Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘আওয়ামীলীগ তোর নাম, ভন্ডামী’

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজমিডিয়াবিডি.কম, ১২ জানুয়ারি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, মওলানা ভাসানী আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিল, অথচ আজকে ভাসানী নামটি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। সাংবাদিক নির্মল সেন যেভাবে বলেছেন, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ তেমনি মওলানা ভাসানী ৭৩ সালে ইত্তেফাক পত্রিকায় লিখেছিলেন, ‘ভন্ডামী তোর নাম, আওয়ামীলীগ’।

আজকে আমরা রাজনীতিতে একটা সংকটময় সময় অতিক্রম করছি। এই সংকট আওয়ামীলীগ পরিকল্পিতভাবে তৈরী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বক্তব্য দেন। ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

তিনি আরও বলেন, নির্দলীয় সরকার বিলুপ্ত করে ষড়যন্ত্রের চোরাগলি দিয়ে আবার ক্ষমতায় এসে লুটেপুটে খেতে চায়। জনগণ তা হতে দিবে না। আমরা যখন মঈনউদ্দিন ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে কালো পতাকা মিছিল করছি, তখন তিনি ভাষণ দিয়ে অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কথা জনগণ বিশ্বাস করে না দাবি করে তরিকুল বলেন, ৮৬ সালে শেখ হাসিনা লালদীঘির মাঠে বলেছেন, ‘এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে অংশ নিবে তারা জাতীয় বেঈমান’। এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামায়াতকে সাথে নিয়ে তিনি নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। যিনি স্বৈরাচারকে বৈধতা দেন, তাকে জনগণ বিশ্বাস করে না। তার বৈধতা নিয়ে এরশাদ আজ পর্যন্ত রাজনীতি করছে।

আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৯৬ তে আওয়ামীলীগ যখন জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তখন তারা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী ছিল না । এই জামায়াতকে নিয়ে তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য জ্বালাও পোড়াও করেছে। এখন তারা খারাপ হয়ে গেছে, কারণ তাদের সাথে নেই।

বিচারপতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আদালতে অধিকাংশ বিচারপতির অমতে এবং দেশের অধিকাংশ নাগরিক, সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের বিরোধীতা স্বত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য অবসর নেওয়ার পর বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করার রায় দেন।

গতকাল আমাদের মিছিল যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তখন ঘরের জানালায় বসে নারী, পুরুষ ও শিশু বসে দেখছিল যে আমাদের বিজয় কতদূর। কিছুদিন পর যখন আমাদের মিছিল আরও দীর্ঘ হবে তখন সকলে রাস্তায় এসে আমাদের সাথে শরিক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আপনি আরেকবার সুযোগ চেয়েছেন। যদি ভাল কাজ করে থাকেন তাহলে ভয়ের কোন কারণ নেই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। আপনি আপনার ছায়াকেও ভয় পাচ্ছেন, এই ভয়ে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনব।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনিরুজ্জামান মিঞা বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিথ্যাচার করছে। তাদের মিথ্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রতিবাদ করার ইতিহাসের পূণরাবৃত্তি করতে না চাইলে সরকারের উচিত পদত্যাগ করা।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উল্লেখ করে এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানান আয়োজকরা।

ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড.আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফির পরিচালনায় সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন জাবির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড.মোস্তাহিদুর রহমান, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বজলুল করিম আবেদ, সৈয়দা আসিফা আশ্রাফী পাপিয়া এমপি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম মিয়া, যুবদলের সভাপতি অ্যাড.সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক সেমিনারে অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড.আ.ন.ম.মুনির আহমদ চৌধুরী।