Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আম বয়ানের মধ্যদিয়ে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

 ঢাকা, ১১ জানুয়ারি : শুক্রবার বাদ ফজর পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে  টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৪৭তম বিশ্ব ইজতেমার তিন দিনের প্রথম পর্ব। আজ ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সর্ববৃহত জুমার জামাত। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে ১৩ জানুয়ারি রোববার। মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করছেন।
মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ২য় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। ২০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বাণীতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
তুরাগ নদের তীরে দু’পর্বের ছয় দিনের এ ইজতেমার কাজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, রেলমন্ত্রী মজিবুল হক ও স্থানীয় এমপি মো: জাহিদ আহসান রাসেল।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, গাজীপুরের পুলিশ সুপারসহ র্যাব ও পুলিশের ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইজতেমা মাঠের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জিম্মাদার প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ইজতেমার আম বয়ান শুরু হয়ে গেছে।
বুধবার থেকেই ইজতেমার প্রথম পর্বে শরিক হওয়ার জন্য দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। পুরো দু’সপ্তাহ ইজতেমার এই আমেজ থাকবে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকাজুড়ে।
এদিকে ১৬০ একরের এই বিশাল এলাকায় মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত নজরদারিসহ যাবতীয় কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে।
ইজতেমায় মুসল্লিদের সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থানের জন্য ইজতেমা ময়দানে চটের তৈরি পুরো প্যান্ডেলকে ৪০টি খিত্তায় ভাগ করে বিভিন্ন জেলাওয়ারী মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের চলাচলের জন্য ছাউনির ভেতরে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রশস্ত রাস্তা।
ময়দানের উত্তর পশ্চিম কোণে তুরাগ নদের তীর ঘেষে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিদেশী মুসল্লিদের জন্য টিন শেডের আন্তর্জাতিক নিবাস। মূল ছাউনির নিচে মধ্যখানে তুরাগ নদের তীর ঘেষে টিন, লোহার পাইপ ও কাঠ দিয়ে মূল বয়ান মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
আগত মুসল্লিদের জন্য এ বছর সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৮৩৪টি টয়লেট, ১২৪টি গোসল খানা ও ৩২টি অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১২টি নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি লিটার পানির সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তুরাগ নদ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনী ৮টি ভাসমান পল্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যসহ ১২ হাজার সদস্য ৪ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। র্যাব ও পুলিশের বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব টাওয়ার থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি ময়দানের আশপাশ এলাকায় অস্থায়ী মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বসিয়েছে।
ইজতেমাকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন টঙ্গী এলাকার সব সিনেমা হল ইজতেমা চলাকালীন তিন দিন করে ছয় দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বসা ও থাকার সুবিধার জন্য জেলাওয়ারী খিত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। খিত্তাগুলো হচ্ছে- গাজীপুর খিত্তা নং-১, ২, ঢাকা ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, সিরাজগঞ্জ ১৩, নরসিংদী ১৪, ফরিদপুর ১৫, রাজবাড়ী ১৬, শরীয়তপুর ১৭, কিশোরগঞ্জ ১৮, রংপুর ১৯, নাটোর ২০, মেহেরপুর ২১, রাজশাহী ২২, গাইবান্ধা ২৩, জয়পুরহাট ২৪, লালমনিরহাট ২৫, হবিগঞ্জ ২৬, দিনাজপুর ২৭, সিলেট ২৮, চাঁদপুর ২৯, ফেনী ৩০, চট্টগ্রাম ৩১, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ৩২, বাগেরহাট ৩৩, কুষ্টিয়া ৩৪, নড়াইল ৩৫, চুয়াডাঙ্গা ৩৬, যশোর ৩৭, ভোলা ৩৮, বরগুনা ৩৯, ঝালকাঠি ৪০। ঢাকা মহানগরের জন্য রয়েছে আলাদা খিত্তা।