Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

উত্তাল শাহবাগ স্কয়ার

ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ জনতার ঢল রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা শাহবাগকে ঘিরে। ছাত্র, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, এমপি, কবি-সাহিত্যিক সবাই জানাচ্ছেন সংহতি। ঢোল-বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গাইছেন গান। শাহবাগ যেন আরেক তাহ্‌রির স্কয়ার। সবার মুখে এক দাবি- জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ রায় মেনে নেয়নি জনতা। রাতেই তারা প্রতিবাদে নামে রাস্তায়। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক অবস্থান নেয় রাজপথে। তারা সেখানে বানিয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৬ বার কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিয়েছে তারা। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় আন্দোলনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল সকাল থেকে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। সেখানে আসতে থাকেন মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র-শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। টিএসসি থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত মানুষ আর মানুষ। পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় অসংখ্য শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন তাতে। এছাড়া বুয়েট, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা যোগ দিয়েছেন আন্দোলনে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত পুরো শাহবাগ এলাকা। ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’, ‘তুই রাজাকার’, ‘রাজপথ ছাড়বো না- ফাঁসি ছাড়া মানবো না’ প্রভৃতি স্লোগানে শাহবাগ মুখরিত। টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় চিত্রাঙ্কন করেছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনকারীরা আজ সকাল ৮টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামীকাল মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ওদিকে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আন্দোলনরতদের তোপের মুখে পড়েন। সন্ধ্যায় সাজেদা চৌধুরী সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করতে গেলে উপস্থিত জনতার ভিড় থেকে কেউ একজন বোতল ছোড়ে মারে। এ সময় তিনি দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
ফাঁসি: পূর্বাকাশে মাঘের সূর্য উঁকি মারছে। সারারাত জাগ্রত জনতার চোখে ক্লান্তি নেই। কেউ মাইকে ভাষণ দিচ্ছেন। কেউ বা মানুষকে বসার জন্য অনুরোধ করছেন। হঠাৎ করে সবার মধ্যে উত্তেজনা। তখন ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ৯টা। ফাঁসি। ফাঁসি হবে রাজাকার কাদের মোল্লার। উত্তেজিত জনতা তার প্রতীকী ফাঁসি দেবে। সকাল সাড়ে ৯টায় ওই প্রতীকী ফাঁসিসহ কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত এভাবে ৬ বার প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ের বিশ্ববিদ্যালয়গামী পথে পাকিস্তানের পতাকা খচিত পোশাক পরা কাদের মোল্লার প্রথম ফাঁসি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়র শিক্ষার্থীরা এই ফাঁসি দেয়। এর আধঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে কাঁটাবনগামী রাস্তায় দ্বিতীয়বার প্রতীকী ফাঁসিতে ঝোলানো হয় কাদের মোল্লাকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে কাদের মোল্লার আরও চারটি কুশপুত্তলিকা এবং রাজাকারের প্রতীক হিসেবে একটি সাপ তৈরি করা হয়। কাঁটাবনগামী রাস্তায়ই তৃতীয় ফাঁসি হয় ভোর ৫টার দিকে। চতুর্থ ফাঁসি হয় বিশ্ববিদ্যালয়গামী সড়কের মুখে। সোয়া ৫টার দিকে তার পঞ্চম প্রতীকী ফাঁসি হয় বারেডেমের সামনের সড়কে। আর ষষ্ঠবার প্রতীকী ফাঁসির রশিতে কাদের মোল্লাকে ঝোলানো হয় মৎস্য ভবনমুখী রাস্তায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। প্রতীকী ফাঁসির সময় তরুণ-তরুণীদের কণ্ঠে বার বার উচ্চারিত হয়- এমন রায় দিলো কে/কসাইটাকে ঝুলিয়ে দে, নিজামী-মুজাহিদ ভাই ভাই/এক রশিতে ফাঁসি চাই, জামায়াত-শিবির রাজাকার/রক্ত চোষা জানোয়ার, দড়ি ধরে দেবো টান/ফাঁসি দিয়ে নেবো জান, আমরা আছি থাকবো/সুখে দুখে লড়বো ইত্যাদি স্লোগান।
সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ: প্রতিবাদী আন্দোলনে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ওর্য়ার্কাস পার্টি, সেক্টরস ফোরাম, ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন বিতার্কিকবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আমরা মুক্তিযাদ্ধার সন্তান, ইয়ুথ ফোরাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলও এ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে। গতকাল সকাল থেকে পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, জাবি ভিসি আনোয়ার হোসেন, শিরিন আকতার, ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি আনিসুর রহমান মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান, সাংস্কৃতিক কর্মী রাশেদা কুদ্দুস রানু, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস, নৃত্যশিল্পী দীপা খন্দকারসহ অনেকেই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু করে। পরে এতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা এসে সংহতি জানান।
