Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আজিজুর রহমানকে গুড সার্টিফিকেট দেন হুমায়ূন কবীর- বাহারুলের ভাগ্নে বলে লুটের সুযোগ পায় ডিএন স্পোর্টস

হলমার্ক লুটপাটের পর সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ম্যানেজার আজিজুর রহমানকে গুড ব্যাংকার হিসেবে লিখিত সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ূন কবীর। সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুলের ভাগ্নের প্রতিষ্ঠান বলে রূপসী বাংলা শাখা থেকে লুটপাটের সুযোগ পায় ডিএন স্পোর্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। হলমার্কসহ আরও যে ৫টি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তার অন্যতম ডিএন স্পোর্টস। সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখাকে ঘিরে একটি লুটপাটের চক্র গড়ে উঠেছিল সেখানে সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ূন কবীর, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বাহারুলসহ অন্যান্য কর্তাব্যক্তির ভূমিকা ছিল সদরে-অন্দরে। ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের হোতা হলমার্কের তানভীর মাহমুদ, প্যারাগনের সাইফুল ইসলাম রাজা ও নকশী নীটের আবদুল মালেক ছিলেন পূর্বপরিচিত, পরস্পরের প্রতারণা শিক্ষার গুরু-শিষ্য, এমন সকল তথ্যই উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের অধিকতর অনুসন্ধান ও তদন্তে। সূত্রমতে, বর্তমানে প্যারাগন নামের প্রতিষ্ঠানের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা এক সময়ে চাকরি করতেন হলমার্ক গ্রুপের ম্যানেজার হিসেবে। সাইফুল ইসলাম রাজার স্ত্রী চাকরি করতেন সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখায়। সে সুবাদে হলমার্কের লুটপাটের সহযোগী হয়ে ওঠেন সাইফুল ইসলাম রাজা এবং তার স্ত্রী। ২০১০ সালে হলমার্কের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেই প্যারাগন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে স্ত্রীর সহযোগিতায় ও তানভীরের প্রতারণা শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা থেকে একই পদ্ধতিতে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সাইফুল ইসলাম রাজা। নকশী নীট নামের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খুলে টাকা ক্যাশ করে নেন তানভীর মাহমুদ। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল মালেক এক সময় ছিলেন হলমার্ক গ্রুপের উপদেষ্টা। হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান তানভীর মাহমুদ স্বীকার করেছেন সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা থেকে তার লুটপাটসহ নানা প্রতারণামূলক কাজের শিক্ষাগুরু ওই আবদুল মালেক। তাদের লুটপাটের সহযোগিতা করেছেন রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ম্যানেজার আজিজুর রহমান এবং অর্থের বিনিময়ে অপকর্ম জায়েজ করেছেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ূন কবীরসহ আরও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। কর্মকর্তাদের কেউ ফাইল চাপা দিয়ে রেখেছেন, কেউ তথ্য গোপন করে লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন। হলমার্কসহ ওই ৫টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ডিএন স্পোর্টসের পরিচালক জনি ও তার স্ত্রী শিখার নামে অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুদক ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করলেও মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন জনির শ্বশুর ডিএন স্পোর্টসের কর্ণধার মোতাহার হোসেন চৌধুরী। তাকে আসামি করা হয়নি। ওই মোতাহার হোসেন চৌধুরী ব্যক্তিজীবনে সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামের ভাগ্নে বলে জানা গেছে। যদিও মামলার অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন মোতাহার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কাজী বাহারুল ইসলামের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সূত্র মতে, ওই আত্মীয়তার সম্পর্কের জোরেই সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখায় ফ্রি স্টাইল লুটপাটে অংশ নেয় মোতাহার হোসেন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ডিএন স্পোর্টস, তারা হাতিয়ে নেয় ৮৮ কোটি টাকা। ঋণ পাওয়ার ন্যূনতম কোন যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ভাগ্নের যোগ্যতায় লুটে নেয় ব্যাংকের টাকা।
সোনালী ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  কেবলমাত্র হলমার্ক লুটপাট দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করায় সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ম্যানেজার এ কে এম আজিজুর রহমান ব্যাংকের এমডি হুমায়ূন কবীরের গুড বুকে ছিলেন। সে কারণে ২০১০ সালের জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি হুমায়ূন কবীর ওই ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার ম্যানেজার আজিজুর রহমানকে গুড ব্যাংকার হিসেবে কাজের দক্ষতার একটি স্বীকৃতিপত্র প্রদান করেন। দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন  শিবলী, জানান, দুদকের অনুসন্ধানকালে সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামের  আত্মীয়তার সম্পর্কটি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি আশা করেন মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলে সেটাও বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, হলমার্কের তানভীর, প্যারাগনের সাইফুল ইসলাম রাজা ও নকশী নীটের আবদুল মালেক পরস্পরের পূর্বপরিচিত ও এক সময়ে একই প্রতিষ্ঠানে ছিলেন, তাদের অর্থ লুটের ঘটনাও যোগসাজশের।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট