Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পর্দানশিন সেই ২০ নারীর বোরকা কেড়ে নিল পুলিশ

, ঢাকা ০৭ জানুয়ারি :

সন্দেহভাজন হিসেবে মগবাজার থেকে গ্রেফতারকৃত ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০ পর্দানশিন নারীর বোরকা খুলে নেয়া হয়েছে। সোমবার বোরকা ছাড়াই তাদের আদালতে নেয়া হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ঢাকায় আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়। আদালত তাদের জামিন না দিয়ে পরবর্তী তারিখ ধার্য করে ২৩ জানুয়ারি। আটকদের মধ্যে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বৃদ্ধা স্ত্রী ছাড়াও অসুস্থ ও পরীক্ষার্থী রয়েছেন। আইনজীবীরা বলছেন, ৫৪ ধারায় আটকদের কোনো অভিযোগ ছাড়া এতদিন আটকে রাখা ও তারিখ ধার্য করা নজিরবিহীন ঘটনা।

জানা যায়, ৫৪ ধারায় আটক কাদের মোল্লার স্ত্রী মিসেস সানোয়ারা জাহানসহ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০ নেত্রীকে সোমবার ধার্য তারিখে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। ২০ জনের অধিকাংশকেই কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। কয়েক জনকে রাখা হয়েছিল ঢাকা কারাগারে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পর্দানশিন নারীদের কাউকেই বোরকা পরতে দেয়নি পুলিশ। কাশিমপুর থেকে যানজটের মধ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের পুরনো ঢাকায় মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের দীর্ঘক্ষণ হাজতখানায় রাখার পর পুনরায় কাশিমপুরেই ফিরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু তাদের কাউকেই বোরকা পরতে দেয়া হয়নি। যারা সব সময় পর্দা মেনে চলেন, বোরকা পরেন, তাদেরকে এই প্রথমবারের মতো বোরকা ছাড়াই পুরুষ মানুষের সামনে আসতে হলো। ইসলামের বিধান মত কঠোর পর্দায় অভ্যস্ত নারীরা এভাবে বোরকা ছাড়া আদালতে আসায় চরম বিব্রতকার অবস্থায় পড়েন। অপমানে, ক্ষোভে লজ্জায় তারা নির্বাক হয়ে পড়েন।

পুলিশের সময় আবেদন ছাড়াই আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করে। এর আগে তারা রমনা থানায় দু’দিনের পুলিশি রিমান্ডে ছিলেন। সেখানেও তাদেরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয় এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

বিনাদোষে কারাবন্দী এসব নারির অনেকেই পরীক্ষার্থী । এর মধ্যে রয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী নুরজাহান, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসী, ইডেন কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী জাহানারা ইসলাম, ফারহানা মিতু, মাস্টার্স প্রথম পর্বের ছাত্রী মারজানা আক্তার, এমবিবিএসের ছাত্রী সুমাইয়া মুবাশ্বেরা তামান্না। এর মধ্যে অনেকেরই লিখিত পরীক্ষা শেষে ভাইভা পরীক্ষা রয়েছে। আইনজীবীরা এ বিষয়গুলোতে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৫৪ ধারায় আটকদের কোনো অভিযোগ ছাড়া এতদিন আটকে রাখা এবং নতুন করে তারিখ ধার্য করা নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে তাদের দু’দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু রিমান্ডে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। মামলা করার মতো পুলিশ কোনো উপাদান পেলে এরই মধ্যে মামলা হয়ে যেত। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের আটকে রাখার জন্য ৫৪ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু হয়রানি করার জন্যই তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৫৪ ধারায় কাউকে গ্রেফতার করলে ৪৮ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু তাদেরকে এরই মধ্যে ৫ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ১৭ ডিসেম্বর তাদের আটক করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করে দু’দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটকে রাখা আইনের শাসনের চরম পরিপন্থী।

কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ২১ নারীকে গ্রেফতার করে রমনা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর কোনোপ্রকার অভিযোগ দাঁড় করাতে না পেরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। মহানগর হাকিম তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে আদালত ২০ জনের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ছাত্রী সংস্থার কর্মী হাবিবা নাসরিন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় আদালত তাকে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়। ওইদিন আদালত তার জামিন দেয়নি। তবে গত রোববার তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।