Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৪,৫০০ পেট্রল পাম্পে ধর্মঘট, দুর্ভোগ চরমে

তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক শরিফুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নিয়ে ঢাকার বাইরে যাবেন। কিন্তু গাড়িতে তেল নেই। গতকাল সকালে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ঘুরে তেল পায়নি কোথাও
। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি আসেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উল্টোপাশে অবস্থিত সিটি ফিলিং স্টেশনে। দেখেন স্টেশনের প্রবেশপথ দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। সাইন বোর্ড ঝুলছে- ডিজেল, পেট্রোল এবং অকটেন বিক্রি বন্ধ। তার মাথায় হাত। কারণ, তার গাড়ি সিএনজিচালিত নয়। তার প্রতিষ্ঠানের এমডিকে নিয়ে রাতেই বের হতে হবে ঢাকার বাইরে। স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এখন বড় বিপদে পড়ে গেছি। গাড়িতে যে তেল আছে সে তেল দিয়ে অফিস পর্যন্ত পৌঁছা যাবে কি-না সন্দেহ।
কেবল শরিফ একা নয়। তার মতো বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। চরম ভোগান্তির মধ্যে তারা। ৯ দফা দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনে গতকাল সকাল থেকে চলছে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। রাজধানীর পরিবাগে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড পরিচালিত সরকারি ফিলিং স্টেশন ‘মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার’টি গতকাল খোলা থাকলেও সরবরাহের অভাবে তা-ও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কারণ ধর্মঘট চলছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে। গতকাল কোন ট্যাংকলরি মালিকরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করেনি। জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় সেনাবাহিনী পরিচাললিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনটি ইতিমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকার বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবি মেনে না নিলে ধর্মঘটে যোগ দেয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসেসিয়েশন। এদিকে ধর্মঘটের প্রভাবে গতকাল থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে যানচলাচল কমে গেছে। গতকাল রাজধানীতে চিরচেনা যানজট ছিল না। মগবাজারের মঈন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। পাম্পের কর্মী মোজাম্মেল হক জানান, যারা অকটেন, পেট্রোল বা ডিজেল নিতে এসেছেন। তাদের বলছি, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এ কথা শোনার পর অনেকে চলে গেলেও কেউ কেউ জ্বালানির আশায় অযথা বসে আছেন। সেখানে অকটন নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক প্রশান্ত জানান, আমি খামারবাড়িস্থ বিএনও লুব্রিকেন্ট-এ রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করি। যাত্রবাড়ী থেকে মালিবাগ পর্যন্ত ৪টি ফিলিং স্টেশনে গিয়েও অকটেন পাইনি। এখানে এসে মোটরসাইকেলের অকটেন একেবারে শেষ হয়ে গেছে। তাই স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছি। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবো। যদি জ্বালানি পাওয়া যায় তাহলে নেব। না হলে মোটরসাইকেলটি কিভাবে খামারবাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাব তা নিয়ে চিন্তায় আছি। সিটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী উত্তম কুমার জানান, নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘট ডেকেছে। মালিক মেজর (অব) আব্দুল হালিমের নির্দেশে পাম্প বন্ধ রেখেছি। শহীদ তাজউদ্দিন সরণিস্থ ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ধর্মঘট চলছে। তারপরও সরকারের টনক নড়ছে না। দাবি আদায়েরর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। গত বছরের মে মাসে সরকার আমাদের দাবি পূরণের লিখিত অঙ্গীকার করলেও এখনও তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, গত মে মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৫ বার একদিন করে ধর্মঘট করেছি। কোন কাজ হয়নি। এ কারণে এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে গিয়েছি। মহাখালীস্থ তশোফা এন্টারপ্রাইজের মালিক কর্নের (অব) এমএ মান্নান বলেন, ডিজেলের দাম বেড়েছে। সিএনজির দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিজেলচালিত গাড়ির ভাড়া এখনও বাড়েনি। আগের নির্ধারিত ভাড়া থাকলে অবশ্যই ডিজেলের বর্ধিত দাম কমাতে হবে। তশোফা এন্টারপ্রাইজে জ্বালানি নিতে আসা মাইক্রোবাস চালক আসিফ আহমেদ জানান, আমি ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাই। এ দিয়ে যা আয় হয় তাতে আমার সংসার চলে। ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় জ্বালানি নিতে পারছি না। ভাড়াও মারতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে বাঁচবো কি করে?
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক নাজমুল হক গতকাল মানবজমিনকে জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে। আগামীকাল (আজ) সোমবার বিকাল তিনটায় এ বিষয়ে সরকার প্রতিনিধি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পেট্রোল মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে মন্ত্রণালয়। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। অন্যথায় ধর্মঘট চলবে। ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে মালিক-শ্রমিক ডাকে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট সফল হয়েছে বলে তিনি জানান। পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ঐক্য পরিষদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ৯ দফা দাবি প্রসঙ্গে বলেন, ডিজেল বিক্রিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে ৪ শতাংশ, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে ৪ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করতে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। চলমান সময়ে ডিজেল বিক্রিতে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রোল বিক্রিতে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অকটেন বিক্রিতে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ কমিশন দেয়া হয়। তিনি বলেন, বারাবার তেলের দাম বাড়ালেও ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো হয়নি। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন জানান, মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে ধর্মঘট পালন করছে। সরকারের উচিত তাদের ন্যায্য দাবি পূরণে এগিয়ে আসা। তিনি আরও জানান পেট্রোল কমিশন বৃদ্ধির দাবি যদি সরকার না মানে তাহলে সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন তাদের সঙ্গে ধর্ম ঘটে যাবে। এ জন্যে আমরা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে সারাদেশে আহূত পেট্রোল পাম্পের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের সব পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল রোববার শহরের বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে- গাড়ি, মোটরসাইকেল, টমটমসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলচালিত যানবাহন জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। কোন পাম্পেই জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে না। বিশেষ করে জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট যানবাহন এবং মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা বেকায়দায় পড়েছে। জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মানিক জানান, ধর্মঘটের খবর শুনে তারা আগে থেকেই দু’তিন দিনের জ্বালানি মজুত করে রেখেছেন। ফলে এই সময়ের মধ্যে কোন সমস্যা হবে না। তবে ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হলে পেট্রোলচালিত বাস বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সিএনজিচালিত বাসের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আশুগঞ্জ থেকে ইসহাক সুমন জানান, শনিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এতে আশুগঞ্জ পদ্মা ওয়েল কোম্পানী ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলায় জ্বালানি তৈল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলো। এতে চরম দুর্ভোগের  শিকার হয়েছেন জ্বালানি তৈল সরবরাহকৃত পরিবহন মালিকরা। পদ্মা ওয়েল কোম্পানির আশুগঞ্জ ডিপোর ডিপো ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, প্রতিদিন আশুগঞ্জ ডিপো থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৫ হাজার লিটার কেরোসিন তৈল ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৭ জেলায় সরবারহ করা হয়। কিন্তু পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘটের কারণে এসব জেলার জ্বালানি তৈল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ব্রাক্ষবাড়িয়া ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুন মোল্লা জানান, অবিলম্বে আমাদের দাবি না মানা হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না।  আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ নয় দফা দাবিতে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক এবং শ্রমিকদের ডাকা সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের অংশ হিসাবে নাটোরেও পালিত হচ্ছে ধর্মঘট। রোববার সকাল ৬টা থেকে জেলার সকল পাম্পে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিকরা। ফলে অনেককে পড়তে হয় দুর্ভোগে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহারকারী খাদ্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলসহ নাটোরের বোরোচাষিরা। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে ডিজেল না পেয়ে দিশেহারা তারা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বোরো বপন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এদিকে এ খবর পেয়ে খোলা তেল বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে ধর্মঘটের খবর পেয়ে খোলা তেল বিক্রেতারে প্রচুর পরিমাণ তেল মজুত করেছে বলে জানা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গতকাল থেকে পেট্রোল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে যানবাহনগুলো তেলের অভাবে সড়কে কম চলাচল করায় সাধারণ যাত্রীরা চরম অসুবিধায় এবং ডিজেল না পাওয়া চলতি ইরি- বোরোর আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন  পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেলের জন্য ভিড় করলেও তেল না পেয়ে ফিরে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের নয়াগোলা, আমনুরা, নিজামপুর, নাচোল পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে ঢোকার মুখে তেলের ড্রাম দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখায় ইরি- বোরো চাষিরা ডিজেলের জন্য জারকিন নিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে ফিরে যায়।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁয় পেট্রোল পাম্প সমূহে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতির ডাকে সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংলরি মালিক সমিতি নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব কবিরাজ বলেছেন বহুদিন ধরে সরকার দেশের পেট্রোল পাম্প মালিকদের যৌক্তিক দাবি দাওয়া পূরণের আশ্বাস দিয়েও তা পূরণ করছে না।  এদিকে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটের কারণে তেল সঙ্কটের ফলে নওগাঁর ডিজেলচালিত গভীর ও অগভীর নলকূপগুলো পানি সেচ দিতে না পারায় জেলায় সেচ সঙ্কটে ইরি-বোরো চাষাবাদে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ।
বগুড় থেকে জিয়া শাহীন জানান, বগুড়ার সবগুলো ফিলিং স্টেশনের তেল সরবরাহের ইউনিটগুলো কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আবার অনেক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশপথও বাঁশ ও রশি টানিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তেল না পেয়ে যানবাহনের চালক ও মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল পার্বতীপুর ডিপো থেকে কোন জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়নি। তাছাড়াও কোন পেট্রোল পাম্প থেকেও কোন তেল বিক্রি হয়নি। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো ম্যানেজার শাহজাহান হাওলাদার জানান, মালিকরা তেল উত্তোলন করতে না আসায় ডিপো থেকে কোন তেল সরবরাহ করা হয়নি। পেট্রোল পাম্প মালিক আলহাজ একরামুল হক, মামুনুর রশিদ এবং রওশন আলী সরকারসহ অনেকে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবো।
খুলনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গতকাল সকাল ৬টা থেকে খুলনার পেট্রোল পাম্পসমূহে ধর্মঘট শুরু করে। খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন কোষাধ্যক্ষ মুরাদুজ্জামান জানান, খুলনা মহানগর ও জেলার ২৭টি পাম্পে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট চলছে। কোন পাম্প থেকে একফোঁটা তেলও বিক্রি হচ্ছে না। নগরীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা রশি দিয়ে পাম্পের রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর পাম্পগুলোর ওপর কালো কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। কোন লেনদেনও চলছে না। পাম্পের সামনে টানানো হয়েছে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবির ব্যানার।
বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ধর্মঘট চলাকালীন সময় এ অঞ্চলের অর্ধশতাধিক পেট্রোল পাম্প ও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। সঙ্গে ১৮০টি ট্যাঙ্কলরি চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে ৫ শতাধিক চালক-শ্রমিক। বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিকদার জানান, ধর্মঘট চলাকালীন সময় ১০ জেলার শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত এক ইউনিয়নের ৫ শতাধিক শ্রমিক বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবে। সঙ্গে কোন খুচরা বেক্রেতা যেন চুপিচুপি তেল বিক্রি করতে না পারে সে দিকেও তারা সজাগ থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিভাগের ৪৮টি পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদ গোলাম সালেক। গোলাম সালেক জানান, বিভিন্ন দাবিতে গত ২ বছর যাবত তারা আন্দোলন করে আসছেন। দাবিগুলোর মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ছিল অন্যতম। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিক বার বৈঠকও হয়েছে। তবে কোন ফল আসেনি। ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের বরিশালের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিকদার জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট