দোলনের পরিচিত মুখ লাকী আক্তার। বারডেম হাসপাতালে ছিলেন কয়েক ঘণ্টা। এরপর কিছুটা সুস্থ হয়ে রাতে আবার ফিরে যান প্রতিবাদ মঞ্চে। তখনই দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করে। মঞ্চে থাকা অবস্থায় তার মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। মাথায় আঘাত  পেয়ে তিনি আবারও বারডেমে চিকিৎসা নেন। রাত সোয়া ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রাত সাড়ে ১১টায় আবারও প্রতিবাদ মঞ্চে এসে স্লোগান ধরেন লাকী। রাতে হাসপাতাল  থেকে ফিরে লাকি জানান, মঞ্চে পিছন থেকে কে বা কারা তার মাথায় বাঁশ জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করে। তবে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। লাকী আঘাতকারীর শাস্তির দাবি জানান। উপস্থিত ছাত্র ইউনিয়নের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতা সংহতি জানাতে মঞ্চে এসেছিলেন। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। লাকীও তার বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চ ঘিরে ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী লাকী শাহবাগ প্রতিবাদের প্রথম দিন থেকে অগ্নিঝরা স্লোগান দিয়ে লাখো মানুষকে মাতিয়ে রাখছেন। দিন-রাত শাহবাগ স্কয়ারে তার স্লোগান শোনা যায়। শুক্রবারের সমাবেশও লাকী  স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন। সমাবেশ মঞ্চে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। লাকী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ইউনিয়নের সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। ছাত্র  ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক বলেন, লাকীর উপর যারা হামলা করেছে তারা আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, লাকী এখন রেস্টে আছে। ছাত্রলীগ হামলা করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান তারেক বলেন, এখনো আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। লাকীর উপর হামলার পর আপনারা সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েও করেননি কেন জানতে চাইলে তারেক বলেন, লাকী নিজেই বক্তব্য দেয়ার কারণে আমরা সংবাদ সম্মেলন করিনি। সরকার পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়ার পরই আপনারা সংবাদ সম্মেলন করেননি বলে অভিযোগ  উঠেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান তারেক বলেন, সমঝোতার কোন প্রশ্নই উঠে না। সরকার থেকেও কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
শাহবাগের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা: শাহবাগের স্কয়ারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় ৩২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। শাহবাগের সমাবেশস্থল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট, বারডেম হাসপাতাল, আজিজ সুপার মার্কেট ও ঢাকা ক্লাব পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গত দুইদিন ধরে এই এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আজ সকালে শিবির সন্দেহে ১১ জনকে আটক করা হয়। তবে তারা শিবির কর্মী না হওয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়।
খোলা হয়েছে মিডিয়া সেল: কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলনের তথ্য সরবরাহের জন্য জাতীয় জাদুঘরের সামনে মিডিয়া সেল খোলা হয়েছে। এই মিডিয়া সেল থেকে যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্লগার অ্যান অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্য শাকিল আহমেদ অরণ্য। তিনি বলেছেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে মিডিয়ায় নানা রকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আসছে। শনিবার একজন স্লোগানদানকারী আবেগবশত সমাবেশ থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। পরে আমরা ক্ষমা প্রদর্শন করে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু পরদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এসেছে। এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আমরা এই সেল খুলেছি। এখান থেকে যে তথ্য সরবরাহ দেয়া হবে তাই হবে সঠিক।
গণজমায়েত থেকে রক্ত সরবরাহ: শাহবাগের গণজমায়েত থেকে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। যাদের রক্ত প্রয়োজন হয় তারা রক্তের গ্রুপ ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে সমাবেশ মঞ্চে ঘোষণাকারীর কাছে পাঠিয়ে দেন। আর ঘোষণাকারী রক্তের গ্রুপ ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে যান রক্তদাতা। বিকাল ৪টার দিকে এক মুমূর্ষু রোগীর জন্য এ-পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রক্তদাতা দাঁড়িয়ে যান। আর বেঁচে যান একজন মুমূর্ষু রোগী। এভাবে প্রতিদিনই এখান থেকে রক্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।
কুকুরের গলায় ফাঁসির দাবি: ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ চলছে শাহবাগে। উত্তর বাসাবোর তুষার মিয়া গতকাল আন্দোলন স্থলে ৩টি কুকুর নিয়ে হাজির হন। কুকুরের গলায় ঝুলানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই’। তিনটি কুকুরের গলায় নিজামী, সাঈদী ও কাদের মোল্লার নাম লেখা ছিল। তুষার মিয়া জানান, প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এটা করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের খাবার বিতরণ: সংহতি জানিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. আহাদুজ্জামানের পরিবার গতকাল আন্দোলনকারীদের খাবার বিতরণ করেছেন। বিকাল ৪টার দিকে এক ট্রাক ভর্তি কার্টনে খাবার বিতরণ করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া দিনভর আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করেন।
ইতিহাসের বাইনোকুলার: শাহবাগের আন্দোলনকারীদের ইতিহাসের বাইনোকুলার আখ্যা দিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গতকাল সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি এ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলন থেকে আজকের এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল রাজাকারদের ফাঁসি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা, ৭২’র সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। আন্দোলনকারীদের জাহানারা ইমামের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে। জাহানারা ইমামের আন্দোলন আপনারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। গণআদালতে গণরায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের। শাহরিয়ার কবীর বলেন,  ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য সবখানে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। আপনারা ইতিহাসের নায়ক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন আপনারাই। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদ কন্যা  রেজা চৌধুরী সম্পাসহ আরও অনেকে।  আন্দোলনে আরও সংহতি প্রকাশ করেন ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, অধ্যাপক  মেজবাহ কামাল, সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ।
অপপ্রচার চালালে অবাঞ্ছিত: আন্দোলন নিয়ে অপপ্রচার চালালে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে এ  ঘোষণা দেন অনলাইন ও ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ড. ইমরান এইচ সরকার। এক ঘোষণায় তিনি বলেন, কিছু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, কিছু পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে ব্লগার ও আন্দোলনে যুক্ত ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নানা রকম বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। তিনি আরও বলেন, এসব অপপ্রচার বন্ধ না করলে এসব মিডিয়াকে আন্দোলনস্থল থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। এ ঘোষণার পর মিডিয়াগুলি আর বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট