Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ওএসডি: কেন এ অপচয়?

জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) হিসেবে কর্মহীন বসিয়ে রেখে বেতন-ভাতা দেওয়ার সংস্কৃতি পুরোনো। আমরা প্রায় প্রতিবছরই এ বিষয়ে সংবাদ প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় নিবন্ধ লিখে থাকি। একটা বছর যায়, আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি: আরও কতজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা আরও কত অপচয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রথম আলোয় মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে ওএসডি করা হয়েছে মোট এক হাজার ৯৮৯ জন কর্মকর্তাকে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন সচিব, ১৬৬ জন অতিরিক্ত সচিব, ৪৯০ জন যুগ্ম সচিব, ৭৯০ জন উপসচিব, ৪৬০ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও ৭০ জন সহকারী সচিব। তাঁদের পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭ টাকা। হিসাবটি মাত্র তিন বছরের, কিন্তু এই অপচয়মূলক ও সম্পূর্ণ যুক্তিহীন চর্চা চলে আসছে বহু বছর ধরে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ক্ষমতাসীন সব সরকারই এটাকে স্বাভাবিক অনুশীলন বলে মনে করে, এর পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা করে না।
নামে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেও কার্যত ওএসডিদের অবস্থা হয় সাময়িকভাবে বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মতো। কারণ, তাঁদের কোনো দায়িত্বে রাখা হয় না। এটা করা হয় প্রধানত রাজনৈতিক বিবেচনায়। জনপ্রশাসনকে দলীয় রাজনৈতিক ধারায় এমনই বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে যে একটি দলের সরকার ক্ষমতায় এলে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক বা অনুগ্রহভাজন হিসেবে ওএসডি করা হয় প্রচুরসংখ্যক কর্মকর্তাকে। তাঁদের মধ্যে অনেক মেধাবী, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকেন। কিন্তু তাঁদের দক্ষতা-অভিজ্ঞতার মূল্য থাকে না, যখন ক্ষমতাসীন দলের প্রতি কর্মকর্তাদের আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়ন-পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল জনপ্রশাসনে দলীয়করণের অবসান ঘটানো। কিন্তু দলটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর জনপ্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। বরং আগের সরকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দলীয়করণ করেছে। ওএসডি করা ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ জনপ্রশাসনের দলীয়করণের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ দুটি লক্ষণ। এই সরকারের আমলে এগুলো বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও বেড়েছে।
প্রচুরসংখ্যক কর্মকর্তাকে ওএসডি করে বসিয়ে রাখার ফলে জনগণের অর্থের অপচয় হয়, কিন্তু এমন অপচয়ের অধিকার সরকারের আছে কি না, সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে এমন প্রশ্ন সম্ভবত জাগে না। এটা যে নৈতিকভাবে জবাবদিহি করার বিষয়, সে উপলব্ধিও সম্ভবত লোপ পেয়েছে। কিন্তু মনে রাখা ভালো, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেই জনগণের অর্থের যথেচ্ছ অপচয়ের অধিকার মেলে না। আরও গুরুতর কথা, ওএসডির এই ধারা চলতে থাকলে জনপ্রশাসনের কর্মদক্ষতা হ্রাস পেতে পেতে একটা সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, যখন খোদ সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হবে না। সুতরাং ওএসডি করার প্রবণতা ত্যাগ করা উচিত।

দৈনিক প্রথম আলো