Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইডেনে ভরাডুবি ভারতের পাকিস্তানের সিরিজ জয়

কলকাতা: জামশেদের ব্যাট ও পাক পেস ব্যাটারির সৌজন্যে নিজেদের পয়া মাঠে জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ইডেনে পাকিস্তান ৮৫ রানে হারাল ভারতকে। একইসঙ্গে চলতি মৈত্রী সফরে একদিনের সিরিজ জিতে নিল তারা।
ব্যাটিং বোলিং, ফিল্ডিং সহ সব বিভাগেই পাকিস্তানিরা যে টেক্কা দিয়েছে তা মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক ধোনি। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়াটাই কাল হলো? নাকি ধোনির সময়টা খুব খারাপ চলছে? তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্যেই যে সহজ সত্যিটা বেরিয়ে এসেছে তা হল, এই মুহূর্তে একটা বেতো রুগী হয়ে গিয়েছে গোটা টিম ইন্ডিয়া। অধিনায়ক থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট সকলেই দল গঠন থেকে শুরু করে টসে জেতার পর কী করা উচিত তা নিয়ে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। ইংল্যান্ড ঘরে ঢুকে চুন কালি মাখিয়ে সিরিজ জিতে ক্রিসমাসের উপহারটা নিয়ে গেল। পাকিস্তান মৈত্রী ও আস্থাবর্ধক সিরিজটাও ওয়াঘার ওপারে নিয়ে চলে গেল।
টসে জিতে ব্যাটিং না নিয়ে প্রথমেই পাকিস্তানকে এদিন অ্যাডভান্টেজ দেন ধোনি। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিকে ইডেনে টসে জিতে ধোনি ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তানকে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে কলকাতায় মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছিল। শহরের রাস্তাঘাট ভালোই ভিজে ছিল বেলা অবধি।। সকাল থেকেই রোদের দেখা মেলেনি। বেলা বারোটাতেও ঠাণ্ডা হাওয়া, মেঘলা আকাশ। সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আর্দ্রতা। তারই মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয় দুই প্রতিবেশীর লড়াই।
বিকেল চারটের কিছু আগে নিজেদের ইনিংস শেষ করে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ধোনির ফিল্ডিং নেওয়ার কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে নাসির জামশেদের শতক ও মুহম্মদ হাফিজের অর্ধশতকের সৌজন্যে পাকিস্তান নিজেদের পয়া মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় ভারতকে।  এদিন পাক ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ ছিলেন জামশেদ ও হাফিজ। ১০টি চারের সাহায্যে ৭৪ বলে ৭৬ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হন হাফিজ। আজহার আলিকে ২ রানের মাথায় রান আউট করেন ধোনি। ইউনুস খানকে ব্যক্তিগত ১০ রানে এলবিডব্লু করেন সুরেশ রায়না। অধিনায়ক ব্যক্তিগত ২ রানে মিসবা উল হক এলবিডব্লু হন অশ্বিনের বলে। শোয়েব মালিক ইশান্তের বলে যুবরাজের হাতে ধরা পড়েন ২৪ রানে। কামরান আকমলকে খালি হাতে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা। উমর গুল ১৭ রানে বোল্ড হন ইশান্তের বলে। সাত ফুটের বোলার বহু আলোচিত মুহম্মদ ইরফানকে ০ রানে বোল্ড করেন ইশান্তই। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে শেবাগ তালুবন্দি করেন সায়িদ আজমলকে (৭)।
তবে ইশান্তের ঝোড়ো স্পেল ছাড়া এদিন যথারীতি দাগ কাটতে ব্যর্থ বাকি ভারতীয় বোলাররা। পাকিস্তানের ১৪১ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে। আউট হন হাফিজ। ততক্ষণে ধোনির যাবতীয় এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ। তারপর ১৪৫ ও ১৭৭ রানে দুই ও তিন নম্বর উইকেটটি পড়ে সবুজ সাদাদের। ১৮২ রানে চার নম্বর উইকেটটি হারান শোয়েব মালিকরা। কামরান আকমলকে খালি হাতে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা। জাদেজার বলেই অপ্রতিরোধ্য নাসির জামশেদকে স্টাম্পড করেন ধোনি। নাসির জামশেদ ১২ টি চার ও দুটি ছক্কার সৌজন্যে ১২৪ বলে ১০৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কিন্তু তার মধ্যেই ইডেন ভারতীয় বোলারদের জন্য একটা দু্ঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
কার্যত পাক ব্যাটসম্যানদের হাতে বিশেষ করে জামশেদ, হাফিজের হাতে বড় ধোলাই খেলেন ভুবনেশ্বর কুমার, অশোক দিন্দা, অশ্বিনরা। ভুবনেশ্বর ৯ ওভারে ৬১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। দিন্দা ৭ ওভারে ৪২ রান দিয়ে খালি হাত। যুবরাজ এক ওভারেই ১০ রান বিলিয়েছেন। অশ্বিন ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজা ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট পেয়েছেন। ভালো বল করেছেন ইশান্ত শর্মা। ৯.৩ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৩ টি উইকেট নিয়েছেন। ওভার পিছু গড়ে সাড়ে তিন করে রান দিয়েছেন। জয়ের জন্য ভারতের টার্গেট ছিল ২৫১।
ভারতের ইনিংস শুরুতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। গৌতম গম্ভীর ১১, সহবাগ ৩১, কোহলি ৬, যুবরাজ ৯, রায়না ১৮, অশ্বিন ৩, রবীন্দ্র জাদেজা ১৩ রান করেছেন। ভুবনেশ্বর কুমার ও দিন্দা খালি হাতে ফেরেন। ইশান্ত শর্মার অবদান ২। একমাত্র ৮৯ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ধোনি। দলীয় ৪২ থেকে ১০৩ রানের মধ্যে ৬টি উইকেট হারায় ভারত। ওখানেই শেষ হয়ে যায় সিরিজে পালটা লড়াই দেওয়ার আশাটুকুও। জুনাইদ খান ৩৯ রানে তিনটি উইকেট, সায়িদ আজমল ২০ রানে তিনটি, উমর গুল ২৪ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন। মহম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাসির জামসেদ।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট