Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

 সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত রাতে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনে লিটারে ৭ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ৬৮ টাকা, কেরোসিন ৬৮ টাকা, অকটেন ৯৯ টাকা এবং পেট্রল ৯৬ টাকায় বিক্রি হবে। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে হরতালের আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮  বিরোধী জোট এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। আগামী রোববার হরতাল ডাকা হতে পারে বলে রাতে বিরোধী দলের সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটার ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। দাম বাড়ানোর পর প্রতি লিটার ডিজেল ৬১ টাকা, কেরোসিন ৬১ টাকা, পেট্রল ৯১ টাকা এবং অকটেন ৯৪ টাকা ও ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকা করা হয়। একই বছরে আরও তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫ই মে, দ্বিতীয় দফায় ১৮ই সেপ্টেম্বর, তৃতীয় দফায় ১০ই নভেম্বর দাম বাড়ানো হয়। ২০১১ সালের শুরুতে প্রতি লিটার কেরোসিন ও ডিজেলের দাম ছিল ৪৪ টাকা, পেট্রল ৭৪ টাকা, অকটেন ৭৭ টাকা এবং ফার্নেস অয়েল ৪০ টাকা। ২০১১ সালে জ্বালানিতে গড়ে দাম বাড়ে প্রতি লিটারে ১৭ টাকা করে।
গত কিছুদিন ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে মত জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা শুনেই আগাম কর্মসূচি দিয়ে রেখেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ১৮ দলের  বৈঠকের পর বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জ্বালানি তেলের দাম যেদিন সরকার বৃদ্ধির ঘোষণা দেবে, তার পরদিনই হরতাল হবে।
দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি দেয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রালিয়াম কর্পোরেশনের লোকসান বেড়ে যাচ্ছে, তা কমাতেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির চার শতাংশ। এর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল। তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা সম্পর্কিত তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারকে ১৮ টাকা ৭৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। প্রতি লিটার কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১৯ টাকা ১৫ পয়সা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তরল জ্বালানি সরবরাহ করতে গিয়ে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে বলে সরকার স্বীকার করেছে, যার সমালোচনা করছে বিরোধী দলসহ অনেক অর্থনীতিবিদ। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে তা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব রাখবে বলে স্বীকার করেছে সরকার। তবে তা বাজেটে ধরা লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট