Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এ মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্ত না জানালে বিকল্প অর্থায়নে পদ্মাসেতু

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্ত না জানালে বিকল্প অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হবে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে ফাইনাল কথা চাই। না হলে কাজ শুরু করে দেবো।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন সাম্প্রতিক রাশিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে পদ্মাসেতু, জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক ইস্যুসহ নানা বিষয়। দেড় ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেও কিছু বিষয় কৌশলে এড়িয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন পদ্মতি নিয়ে একজন সিনিয়র সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের মেয়াদকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে। আর নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনা থাকলে তাদের সংসদে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার রাশিয়া সফরকে সবদিক দিয়ে সফল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের যে বন্ধন তৈরি হল তাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন দেশবাসী। এই বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী রূপ নেবে। তিনি বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা দেখেছি তা হলো তারা বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে। তারা বিশেষ গুরুত্ব দেয় তাকে। আমাকে রাশিয়া অভিভূত করেছে। রাশিয়ার সমর্থনের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আরও সহজ হয়েছিল। রাশিয়া আমাদের পরম বন্ধু। দুর্দিনে তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতায় বেঁধেছে।
তিন দিনের সফরে গত ১৪ই জানুয়ারি রাশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে সমরাস্ত্র ক্রয় এবং রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ সংক্রান্ত প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার ক্রয় চুক্তি রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সফর রাশিয়া সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সফরকালে আমরা ব্যবসা বাণিজ্যে গুরত্ব দিয়েছি। সে দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের আহবান জানিয়েছি। বিনিয়োগ বাড়ানোর আহবান করেছি। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তারা আইসিটিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। রাশিয়া বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। তাদের সহায়তা আমাদের এগিয়ে নেবে। আশা করছি বাণিজ্যের পরিমাণ শিগগিরই ১ মিলিয়ন ডলারে উন্নিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এতে আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক সংস্থা বিশ্ব মন্দার সময়ও বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ায় প্রশংসা করছে এবং এজন্য তারা বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এতে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক জোরদারে ঐকমত্য হয়েছে। এসময় যৌথ কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়। চুক্তির মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি রয়েছে। এটি ১০০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর ফলে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। মানুষ চায় বিদ্যুৎ। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকের ভয়ও আছে। সেই ভয় দুর করার জন্য আমরা তথ্য কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক বর্জ রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটিতে থাকবে ৫ স্তরের নিরাপত্তা। এ বছরের মধ্যে কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। মার্চে আইন করা হবে। আর মে’তে ডিজাইন এবং অক্টোবরে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। চুক্তিতে এ রকমই রয়েছে।
সমরাস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব নিয়ম মেনেই আমরা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করছি। রাশিয়া থেকেই মিগ টুয়েন্টি নাইন ক্রয় করা হয়। সেটি কেনা হয়েছিল কম দামে। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা চীনসহ আরও অনেক দেশ থেকে অস্ত্র কিনেছি। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে কিনলে প্রশ্ন উঠে কেন?

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট