Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এসিডে ঝলসে গেছে ইডেনের ছাত্রী আঁখি

 আঁখির জীবনে এখন গাঢ় অন্ধকার। প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইডেন কলেজের ছাত্রী আঁখিকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। এরপর মাথা, মুখমণ্ডল ও ক্ষতস্থানে এসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আঁখির দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর চানখাঁর পুল চৌরাস্তা সংলগ্ন কাজী অফিসের সামনে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেয়েটির নাম শারমিন আক্তার আঁখি (২৪)। ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যারয়ের বাংলা বিভাগের (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। থাকতেন সেগুনবাগিচায় অফিসার্স কোয়ার্টারে। প্রতিদিনের মতো গতকাল তিনি কলেজে যাচ্ছিলেন। পথে মনির ও মাসুমসহ কয়েকজন বখাটে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে চানখারপুল কাজী অফিসে গিয়ে মনির তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হননি আঁখি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বখাটের দল রাস্তায় টেনে আনে। প্রকাশ্যে আঁখির পিঠে ও হাতে ছুরি মেরে রক্তাক্ত করে। এ সময় প্রাণে বাঁচতে আঁখি চিৎকার করলে বখাটেরা তার মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এসিড ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের পাশে দায়িত্ব পালন করছিলেন চানখারপুল পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই সাহাবুদ্দিন।  মেয়েটির আর্ত চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিটে নিয়ে যান। টিএসআই সাহাবুদ্দিন বলেন, চানখারপুল চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থিত চতুর্থ তলা ভবনের নিচ তলা থেকে আহত অবস্থায় শারমিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাথা ও মুখ এসিডে ঝলসানো ছিল। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ঘটনায় আঁখির ভাই মহীউদ্দিন বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বংশাল থানার এসআই মাহমুদ হোসেন বলেন, শারমিনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন ছাতিআইন গ্রামে। তার পিতার নাম সৈয়দ আহম্মেদ। রাজধানীর রমনা থানাধীন সেগুনবাগিচা অফিসার্স কোয়ার্টারের টি/৪ নম্বর পূবালী ভবনে ভাইয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। সূত্র জানায়, বখাটে মনির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৃত আবু তাহেরের ছেলে। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে চাকরি করছে। দীর্ঘদিন ধরেই সে আঁখিকে উত্ত্যক্ত করছিল। তার কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রেম নিবেদন করতো। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদ হোসেন বলেন, এসিড নিক্ষেপকারী মনিরের সঙ্গে আঁখির পূর্ব পরিচয় ছিল। শুনেছি তারা গোপনে বিয়েও করেছিল। সমপ্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। এ কারণে আঁখি মনিরকে এড়িয়ে চলতো। এর  প্রতিশোধ নিতেই প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়া হয়েছে।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ব্লক এর আবাসিক সার্জন ডা. হরিদাস সাহা প্রতাপ বলেন, শারমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ১৩ থেকে ১৫ ভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার ডান হাতে একটি এবং পিঠে তিনটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এতে  শারমিনের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট