Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
ইউটিউব। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভিডিও শেয়ারিং সাইট। প্রতিদিন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে এর ব্যবহারকারীরা নানা বিষয়ের ওপর হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করে থাকেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাইটটিতে আপলোড করা হয় স্যাম বাসিল নির্মিত
‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ নামের বিতর্কিত চলচ্চিত্রের একটি ক্লিপস। এ ক্লিপসকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। এর জের ধরে বিভিন্ন দেশে বন্ধ করে দেয়া হয় সাইটটি। গত বছরের ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারও দ্বিতীয়বারের মতো সাইটটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বিডিআর বিদ্রোহের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উত্তপ্ত আলোচনার রেকর্ডটি ইউটিউবে ছেড়ে দিলে ২০০৯ সালের মার্চ মাসে কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয় সাইটটি। ২০১২ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া হাসানুল হক ইনু মাত্র চারদিনের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত নেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ডিআরইউ-তে অনুষ্ঠিত মিট দ্য রিপোর্টার্স প্রোগ্রামে এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক আশ্বস্ত করেছিলেন- শিগগিরই সাইটটি খুলে দেয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি। ইউটিউব বন্ধ প্রসঙ্গে আবারও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, এটা সাময়িক ব্যাপার। গুগলের সঙ্গে কথা চলছে। সমাধান হলেই সাইটটি খুলে দেয়া হবে।
দ্বিতীয়বার বন্ধের পর পেরিয়ে গেছে চার মাস। একই ইস্যুতে আরব-আফগানিস্তান সহ অন্যান্য মুসলিম দেশে সাইটটি খুলে দিলেও দেয়া হয়নি কেবল বাংলাদেশ আর পাকিস্তানে। ডিজিটাল স্লোগানে বিশ্বাসী সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আজ নানা মহলে প্রশ্নবিদ্ধ। গণমাধ্যমসহ এর নিয়মিত ব্যবহারকারী ও সুফলভোগীদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। দেশের তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মহলের সবাই সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ইউটিউব এতদিন ধরে বন্ধ রাখা ঠিক হয়নি। সাইটটি সরকারের খুলে দেয়া উচিত। আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইউটিউব বন্ধ রাখার সরকারি নীতি সমর্থন করি না। মৌলবাদীদের আন্দোলনের ভয়ে তথ্যপ্রবাহের অন্যতম এ উৎসকে বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। ডিজিটাল উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের অবিলম্বে সাইটটি খুলে দেয়া উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসানুজ্জামান বলেন, কারও মুখ বন্ধ করলে কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা তা বুঝে ওঠা যায় না। ইউটিউব বন্ধ করে সরকার সেরকম মনোভাবই প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউটিউব নিছক আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যম নয়। এখানে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষজন নানা গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে সংরক্ষিত ভিডিও দেখে সরাসরি উপকৃত হয়ে থাকেন। জরুরি কোন অপারেশন নিয়েও চিকিৎসকরা ভিডিও ক্লিপসের সাহায্য নেন। এ অবস্থায় সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে সাইটটি খুলে দেয়া। উল্লেখ্য, সাইটটিতে ভিডিও গান, নাটক, ছবি ছাড়াও আছে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের ওপর আলোচনা, ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরনের বিভিন্ন অংশ, তাফসির, হামদ ও নাত, ড. জাকির নায়েকসহ পৃথিবীর অনেক ধর্ম বিশেষজ্ঞের শ’ শ’ বক্তৃতা, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সালমান খানের বিশ্বে বহুল প্রশংসিত ‘খান একাডেমী’ ইউটিউবে তাদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান, ক্যালকুলাস, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ের ওপর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভিডিও পাঠ সংরক্ষণ করেন। বিশ্বের লাখ লাখ শিক্ষার্থী এসব ভিডিও দেখে কঠিন পাঠগুলো সহজেই আয়ত্ত করতে পারে। সমপ্রতি তারা বাংলা ভার্সনেও ভিডিওগুলো ছাড়ছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম আকাশ বলেন, নবম শ্রেণীতে ওঠার পর বইয়ের বিষয়বস্তু না বোঝার দরুন প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় রসায়নে খুবই খারাপ ফল করেছি। ইউটিউব থেকে খান একাডেমীর ভিডিও ডাউনলোড করে বিষয়টি আমি পুরোপরি আয়ত্ত করতে পারি। পরে ভাল ফলের দিকে অগ্রসর হই। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় এই ওয়েব সাইটটির পেছনে ছিলেন মূলত পে-প্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন প্রাক্তন চাকরিজীবী। এর অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাভেদ করিম।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, সরকারের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাইটটি খুলে দেয়া। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে গুগল, উইকিপিডিয়া, ইউটিউবের মতো প্রয়োজনীয় সাইট ছাড়া সভ্য সমাজ কল্পনা করা যায় না।