Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রধানমন্ত্রী মস্কো পৌঁছেছেন

তিন দিনের সফরে মস্কো পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি শেরেমেতিয়েভা বিমানবন্দরে অতরণ করে। সফর সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র দপ্তরে কর্মকর্তারা মস্কো থেকে পাওয়া খবরের বরাত দিয়ে জানান, প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপক্ষীয় সফরে রাশিয়ান ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।  বিমানবন্দরেই লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে ’৭২-এ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সফরের এত দিন পর মস্কো যাওয়া তারই কন্যা শেখ হাসিনাকে। সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল তাকে সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানায়। সে সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ভ্লাদিমিরোভিচ ও মস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এসএম সাইফুল হক। বিমানবন্দরের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা করে মস্কোর প্রেসিডেন্ট হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। সফরকালে ওই  হোটেলেই অবস্থান করবেন তিনি। এর আগে গতকাল সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র দপ্তরে প্রটোকল উইং ঘোষিত তালিকা মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল রয়েছে তার সফরসঙ্গী হিসেবে। তবে এ তালিকার বাইরেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের দু’জন কর্মকর্তাও মস্কো গেছেন বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, রেলওয়ে মন্ত্রী মুজিবুল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চিফ হুইপ আবদুস শাহীদ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। কেবিনেট সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স ও সিনিয়র কর্মকর্তাগণ এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ায় শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর এটি। এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবুর্গে গিয়েছিলেন তিনি।
৮০০০ কোটি টাকার সমরাস্ত্র ক্রয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই আজ: রাশিয়ান ফেডারেশন নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর এবারের মস্কো সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। দিনের শুরুতেই রাষ্ট্রীয় ঋণে প্রায় ৮০০০ কোটি টাকার (১০০ কোটি ডলার) সমরাস্ত্র ক্রয়সহ দেশটির সঙ্গে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মস্কোর ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত প্রকাশ হবে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। সমরাস্ত্র কেনা ছাড়াও রূপপুরে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত দু’টি চুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার এবং সন্ত্রাস দমন এবং পরমাণু জ্বালানি  সংক্রান্ত তথ্যের আদান-প্রদান সংক্রান্ত পৃথক ৭ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। মস্কোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে হাই প্রোফাইল এ সফরের বিষয়ে ব্রিফ করলেও সমরাস্ত্র কেনাকাটার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। রাষ্ট্রীয় ঋণে কি ধরনের সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে এবং ঋণের সুদের হার কত জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করছে ইআরডি (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ)। এই চুক্তিতে যাতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা হয়, খুব স্বাভাবিকভাবে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের তরফে বার বার তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা হয়। মন্ত্রী কখনও জেনে জানাবেন, কখনও বিস্তারতি তথ্যের জন্য ইআরডি কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানতে চান, ঋণটি সহজ শর্তে, নাকি কঠিন শর্তে নেয়া হচ্ছে। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর কোনটাই না। স্বাধীনতার পর এত বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ঋণে সমরাস্ত্র কেনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলেও দীপু মনি বলেন, তার কাছে কোন তথ্য নেই। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া থেকে সেনাবাহিনীর জন্য সাত ধরনের এবং বিমানবাহিনীর জন্য চার ধরনের সমরাস্ত্র কেনা হবে। সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল মেতিস-এম-১ ও করনেট-ই; সাঁজোয়া যান বিটিআর-৮০ ও বিটিআর-৮০-কে; স্বয়ংক্রিয় গ্রেনেড লাঞ্চার এজিএস-৩০, নৌপথে সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক পারাপারের উপযোগী পিপি-৯১ পন্টুন ও ট্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত এমটিইউ-৯০ সেতু। বিমানবাহিনীর কেনাকাটার তালিকায় রয়েছে ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ জঙ্গি বিমান, সামরিক পণ্য পরিবহন উপযোগী এমআই ১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার, গামা-ডিই/গামা-সি ১ ই রাডার ও কাস্তা-২ই ২ রাডার।
সফরের অন্যান্য কর্মসুচি: চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। রুশ ফেডারেশনের ফেডারেল কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ভালেন্তিনা ইভানোভানো মাতভিয়েনকো এবং রুশ ফেডারেশনের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম মন্ত্রী নিকোলে নিকিফোরভ সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এছাড়া রাশিয়ার পরমাণু সহযোগিতা সংস্থা (রাশাটম) এর জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই কিরিয়েঙ্কো শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মস্কোর নাম না জানা সৈন্যদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিখ্যাত ক্রেমলিন জাদুঘর ও বলশয় থিয়েটার পরিদর্শন করবেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গ্যাসপ্রম কেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ‘কনটেম্পরারি বাংলাদেশ-পার্সপেক্টিভ ফর কলাবোরেশন উইথ রাশিয়া’ বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেবেন। তিনি ইউনিভার্সিটির রেক্টরের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
‘রাশিয়া বরাবরই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু’
মানবজমিন ডেস্ক জানায়, রাশিয়াকে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ইতার-তাসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সে সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো ও দীর্ঘ ৪০ বছর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ অর্জনের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন একটি ধাপে উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সোভিয়েত নেতৃবৃন্দের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, রাশিয়া সফর সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই ইতিবাচক ও আশা করছি এ সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও ব্যাপকতর ও ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যুদ্ধের পরও বাংলাদেশকে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা ও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাইন অপসারণের কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। ওই অভিযানে  সোভিয়েত ইউনিয়নের তিন নৌ সদস্যের প্রাণ হারানোর কথা বাংলাদেশ এখনও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা প্রয়োজনের সময়ে আমাদের ভুলে যায়নি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখাকে আমরা আমাদের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট