Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার গুলি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ও আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় অন্তত ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ও শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা মমতাজ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ শিক্ষকদের কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১০ জনকে আটক করে। গতকাল এসব ঘটনা ঘটে। গত ১২ই জানুয়ারি শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলার প্রতিবাদে গতকাল সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রদল। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মেইন গেটের উদ্দেশে আবারও মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসন ভবনের সামনে ও পেছন দিক থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তখন মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগ অবস্থান নেয় মেইন গেটে। এ সময় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এম্বুলেন্স ভাঙচুর করে। পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংগঠিত হয়ে তৃতীয় গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসন ভবনের পাশে থাকা ছাত্রলীগকে পাল্টা ধাওয়া দিলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় গ্রুপকে দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোটা-ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করতে দেখা গেছে এবং অন্তত ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের শব্দ শোনা গেছে। সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দ্দারসহ কয়েকজন নেতাকর্মী লাঠি উঁচিয়ে পুলিশকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় ছাত্রদলের ওপর আক্রমণ করতে; প্রথম দিকে পুলিশ ছাত্রদলের ওপর হামলা চালাতে রাজি না হওয়ায় তারা পুলিশকে পেটায়। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক সজীবের হাতে দিয়ে গুলির নির্দেশ দেয়। সজীব ওই অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এদিকে ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশও ছাত্রদলের ওপর চড়াও হলে এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেট দিয়ে বের হয়ে যায় এবং কিছু নেতাকর্মী শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় মমতাজ ভবনে আশ্রয় নেয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের পাশে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি গাড়িতে এবং মমতাজ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তৌফিকুর রহমান হিটলার, বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম সবুজ, ছাত্রলীগের বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পিকুল (ওরফে পিকুল ডাকাত, বোমা পিকুল), হালিম, বাবুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। অপর দিকে ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সহ-সভাপতি মুহাইমেনুল ইসলাম সোহাগ, সিরাজ, আনিছ, ফারুক, রঞ্জু, সাব্বির, সাহেদ, রাসেল, শাহিন, তুহিন, আরিফ, জিল্লু, মেহদি, লিটনসহ অন্তুত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছে সাহেদ, সৌরভ, সোহান ও সাব্বির। আহতদের ইবি মেডিকেল ও আশপাশের হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে বিকাল ৩টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে স্পেশাল পুলিশ ফোর্স এসে মমতাজ ভবনে আশ্রয় নেয়া ৮ নেতাকর্মীকে বের করে আটক করে। এ সময় পুলিশ তাদের পিটিয়ে আহত করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আটককৃত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন, ছাত্রদল সভাপতি ওমর ফারুক, আমীরুল, মনির, রিপন, মাহতাব, আনিছ, আরিফ। এক পুলিশ কনস্টেবল বলেছেন, পেটের দায়ে মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার কাজ করি। অথচ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আজ (গতকাল) আমাদেরকেই বেধড়ক পিটিয়ে আহত করলো এবং আমাদেরই অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি করলো। প্রক্টর প্রফেসর ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু বলেন, আমি ইবি থানার ওসিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি এবং তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট