Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিভ্রান্তিকর ও অপরাজনীতি পরিহার করুন: শিক্ষামন্ত্রী

 ঢাবি প্রতিনিধি, ১৮ জানুয়ারি : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বিভ্রান্তিকর ও অপরাজনীতির কারণে আমাদের শিক্ষার মান কমে গেছে। কুরাজনীতি ও বিভ্রান্তিকর রাজনীতি থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনেক পুরনো। এটা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ধারাগুলো নিয়ে বেশ কিছু কথা উঠতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা এসব বিষয়ে আলোচনা করে আমাদের কাছে প্রস্তাবনা পাঠান। আমরা প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন বা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেস্টা করব। তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে লড়াইয়ে নামলে হবে না। সবাইকে সহনশীল হতে হবে। এগুলো সমাধানের জন্য সবাইকে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব আয়ে চলার চেস্টা করতে হবে। সরকারের টাকার উপর নির্ভর করলে হবে না। বিশ্বের আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো শিক্ষাক্ষেত্রে এতো কম টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়না। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহবান জানান।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে শিক্ষক রাজনীতি:  উচ্চশিক্ষায় অর্জন, সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। উদ্বোধন করেন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক  ফরিদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহবুব রনি । এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘প্রস্তাব’ এর বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন এবং নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়।
মূল প্রবন্ধে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিগত ৪১ বছরে উচ্চশিক্ষায় ব্যাপ্তি ঘটলেও গুনে মানে ধ্বস নেমেছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে তথাকথিত স্বায়ত্বশাসনের বর্মের আড়ালে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ কাজ হয়। শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পায় । তিনি আরো বলেন, বর্তমান ভিসি অনির্বাচিত অবস্থায় তার মেয়াদ শেষ করলেন। এটা মানতেই হবে ভিসি‘র নির্বাচন না হওয়া বা না হতে পারাটা ৭৩‘র অধ্যাদেশ লঙ্ঘন এবং তা একটি মন্দ নজির হয়ে থাকল। সামগ্রিক বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন গণতন্ত্রহীন প্রতিষ্ঠান, যা অবশ্যই সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমাদের অর্জন আছে, সংকট আছে, সম্ভাবনাও আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের গৌরব হারিয়ে এখন শোচনীয় অবস্থায়। সমগ্র দেশ নষ্ট রাজনীতিতে ভরবে আর বিশ্ববিদ্যালয় ভালো থাকবে এটা ভাবা ভুল। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের আদর্শের রাজনীতি করতে হবে।
ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষা শুধু সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। আমাদের মূল শিক্ষা হচ্ছে চরিত্র গঠন। এজন্য বাল্যশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পরমত সহিষ্ণুতায় ও সত সুনাগরিক হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
ড. আবুল কাশেম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে ছাত্রলীগ। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যত নিয়োগ হয়েছে তার প্রায় সব কটিতেই ছাত্র সংগঠনগলোকে অন্যায় ভাবে হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে । এগুলো এখন বাংলাদেশে একপ্রকার প্রচলন হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত এর প্রতিকার কামনা করেন।