Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে সাংসদদের তোপের মুখে খালেদা জিয়া

parlament-tm-Education25ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি : জাতীয় সংসদে সাংসদদের তোপের মুখে পড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তাঁরা ‘ওয়াশিংটন টাইমস’-এ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিবন্ধকে দেশের স্বার্থবিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন। সাংসদেরা বলেছেন, এ জন্য খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
বৃহস্পতিবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সাংসদেরা এ দাবি জানান। মাগরিবের নামাজের পর আলোচনার সূচনা করেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা চলে।
শেখ সেলিম বলেন, ‘খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধের বিচার নস্যাত্ করতে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি “ওয়াশিংটন টাইমস”-এ একটি নিবন্ধ লিখে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলেছেন। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁর পায়ের নিচে মাটি নেই বলেই তিনি অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। দল হিসেবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন।’
খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের শামিল উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিনি ওবামার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। কে ওবামা? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি দরকার হয়, তবে জনগণ দেবে। এই সংসদ সিদ্ধান্ত দেবে। ওবামার ওখানে কি তত্ত্বাবধায়ক আছে?’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক একটি পদে থেকে খালেদা জিয়া কীভাবে নিজের দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে বললেন, ভেবে আমি বিস্মিত হয়েছি। তিনি দেশপ্রেমিকের মতো কথা বলেননি। তিনি ভুলে গেছেন, আমাদের আমলে ২১ আগস্ট হয়নি। একসঙ্গে ৬৪ জেলায় বোমা ফাটেনি। শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো নেতাদের হত্যা করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এমন সময় লেখাটি লিখেছেন, যখন দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। তিনি বলতে চেয়েছেন, গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী, কাদের মোল্লারা যুদ্ধাপরাধী নয়।’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমি মনে করি খালেদা জিয়ার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে তাঁর কোনো আগ্রহ বা জ্ঞানও নেই। বিরোধীদলীয় নেতা নয়, কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারেন, তা আমি ভাবতেই পারি না। তাঁর সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এক পরিবারের শাসনের কথা বলেছেন। বাংলাদেশে কেউ যদি এক পরিবারের শাসন চান, তিনি এ নিবন্ধের নিবন্ধকার।’
দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা যখন কাজ করছি, তখন খালেদা জিয়া জিএসপি সুবিধা বাতিলের কথা বলেছেন। এর চেয়ে ন্যক্কারজনক কাজ আর হতে পারে না। গার্মেন্টস সেক্টরে ধ্বংসের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ করেছেন। এজন্য তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আপনি চুপ থাকেন। চুপ থাকলে মানুষ আপনাকে বুদ্ধিমতী ভাববে। বেশি কথা বলে নিজের ও দলের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাবে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক। এ জন্য তাঁকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে তিনি তাঁর মনের কথা বলেছেন। বিরোধী দলকে দমনের জন্য নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে। গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি বিদেশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু আমাদের কথা হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বিদেশের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’
পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিধান পরিবর্তনের অধিকার বিদেশের নেই। তিনি বিদেশি রাষ্ট্রকে কিছু করতে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান বদলে দিতে বলেছেন। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করতে বলেছেন। সরকারি ব্যক্তিদের ভ্রমণ সুবিধা বাতিল করতে বলেছেন। সরাসরি বিদেশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শেখ হাসিনার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তিনি দাবি জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি করতে পারেন না।’
বেবি মওদুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে লিখতে গেলেন কেন? বাংলাদেশে কি কোনো পত্রিকা ছিল না? তিনি তো প্রিয় পত্রিকা “ডেইলি স্টার”-এ লিখতে পারতেন। তিনি কি মনে করেন, তাঁর কথায় আমেরিকা ৭১ সালের মতো সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে দেবে?’
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ওপর আরও আলোচনা করেন সাংসদ আবদুর রহমান, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, তারানা হালিম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, অপু উকিল, শিরিন শারমিন চৌধুরী, নাজমা আক্তার।
সবশেষে সংসদের অধিবেশন রোববার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।