Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইজতেমা ময়দানে বিশাল জুমার জামাত অনুষ্ঠিত

১৮ জানুয়ারি :  টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় তিন দিনের এই বিশ্ব ইজতেমা। দেশ বিদেশের লাখ-লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণকালের বৃহত্তম জুমার জামাত। আর এই জুমার নামাজে দেশী বিদেশী প্রায় ১০-১২ লাখ মানুষ ময়দানে পাঞ্জাবী আর পায়জামা পড়ে সারিবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন এবং মোনাজাতে শরীক হন। আগামী রোববার দুপুরে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের ৪৭তম বিশ্ব ইজতেমা।
শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্বইজতেমার প্রথম দিন। বিশ্বইজতেমার লাখ-লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ প্রান্তর সমবেত মুসল্লিগণের এবাদত-বন্দেগী, জিকির আসকারে এক পুণ্যভূমির রূপ লাভ করে। জুমার নামাজ আদায় করতে শুক্রবার ভোর থেকে ঢাকা জেলা সহ ৩৬টি জেলার লোকজন দেশের বিভিন্ন প্রান্তর  থেকে ছুটে আসেন ইজতেমা মাঠে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো ইজতেমা ময়দানে ঢল নামে লাখ-লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আর তাবলিগ অনুসারিদের। মুসল্লিদের আল্লাহু আকবার ধ্বনি ও জিকির আসকারে মুখরিত হয়ে উঠে টঙ্গী তুরাগের আকাশ বাতাস। তুরাগ তীরের চারপাশে যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই দেখা যায় শুধু সাদা পাঞ্জাবি আর টুপি পড়া মানুষের ভিড়। দ্বিতীয় পর্বের ৩দিনের ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় এবং আবহাওয়া ভাল থাকার দরুণ ময়দানে লোকের অধিকসংখ্যক লোক সমাগম হয়েছে। মানুষ লঞ্চ, স্ট্রিমার, নদীর পাড়, ভাসমান সেতু, ব্রিজ এবং অন্যান্য স্থানে বসে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মোনাজাতে শরীক হন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শেষ মুহুর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও ততপর দেখা গেছে।

সর্ববৃহত জুমার নামাজ প্রায় ১০-১২ লাখ মুসল্লি : শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। তাই জুমার নামাজে শরিক হতে ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশেপাশের জেলা থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন ইজতেমা ময়দানে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহনে টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ। আবার অনেকে হেঁটে আসেন ইজতেমা মাঠে বৃহত্তম জুমার নামাজে শরিক হতে। জুমার নামাজে ইমামতি করেন কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও আহালে শূরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার নামাজ আরম্ভ হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ জুমার নামাজে প্রায় ১০-১২ লাখ মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে । আবহাওয়া ভাল থাকার কারণে ময়দানে লোকের সমাগত বেশি হয়।

ইজতেমা মাঠে বিদেশি মেহমান: শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৬০টি দেশের প্রায় ৮-১০ হাজার বিদেশি মেহমান ইজতেমা মাঠের উত্তর পাশে বিশেষভাবে তৈরি বিদেশি নিবাসে অবস্থান নিয়েছেন। এদের মধ্যে শুক্রবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশী লোক এসেছেন । এছাড়া চীন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইরান, ইরাক, নেপাল, ভুটান, বার্মা, আমেরিকা, জাপান, ভারত, বাহরাইন, আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া, দিল্লি, কাতার, সুদান, জর্ডান, ফিলিপাইনের মুসল্লিরাও রয়েছেন।

জুমার নামাজে ভিআইপি ও এমপি : শুক্রবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে পবিত্র জুমার নামাজ পড়তে মাঠে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল (এমপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাবেক সাংসদ কাজী মোজাম্মেল হক, বিএনপির সাবেক সাংসদ হাসান উদ্দিন সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহেনশাহ আলম ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল বাতেন  প্রমুখ। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেক কর্মকর্তারা জুমার নামাজ আদায় করতে ইজতেমা মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

ওষুধ ও গোসলের পানি ৫/১০ টাকা বিক্রি : শুক্রবার তুরাগ পাড়ে লাখো মুসল্লি নামাজ পড়তে এসে নানামুখি বিড়ম্বনার কবলে পড়েন। তারা ওযুর পানি ৫ টাকা, গোসলের পানি ১০ টাকা এবং নামাজ পড়ার প্ল্যাষ্টিকের কাগজ ১০ টাকায় কেনেন।

মোবাইল চুরি : শুক্রবার তুরাগ পাড়ে যখন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করতে টঙ্গীতে আসেন ঠিক তখন এবং নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পকেটমারদের হাতে কমপক্ষে ২শতাধিক  মোবাইল সেট চুরির ঘটনা ঘটে। আটক পকেটমারদের কাছ থেকে বেশ কিছু চোরাই মোবাইল সেট উদ্বার করেছে র‌্যাব,পুলিশ ও ডিবি পুলিশ।

৩০ কিলোমিটার এলাকা যানজট : শুক্রবার ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক,কালিগঞ্জ সড়ক ও আশুলিয়া সাভার সড়কে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস, মিনিবাস, ট্রাক,অটোরিকসা সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন গুলো এ সময় ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় আটকা পড়ে খাকে। ইজতেমায় আসা লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এ সময় পায়ে হেঁটে টঙ্গীতে আসতে থাকে এবং জুম্মার নামাজ শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে যার যার মত চলে যায়। মুসল্লিরা তীব্র যানজটের কবলে পড়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হন।

টঙ্গী হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি : টঙ্গী তুরাগ পাড়ের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় এসে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জন ২০ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গত ২ দিনে ইজতেমা মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২ হাজারের বেশি মুসল্লিকে প্রাথমিক চিকিতসা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ১০জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।

৪০ পকেটমার ও ছিনতাইকারী গ্রেফতার : টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা শুক্রবার ইজতেমা মাঠ ও তার আশ পাশ থেকে ৪০ জন পকেটমার, চোর ও ছিনতাইকারী অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাদেরকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অনেক চোর ও পকেটমারকে জুমার নামাজের পর মাঠ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

৪০ মেডিকেল ক্যাম্প : বিশ্ব ইজতেমা মাঠের উত্তর-পূর্ব পাশে নিউ মুন্নু টেক্সটাইল মিলের ভেতর সরকারী-বেসরকারী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৪০টির ও অধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ইবনেসিনা ফার্মা, হামদার্দ, র‌্যাব, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, টঙ্গী পৌরসভা, গ্রামীন ফোন, একটেল, ইসলামী ব্যাংক, খেলাফত মজলিশ, গাজীপুর বিএনএন, হার্ট ফাউন্ডেশন উল্লেখ যোগ্য।

২০ মুসল্লি আহত : শুক্রবার ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ শেষে ট্রাক, বাস, মিনিবাস, নৌকা, ট্রেন, অটোরিকসাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাড়ি ফিরার সময় কমপক্ষে ১৫/২০জন মুসল্লি আহত হয়েছে। এছাড়া রাস্তা পারাপারের সময় এদের মধ্যে অনেকে পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছে।

রাস্তায় ২শতাধিক সার্জেন্ট ও ট্রাফিক : শুক্রবার ভোর থেকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক, উত্তরা-আশুলিয়া সড়ক ও টঙ্গী-ঘোড়াশাল-কালিগঞ্জ সড়কে যানবাহন ও মানুষের সেবা প্রদানে রাস্তায় সর্বদা নিয়োজিত ছিল প্রায় ২শতাধিক সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি এসব পুলিশ সার্জেন্ট ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ভিআইপি ও বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেছে।

ইজতেমায় মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা : এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও ২২টি মোবাইল কোর্ট ( ভ্রাম্যমান আদালত) টঙ্গী এলাকায় অভিযানে রয়েছে। এই ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৬ জন ম্যাজিষ্ট্রেট অংশ নিয়েছেন। অভিযান চলাকালে তারা  শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন খাবার হোটেল,রেস্তরা,বেকারী ও বিভিন্ন খাদ্যজাত দোকানপাট থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

মুসল্লিদের শীতের কম্বলের দাম চড়া: এবারের বিশ্ব ইজমা মাঠে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শীতের গরম কম্বল। এ বছর শীত আর ঘন কুয়াশা বেশি থাকায় কম্বল বেচাকেনা বেশ ভাল হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কয়েক গুণ দাম বেশি। সে কারণে কম্বল ব্যবসায়ীদের পোয়া বারো।

২ জনের জামায়া নামাজ অনুষ্টিত : বৃহস্পতিবার ইজতেমা মাঠে অসুস্থ হয়ে ১ মুসল্লি মারা যায়।  শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আরো ১ শিশুর জানাযা নামাজ ইজতেমা মাঠে অনুষ্টিত হয়।