জনতার আদালতে ফাঁসি: জনতার আদালতে কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। শাহবাগে কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে তিনি এ কথা বলেন। দিলীপ বড়ুয়া আরও বলেন, শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায়ের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। তবে জনতার আদালতে ফাঁসি হয়ে গেছে। উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে প্রতিবাদীদের যে অবস্থান তা সত্যি অভাবনীয়। যারা এই শাহবাগ মোড়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে, তাদের বেশির ভাগই মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, যুদ্ধের সময় হয়তো জন্মও হয়নি। তিনি বলেন, আপনারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, কিন্তু অনুভব করছেন। আপনাদের এই বিবেকের প্রতি আমি সম্মান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমিও একাত্তর সালে আপনাদের বয়সী ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আপনারাও বিজয়ী হবেন।
প্রতিবাদী গান: অবরোধকারীদের সতেজ রাখার জন্য সংগীত পরিচালনা করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, রায়ে পুরো জাতি হতাশ। আমরা মানবতা বিরাধী অপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি ভিন্ন অন্য কিছু প্রত্যাশা করি না। তিনি আরও বলেন, এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত দেশে গৃহযুদ্ধের হুমকি দেয়। তারা এত সাহস কোথায় পায়? প্রয়োজনে একাত্তরের মতো আরেকটি যুদ্ধ করে তাদের এই দেশ থেকে হটানো হবে। বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, আজকের এই সমাগম আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই রায় অযৌক্তিক। এই রায় দেশের মানুষ মানে না। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্দাপরাধীদের বিরুদ্ধে তোমাদের এই যুদ্ধ সফল হবে। কারণ যে জাতির স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস থাকে তারা কখনও পরাজিত হয় না। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম সমাবেশস্থলে মাইকে বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
রাতভর আন্দোলন: রাতভর প্রতিবাদী গান, কবিতা, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে এবং কাদের মোল্লাকে ছয়বার প্রতীকী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে একাত্তরের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের দাবি জানায় হাজারো তরুণ। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ের চারদিকে চারটি সিগন্যাল পোস্ট যুদ্ধাপরাধীদের চারটি কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। মাঝখানে রয়েছে কাদের মোল্লার কুশপুত্তলিকা। এছাড়া সাপের আকৃতিতে বানানো হয়েছে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের একটি কুশপুত্তলিকা। এরই মাঝে চলছে প্রতিবাদী গান, ফাঁসির দাবিতে স্লোগান। আন্দোলনের প্রথম উদ্যোক্তা ব্লগার ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক রাত ১টার দিকে ওইদিনের মতো কর্মসূচি শেষ করে সকাল ৭টায় আবার শাহবাগে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু অন্যরা সারা রাত থেকে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। এরপর কয়েক শ’ তরুণ-তরুণী স্লোগান-গান-আবৃত্তি করে রাত কাটিয়ে দেয়। দু’টি বড় পর্দায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। রাত আড়াইটার দিকে মুক্তির গান চলচ্চিত্র শেষ হওয়ার পর বিজিবি’র দু’টি গাড়ি শাহবাগের অবরোধের পাশ দিয়ে এগিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এ সময় সংবাদ মাধ্যম কর্মীরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা অস্বীকৃতি জানান। ভোর পৌনে ৫টার দিকে হঠাৎ একদল পুলিশ এসে বারডেমের পাশে সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সামনে গিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। ভোর ৬টার দিকে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলে রাজাকারের মাথা দিয়ে সাপ তৈরি শেষ হয়। শাহবাগ মোড়ের কেন্দ্রস্থলে সেটিকে নেয়া হয়।
তোপের মুখে বনমন্ত্রী: যাবজ্জীবন নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে শাহবাগে জনতার অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে তোপের মুখে পড়েন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। গতকাল দুপুর ১২টার আগে তিনি সেখানে গিয়ে প্রতিবাদকারীদের সমাবেশে বক্তৃতা করার এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা হইহুল্লোড় শুরু করেন। এ সময় তিনি বক্তৃতা বন্ধ করতে বাধ্য হন। হাছান মাহমুদ যুদ্ধাপরাধের বিচারে নিরপেক্ষতার প্রমাণ সরকার দিয়েছে বলে দাবি করে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন। বলেন, মন্ত্রী হিসেবে নয়, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে সংহতি জানাতে এসেছি। কাদের মোল্লার ফাঁসি হবে, এটি ছিল গোটা জাতির প্রত্যাশা। যেহেতু তার বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগের পাঁচটিই প্রমাণিত হয়েছে, তাই আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশাও ছিল, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। তবে এটা প্রমাণিত হয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনাল নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন। সরকার কোন প্রভাব বিস্তার করছে না। যারা এতদিন স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদের পক্ষে এখন আর এ বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উপায় নেই। মন্ত্রীর এ কথা বললে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তারা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে হাছান মাহমুদ বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি হবেই। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আরও বলেন, কাদের মোল্লা যে অপরাধ করেছেন তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে সরকার ও আওয়ামী লীগও হতাশ।
এটর্নি জেনারেল ও ঢাবি ভিসি’র সংহতি: প্রতিবাদীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ঢাবি ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক। গতকাল রাতে তারা সংহতি জানান।
সফিউল্লাহর সংহতি: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ শাহবাগের প্রতিবাদ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। হতাশা ব্যক্ত করতে এসেছি। কাদের মোল্লা এত খুন করার পরও তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি, তাহলে কত খুন হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো? ট্রাইব্যুনাল সত্যি সত্যি কারও ভয়ে ভীত ছিল কিনা এমন প্রশ্ন রেখে সফিউল্লাহ বলেন, কার ভয়ে তারা সঠিক রায় দিতে পারেন নি?
সমর্থনে প্রবাসী বাংলাদেশী: জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনে উপস্থিত হয়ে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাফিসা শামসুদ্দিন। তিনি টানা আট মাস রাস্তায় ক্যাম্প করে মাঠে ছিলেন দাবি আদায়ের জন্য। বর্তমানে ঢাকা ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার মিডিয়া ও ক্যাম্পেইন পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। প্রায় আট মাস আগে অসুস্থ দাদাকে দেখতে ঢাকা আসেন। এরপর থেকে বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন। একাত্তরে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে পরিচিত কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় প্রতিবাদ জানাতে নাফিসা শামসুদ্দিনও যোগ দিয়েছেন শাহবাগে জনতার আন্দোলনে।
বিতার্কিকদের সমাবেশ রাজু ভাস্কর্যে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ১১টায় বিতার্কিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আহ্বানে এতে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন (বিডিএফ), ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন (এনডিএফ), জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক ও বিতর্ক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এসময় প্রতীকী ফাঁসি, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গণখিচুড়ি আপ্যায়ন, প্রতিবাদী গান করা হয়।
ছাত্রলীগ নেতৃত্বে: মঙ্গলবার ব্লগার ও বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতারা আন্দোলন করলেও নেতৃত্বে ছিল ছাত্রলীগ। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ঢাবি সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে সিদ্দিকী নাজমুল আলম সমাবেশে মাইক নিয়ে বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছে। সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এসে দেখে যান মানুষ কি চায়। এর কিছুক্ষণ আগে ঢাবি সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লাকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, জামায়াত-শিবিরের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনালকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আমরা রাজপথে মোকাবিলা করতে এসেছি।
মোমবাতি ও মশাল মিছিল: সন্ধ্যায় শিল্পী সমাজ নামের একটি সংগঠন শাহবাগ মোড় থেকে মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। লালন চর্চা নামের একটি সংগঠন রাজু ভাস্কর্য থেকে মোমবাতি মিছিল বের করে। মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যায় ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ব্লগাররা বাংলামোটর থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক: আজ শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে জনতা আন্দোলনে নামবে। বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। তাতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে জনতার ঢল নামবে।
সাজেদার দিকে পানির বোতল নিক্ষেপ: জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে সংহতি মঞ্চে যাওয়ার পথে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়েছে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বামপন্থিদের সংহতি মঞ্চ অতিক্রম করে আওয়ামীপন্থি সংহতি মঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় বামপন্থিদের মঞ্চ থেকে তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। তবে বোতলটি কারও গায়ে লাগেনি। সংহতি জানাতে গিয়ে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি শাহবাগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনরত জনতার তোপের মুখে পড়েন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাকে ঘিরে আন্দোলনরত জনতা নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এসময় অনেকে বলতে থাকেন, উনি (সাজেদা) কি বলতে এসেছেন আমাদের কারও অজানা নয়। একজন বিক্ষোভকারী বললেন, উনি আজ মায়া কান্না করতে এসেছেন। স্লোগান ওঠে ‘এক দফা এক দাবি, কাদের মোল্লার ফাঁসি দিবি’, ‘পাকিস্তানের মাটিতে রাজাকারের ফাঁসি হবে’ ইত্যাদি। আন্দোলনরত জনতার তোপের মুখে সাজেদা চৌধুরী সবার উদ্দেশে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংসদ অধিবেশন থেকে এখানে ছুটে এসেছি। আপনাদের সকল বিষয় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবো।
ক্লাস বর্জনের ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীদের: আন্দোলনে অংশ নেয়া ঢাবি শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
কাল মহাসমাবেশ: কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। ওই মহাসমাবেশে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাবেশ শুরুর উদ্যোক্তাদের অন্যতম ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের মাহমুদুল হক মুন্সি। তিনি বলেন, আজ সকাল ৮টা থেকে শাহবাগে সমাবেশ করা হবে আর শুক্রবার হবে মহাসমাবেশ। এদিন রায় পুনর্বিবেচনা এবং ফাঁসির আদেশ না আসা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চলবে বলেও জানান মাহমুদ।
আন্দোলনে বিভক্তি: আন্দোলন শুরু করা ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের কর্মীদেরও দুপুর দুইটার পর থেকে সক্রিয় দেখা যায়নি। আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমি একটু বাইরে আছি, দুপুরের পরে আসবো। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় বাতিল করে ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ স্কয়ারের সংহতি মঞ্চ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রয়েছে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের কর্মীদের অবস্থান, পূর্বদিকে ছাত্রলীগের মঞ্চের দু’পাশে রয়েছে বামপন্থিদের মঞ্চ। প্রায় পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবির স্লোগানের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। আওয়ামী লীগের সংহতি মঞ্চ থেকে বার বার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হচ্ছে। অন্য অংশ থেকে স্লোগান উঠছে ‘জ্বালো, জ্বালো আগুন জ্বালো, ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’। অন্যদিকে বামপন্থিদের সংহতি মঞ্চ থেকে অন্যান্য স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হলে আওয়ামীপন্থি মঞ্চের মাইক থেকে বার বার তাদের থামিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামীপন্থি মঞ্চের মাইকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। তার আশপাশে প্রায় সহস্রাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে বামপন্থিদের সংহতি মঞ্চে রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী ও রোকেয়া প্রাচী।
শাহবাগ স্কয়ারে মেনন ও শাজাহান খান : শাহবাগ স্কয়ার ক্রমেই লোকারণ্য হয়ে উঠছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগ, মহানগর যুবলীগ এবং মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে শাহবাগ স্কয়ার জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বিকালে সংহতি মঞ্চে সংহতি প্রকাশ করেছেন মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি মুনতাসীর মামুন, শামীম খান, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী প্রমুখ। রাশেদ খান মেনন বলেন, একাত্তরে পরাজিত শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গোলাম আযমের প্রতীকী ফাঁসি দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য গোলাম আযমের ফাঁসি এখনও আমরা দিতে পারিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, জনতার যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না দিয়ে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবেন না। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে কবিতা আবৃত্তি করলেও তিনি কোন বক্তৃতা দেননি। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির মুনতাসীর মামুন বলেন, তরুণরাই এ দেশ স্বাধীন করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে তরুণদের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে।
জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয়া বাম প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের সংহতি মঞ্চ এখন আওয়ামী লীগ ও এর শরিক বামদলগুলোর দখলে। এখন সংহতি মঞ্চের আশপাশে ও সামনে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি নুরে আলম জিকু, মহাজোটের শরিক জাসদের ছাত্র সংগঠন জাসদ ছাত্রলীগের হোসাইন আহমেদ তফসীর প্রমুখ। এছাড়া রয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারেক আলী। এদিকে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সংহতি জানাতে যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে সংহতি মঞ্চে ডাকবে কেন? ওখানে (শাহবাগে) যা ভেবে গিয়েছিলাম তা হয়নি। আওয়ামী লীগই রায় দেয় আবার তারাই প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তিনি আরও বলেন, আমি তো আওয়ামী লীগ করি না, তাই আমাকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি।
আরও যারা সংহতি জানালেন: এডভোকেট আফজাল হোসেন, নারীনেত্রী খুশি কবির, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ছাত্রলীগের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি নুরে আলম জিকু প্রমুখের সঙ্গে দলীয় কর্মীরাও আসেন। এছাড়া যুবলীগ নেতা চুন্নুর নেতৃত্বে মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি মিছিল এসে সমবেত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাকী আহসান মুন্না, সংগীত প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক রেবেকা মিরা প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ বলেন, রাজাকারদের ফাঁসি চাই, তাদের সঙ্গে আপস নাই। তিনি বলেন, এ রায়ে যুব সমাজ মর্মাহত।
সিলেটের রাজপথে হাজারো মানুষ
সিলেট অফিস জানায়, ঢাকার শাহবাগের রূপ নিয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। গতকাল বিকাল থেকে ব্লগারদের আহ্বানে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাতেও চলছে এই কর্মসূচি। মোমবাতি জ্বালিয়ে গানে গানে কাটানো হচ্ছে রাত। আর এতে সিলেটের রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশ  নেয়ায় পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে পড়ে। আর মুক্তিযুদ্ধের জাগরণি গানে গানে সুর মেলাচ্ছে উপস্থিত লোকজন। সিলেটের ব্লগারদের আহ্বানে মঙ্গলবার প্রথম দফা সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে  শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এক ঘণ্টার এই কর্মসূচি ওই দিনই শেষ করা হয়। এরপর গতকাল সকাল থেকে ই- মেইলের মাধ্যমে সিলেটের ব্লগাররা সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানায়। আর এতে সাড়া দেন সিলেটের ব্লগাররা। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিকাল ৪টা থেকে তারা কর্মসূচি শুরু করে। হরতাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন সিলেটের প্রধান সড়ক বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার-আম্বরখানা রুটে যানবাহন চলাচল শুরু হচ্ছিলো ঠিক তখনই ব্লগাররা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। প্রথমে ২০ থেকে ২৫ জন ব্লগার অবস্থান নিলে পরে তাদের সঙ্গে এসে জড়ো হতে থাকেন সিলেটের বিভিন্ন পেশার মানুষ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে শতাধিক মানুষ অবস্থান নেয়। এই সময়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী প্রফেসর ইয়াসমীন হকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বহর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসে। বহরটি ওখানের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। এর আগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আরও একটি মিছিল আসে শহীদ মিনারের সামনে। ছাত্র ইউনিয়নও আলাদা ব্যানারে আসে ওখানে। এভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার নিয়ে লোকজন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে পৌঁছায়। অবস্থান কর্মসূচিতে ড. প্রফেসর জাফর ইকবাল, প্রফেসর ড. ইয়াসমীন হক, সাংবাদিক আল আজাদ, কবি এক শেরাম, রানা কুমার সিংহ, সংস্কৃতিকর্মী নিরঞ্জন দে যাদু, রজত কান্তি গুপ্ত, মিসফাক আহমদ মিশু সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এদিকে, সন্ধ্যায় লোকারণ্য হয়ে উঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়ায় সিলেটের চৌহাট্টা পর্যন্ত মানুষের ভিড় বেড়ে যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট