Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আজ থেকে সারা দেশে পেট্রল পাম্প ধর্মঘট

আজ থেকে শুরু অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে পেট্রল পাম্প ধর্মঘট। সরকারের একটি মহল তাদের দাবি পূরণে উপেক্ষা করায় পেট্রল পাম্প মালিক-শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত
চলবে তাদের ধর্মঘট। বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে ডিজেল বিক্রিতে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রল বিক্রিতে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ ও অকটেন বিক্রিতে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ কমিশন দেয়া হয়। কিন্তু এই কমিশন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা কোন মতেই সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের কাছে আমাদের কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলাম কিনু্ত সরকার আমাদের সে দাবির শ্রদ্ধা দেখায়নি। এমনকি সরকারের নির্ধারিত কমিশন থেকে ও আজ মালিক-শ্রমিকদের বঞ্চিত রেখেছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত বছর মে মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তেল বিক্রির ওপর কমিশন নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী ও জ্বালানিমন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হকের সমন্বয়ে জ্বালানি সচিবের কাছে লিখিত সেই নির্দেশ গেলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়নের মুখ দেখা যায়নি। কমিশন বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতাকে তিনি দায়ী করেন। এ জন্য সংগঠনের নেতারা সব দাবি-দাওয়া পূরণ করতে ১৯ই জানুয়ারির পর্যন্ত সরকারের প্রতি সময় বেঁধে দেন।  কিন্ত সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়া মেনে না নিয়ে উল্টো ধর্মঘট বন্ধের জন্য আহ্বান করেন। বাধ্য হয়ে তাদের দাবি পূরণের জন্য আজ থেকে সারা দেশের পেট্রল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সকল পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল উত্তোলন, তেলবাহী পরিবহন সরবরাহ, বিক্রি ও বিপণন বন্ধ থাকবে। এর আগে রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পেট্রল ওনার্স এসোসিয়েশন এবং ট্যাংক-লরি শ্রমিক ফেডারেশন সমন্বয়ে গঠিত পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্মঘটের ঘোষণা করেন। ৯ দফা দাবির মধ্যে ডিজেল বিক্রিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পেট্রল অকটেন বিক্রিতে ৪ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ, ট্যাংক-লরির ভাড়া বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের ভেজাল রোধে বাস্তব ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশেষ বিবেচনায় লাইসেন্স দিতে হবে। এদিকে পেট্রল পাম্প ধর্মঘটের ডাক দেয়ায় গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পের চিত্র ছিল প্রতিদিনের চেয়ে ভিন্ন। ধর্মঘট কত দিন চলবে- এ নিয়ে চরম হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে কাটাচ্ছে যানবাহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ। রমনা এলাকার পেট্রল পাম্পে দেখা গেছে, দীর্ঘ লম্বা লাইন নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছে প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল, জিপ, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। একই চিত্র ছিল মতিঝিল ও দৈনিক বাংলা এলাকার পেট্রল পাম্পে। গাবতলীর যাত্রীবাহী ৮ নম্বর বাসের চালক হান্নান জানান, আমাদের গাড়ির রিজার্ভ ট্যাঙ্কির তেল দিয়ে দুই দিন চলা যাবে। এর পর কি হবে? এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। গুলিস্তান আবদুল্লাহপুরের ৩ নম্বর গাড়ির চালক কবির মালিক জানান, সরকারের উচিত পেট্রল মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসে এ সমস্যার সমাধান করা। মোটর সাইকেল চালক একরাম বলেন, সরকার যদি আন্তরিক হতো এবং সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করতো তা হলে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারতো। পথচারী আবুল কালাম জানান, আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যখন কোন সরকারের শেষ বছর আসে ঠিক তখন আন্দালনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সব সংগঠন। তার মতে, এই সংস্কৃতি পরিবর্তন হওয়া দরকার। রহিম নামের প্রাইভেটকার চালক বলেন, স্যারের একটা গাড়ি তেলে চলে। তাই পাঁচ দিনের জন্য তেল সংরক্ষণ করছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট