Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হত্যা, গুম আর ধর্ষণ সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে: খন্দকার মোশারফ

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজমিডিয়াবিডি.কম, ঢাকা, ১০ জানুয়ারি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী সরকারের হত্যা, খুন, ধর্ষন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুমের কারনে তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।
হৃদয়ে বাংলাদেশ সংগঠন আয়োজিত ‘হত্যা, গুম, হামলা ও মামলার রাজনীতির শেষ কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দুপুরে ভিআইপি লাউঞ্জে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, কয়েকদিন যাবত ধরে গণমাধ্যমের বিভিন্ন জরিপে ৭০ ভাগ জনগন নির্দলীয় তত্বাবধায়কের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগনই এখন সরকারকে বাধ্য করবে তত্বাবধায়ক সরকার বহাল করতে।
সম্প্রতি ধর্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। হত্যা, গুম, মামলা হামলার সাথে নারী নির্যাতন আর ধর্ষণ দেশে অস্থিরতা তৈরী করেছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে সরকারের পতন ঘনিয়ে এসেছে। সরকারের নির্যাতনের মাত্রা ৭২-৭৫ সালকে ছাড়িয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫.২ ধারাতে বলা হয়েছে বিচার বর্হিভূত হত্যা বন্ধ করা হবে। কিন্তু তাদের চার বছরের বিচার বর্হিভূত হত্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে তথ্য দিয়েছে হিউম্যান রাইটস।
হত্যার চেয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক সষ্টি করেছে গুম। এই সরকারের সময়ে গুমের সংখ্যা বিভিন্ন তথ্য মতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫৮ জন হলেও তা দুইশতাধিক।
সরকার ফাঁসির আসামীকে মুক্তি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত ২৫ জন ফাঁসির আসামীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের চার বছরে ২১ জনকে মুক্তি দিয়ে তাদের স্বৈরাচারী চরিত্র প্রমাণ করেছে।
টাকার বিনিময় সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭৭০১টি মামলা বাতিলের মধ্য দিয়ে চি‎হ্নিত সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দিয়েছে। বিকাশের মতো সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেফতার করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে গাড়ী পোড়ানো মামলায় আটক রেখেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে।
ছাত্রলীগের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দিন দুপুরে চাপাতি দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে তাদের অপকর্ম শুরু করেছে।
সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সরকারের জনপ্রিয়তার উপর জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এতে সরকারের নির্যাতনের তথ্যসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় পাঠক জরিপে দেখা গেছে আওয়ামীগের জনপ্রিয়তা কমেছে আর জাতীয়তাবাদী শক্তির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের এই অপশাসন কোন সভ্য দেশে চলতে পারে না। এই সরকারের হাত থেকে জনগনের মুক্তির উপায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় জানানো। কিন্তু সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। কারণ তারা জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বেগম জিয়ার নেতৃত্বে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছি। কারণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যতিত সরকার থেকে মুক্তির কোন সাংবিধানিক পথ নেই।
আন্দোলনের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন যে, আমরা রাজপথে লাগাতার কর্মসূচী দিচ্ছে না? আমরা জনদুর্ভোগ চাই না। জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে চাই। আইয়ুব খান থেকে স্বৈরাচার এরশাদ পর্যন্ত পতন হয়েছে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে। জনগণ আমাদের সাথে আছে আমরাও দাবি আদায় করে এই সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হবো।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, “দেশে হত্যা-গুম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিটি গ্রামে, ইউনিয়নের যেয়ে মানুষকে আওয়ামী সরকারের দুঃশাসন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।”
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল আলতাফ হোসেন বলেন, এই সরকারের আমলে ২ হাজার ৫শ’ ৪৯ টি ধর্ষণ হয়েছে। ১১হাজার ৭ শ’ ৯০ টি খুন, ৪ শ’ ৬২ টি ক্রসফায়ার, ১ শ’ ৫৬ জন রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে গুম করা হয়েছে।
যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, দেশে হত্যা, গুম, হামলা বন্ধ করতে হলে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। তা না হলে কখনোই এ দেশে হত্যা, গুম বন্ধ হবে না।
আসিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, এই সরকার র‌্যাব, ডিবির অফিসগুলোকে অন্যায় অবিচারের আখড়া বানিয়েছে। মানুষ মেরে তার লাশ ইটের ভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এভাবে বেশিদিন চলতে পারেনা।
তিনি বলেন, দেশ এখন কারাগারে রুপান্তরিত হয়েছে। ১৫ কোটি মানুষ কয়েদি, শেখ হাসিনা কারারক্ষী এবং জল্লাদ উভয় দায়িত্বই পালন করছে।
নিউহোপ মানবাধিকারের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের খুন, গুম, রাজনৈতিক হামলার একটি ভিডিওচিত্র দেখে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরী হয়েছে তাতে নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মুহাম্মদ হানিফের সভাপতিত্বে ও মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্ণেল (অব.) শাজাহান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, সরওয়ার আজম খান, হৃদয়ে বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস হাসনাত, তাঁতী দলের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।