Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সফল হয়েছি, আবার ভোট দিন: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম: দেশকে এগিয়ে নিতে ও দেশের কলঙ্ক মোচনে পুনরায় নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত  এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০৮ সালে আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছিলেন। আমরা উন্নয়নের ধারার সূচনা করেছি। গত চার বছরে আমরা সফল হয়েছি। ২০১৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করুন।”

তিনি তার সরকারের চার বছরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমরা যতবার ক্ষমতায় এসেছি ততবার দেশের উন্নয়ন করেছি। বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি  আর লুটপাট ছাড়া  কিছুই করেনি।” আগামী ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন-“আমি জানতে চাই আপনারা কি আবার নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন ?” জনতা হাত তুলে এতে সম্মতি জানান।বিএনপির দুই গুণ দুর্নীতি এবং মানুষ খুন। এই দুই কাজ ছাড়া তারা আর কিছুই করতে পারেনি।”

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেছেন, “ক্ষমতায় আসলে দেশের চেহারা বদলে দেবেন। তিনি আসলে আমরা যে উন্নয়ন করেছি সেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেবেন। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের যে কর্মসূচি চালু করেছি, তা বন্ধ করে দেবেন।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের উন্নয়ন করতে আর বিএনপি ক্ষমতায় যায় লুটপাট করে খেতে।”

বিরোধী দলীয় নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার দুই ছেলে বিদেশে টাকা পাচার করেছে আর আমরা বিদেশ থেকে জনগণের সে টাকা ফেরত এনেছি। তার দুই ছেলে মানি লান্ডারিং ও দুর্নীতির ডিগ্রি নিয়েছেন। উনি যেহেতু পাশ করতে পারেননি, তাই আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখা করুক তিনি তা চান না।”

তিনি বলেন, “আমরা যেসব বন্ধ মিল কারখানা চালু করেছি সেগুলো আবারো বন্ধ করে দেবেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। দেশে আবার সন্ত্রাস-দুর্নীতি ফিরে আসুক বিরোধী দলীয় নেত্রী এটাই চান।”

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের চার বছরের উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “গত চার বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি। শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। শ্রমিকদের বেতন প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আমাদের আমলে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে শুরু করেছে। পাসের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আমরা যখন দেশের দায়িত্ব নিই, তখন দেশে ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর তিন কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করেছি। আমরা বেকার যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তাদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক চালু করেছি। এ ব্যাংক থেকে বেকার যুবকেরা কোনো জামানত ছাড়াই ১ লাখ টাকা ঋণ পেতে পারে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বন্ধ কল-কারখানা চালু করেছি। কর্ণফুলী ফোরাত কার্পেট মিল ও কর্ণফুলী জুট মিল চালু করেছি। এই দুটি কারখানায় দুই হাজার কর্মী কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া গত চার বছরে চার লাখ লোককে সরকারি চাকরি দিয়েছি। তাদের সুদিন ফিরে এসেছে।”

কৃষকদের জন্য নেয়া পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষক ঋণ নিতে পারে এখন।”

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করেছি।” সমুদ্র বিজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলায় জয়ী হয়ে সমুদ্রে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। এক লাখ ১১ হাজার ৬৭০ বর্গমাইল সমুদ্র জয় করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়ে মানুষের আর্ত-সামাজিক উন্নতি হয়েছিল।”

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গণহত্যাকারীদের বিচার শুরু করেছে। রায় দেয়া শুরু হয়েছে। একজনের রায় হয়েছে। ইনশাল্লহ বাকি রায়ও পাব। বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে কলঙ্ক লেপে দিয়েছিল, গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করে রাহুমুক্ত করব।”

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ খলিলুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রামের নেতারা।

এর আগে সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর ৫৪ তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করে দেশকে স্বনির্ভর করে বিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দক্ষ জনসম্পদকে ব্যবহার করা গেলে বিদেশিদের কাছে আর ধার চাইতে হবে না। বিদেশিদের কাছে ধার চেয়ে তাদের আর সবক শুনতে চাই না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের একমাত্র শক্র দারিদ্র্য। এ দারিদ্র্য দূর  করতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মার্ণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে প্রাণহানির ঘটনায় প্রকৌশলীদের কাছে জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমরা অনেক কিছু করেছি। চট্টগ্রাম বন্দর এখন আন্তর্জাতিক মানের বন্দর। কিন্তু আমার প্রশ্ন বহদ্দারহাটে যে দুর্ঘটনা ঘটলো তা কেন ঘটলো, তার জবাব আপনাদের দিতে হবে। কারণ এ কাজের সঙ্গে আপনাদের কেউ না কেউ তো জড়িত ছিলেন। এ প্রশ্নের উত্তর আমি চাই। ”

ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমি খুবই দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বলছি, আগামীতে যাতে এ ধরণের কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।”

দেশের সব ধরণের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে কাজই আপনারা করেন না কেন তার মান যেন ভালো হয়, টেকসই হয়। সেদিকে আপনাদের নজর দিতে হবে।”

বেলা ১২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরল হুদা। আইইবিন এ কনভেনশনে দেশ বিদেশের প্রায় আড়াই হাজার প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামে পৌছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। এবং সেখান থেকে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে ২৪৯ কোটি টাকার চারটি সরকারি ও একটি বেসরকারি গুচ্ছ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৪তম কনভেনশনে যোগ দেন।

এসব প্রকল্পগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ৮৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট, নার্সিং কলেজ, হেলথ ইনস্টিটিউট এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটসহ চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে আড়াইশ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় অয়োজিত জনসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় মঞ্চ। জাতীয় ও দলীয় পতাকার সঙ্গে সংগতি রেখে লাল সবুজের রঙে মঞ্চ সাজানো হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার এলাকায় চট্টগ্রাম কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি সড়কে দুপুর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে পুরো রাঙ্গুনিয়াতে দিনভর যানজট লেগে ছিল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট