Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকার কৃত্রিমভাবে রাজনৈতিক সংকট তৈরী করছে: তরিকুল ইসলাম

, ০৯ জানুয়ারি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের প্রধান সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরী করেছে সরকার। রাজনৈতিক সংকট তৈরী হওয়ার মত কোন উপাদান বা পরিস্থিতি দেশে নেই।
সরকার নিজের ইচ্ছার মূল্য দিতে গিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ আয়োজিত ‘চলমান রাজনৈতিক সংকট ও নিরপেক্ষ নির্বাচান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোন ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারছে না । তারা ভিন্নমতকে কঠোরভাবে দমন করছে। দেশের সংবিধান, আদালত, সচিবালয়, ব্যাংক-বীমা থেকে শুরু করে সবকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামত চলছে। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তারা নিজেদের মত পরিবর্তন করছে। যা কোন সভ্য দেশে কাম্য নয়।

বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে তরিকুল বলেন, সরকারের অযোগ্যতা আর অদক্ষতায় তাদের ব্যর্থতার ঝুলি মাথার উপর ঝুলছে। ঘন কুয়াশার অন্ধকারেও তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হলমার্ক, শেয়ারবাজার, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, বিডিআর বিদ্রোহ, বিশ্বজিত হত্যা, ইলিয়াছ আলী গুমসহ বিপর্যয় সরকারের ব্যথতায় ঘটেছে।

জনজীবন বিপর্যস্ত উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য, সীমাহীন দুর্নীতি, সীমান্তে ধারাবাহিক হত্যাকান্ড, জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। নারী নির্যাতন আর ধর্ষণের মতো ঘটনায় মানবতা আজ কাঁদছে।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা বর্নণা করে তিনি বলেন, সংবিধান থেকে নির্দলীয় সরকার বিলুপ্ত করে জনগণের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে সরকার। এই অধিকার আদায় করতে হবে যে কোন মূল্যে ।

বিএনপির সমন্বয়ক তরিকুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালা বদল হয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। সরকার আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে নির্দলীয় সরকার পুণ:প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি।

আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর গণতন্ত্র রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে এক কাতারে দাড়িয়ে আমরা আন্দোলন করে যাব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিকে সংসদে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আন্দোলন ভিতরে বাইরে এক সাথে করতে হবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক আওয়ামীলীগের বক্তব্য ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি’র সমালোচনা করে বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা আপনারা আমাদের পক্ষে থাকলে তা আপনাদের ভাগ্য। আমরা রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধারা কেন আপনাদের পক্ষে থাকব?

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ইসতিয়াক আলী জুলপাকের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব ও বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল প্রমুখ।