Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এলজিএসপি প্রকল্পের ২০০০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

এলজিইডির এলজিএসপি প্রকল্পের ২০০০ কোটি টাকার ঋণ আটকে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এরমধ্যে শর্ত পূরণ না করায় চলতি অর্থ বছরের ৩০০ কোটি টাকা এবং আগামী তিন বছরের জন্য প্রাক্কলিত ১৭০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এলজিএসপি) অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে। একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর গেল বছর প্রকল্পটি ভাল মতো চললেও এ বছরে এসেই মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুখ খুলতে চাননি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এলজিএসপি) নামের প্রকল্পটি ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে একনেকে অনুমোদন পায়। প্রায় চার হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৪,৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী ১২ কোটি নারী-পুরুষ ও শিশু সুবিধা পাবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য ২০১২ সালের ১২ই জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) প্রকল্প সহায়তা বাবদ ২০০০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২০০০ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম অর্থবছর অর্থাৎ ২০১১-১২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক তাদের নির্ধারিত ৪০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে। তবে বর্তমান অর্থবছরে তাদের জন্য নির্ধারিত ২৫ ভাগ অর্থ অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকা ছাড় করলেও ৭৫ ভাগ অর্থ অর্থাৎ ৩০০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে। এজন্য বিশ্বব্যাংক কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। শর্তে বলা হয়েছে, ৭৫ ভাগ অর্থ পেতে চাইলে ৪৫৭১টি ইউনিয়নে অডিট করাতে হবে। এসব ইউনিয়নে আপত্তিবিহীন অডিট হলেই শুধুমাত্র অর্থ ছাড় করা যাবে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৬ মাসের রিপোর্ট পাওয়া না গেলে ঋণ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে না। তবে প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের জন্য নির্ধারিত অর্থ পেয়ে গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ২৫ ভাগ অর্থ ইউনিয়ন পরিষদগুলো বরাবর বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। এখনও ৭৫ ভাগ অর্থ ছাড় করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত শর্ত অনুযায়ী অডিট শেষ করতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। অডিট করানোর জন্য এরই মধ্যে ১২টি অডিট ফার্ম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও একটি অডিট ফার্ম নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাই সিলেট বিভাগে এখনও পর্যন্ত অডিট করার কাজই শুরু হয়নি। ওদিকে নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের এই বৈদেশিক ঋণ পেতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিশ্বব্যাংক ৫০ ভাগ ও বাংলাদেশ সরকার ৫০ ভাগ দিয়েছে। তবে দ্বিতীয় অর্থ বছরে বিশ্ব ব্যাংক দেবে প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৪৮ ভাগ ও সরকার দেবে ৫২ ভাগ। এখন ঋণের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ অর্থ যোগাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নকারী স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং দেশের রাজস্বখাতের পরিস্থিতিও সন্তোষজনক না হওয়ায় এসব প্রকল্পে অর্থ যোগান সম্ভব হচ্ছে না। আর এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই রাজনৈতিক বলে একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। সূত্র জানায়, দ্বিতীয় এলজিএসপি প্রকল্পে চারটি বিষয়ে কাজ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমত স্থানীয় সরকারের সেবার মান উন্নয়ন, দক্ষতা বাড়ানোর কাজে সরাসরি বরাদ্দ, স্বচ্ছ আন্তঃসরকার রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য করা ও জবাবদিহি করে গড়ে তোলা, দ্বিতীয়ত ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সকল স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, তৃতীয়ত ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জনগণের নিকট সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকাশ করা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিচালনা এবং নীতি প্রণয়নের জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থাসমূহকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়নে মানবসম্পদ সহায়তা দান। ওদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিশ্বব্যাংকের আরেকটি সহায়তা প্রকল্প গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ কয়েকটি সংস্থার টাকা বরাদ্দ নিয়েও অনিশ্চয়তা চলছে। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। একজন কর্মকর্তা বলেন, হাতে সময় খুবই কম। যা করার সহসাই করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের শর্ত না মানলে তারা ঋণ প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এটা হলে সারা দেশে রাজনৈতিকভাবে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ পাওয়া ও তা ছাড়করণে দেরি হওয়ার কারণে একটি নতুন আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা। ওই আদেশে, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়র পরিষদের অনুকূলে দেয়া বেসিক ব্লক গ্রান্ডের (বিবিজি) অর্থ অনুদান হিসেবে বিবেচনা করার জন্য বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি-২) মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে দেয়া ব্লক গ্রান্ট সরকারের অনুদান বিধায় ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারার বিধান অনুযায়ী তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ওই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য প্রযোজ্য সব আর্থিক বিধিবিধান এবং এলজিএসপি-২ প্রকল্পের নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট