Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা যেকোন মুহূর্তে

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি :  যে কোন মুহূর্তে ঘোষণা হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মকর্তাদের নাম। ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটির তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও কিছু পদে পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডিয়ামে কয়েকজন নতুন মুখ আসছেন। বাদ পড়তে পারেন সমান সংখ্যক। প্রেসিডিয়ামে আছেন এমন দু’জন মন্ত্রীর বিষয়ে হাইকমান্ডের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। সম্পাদকমণ্ডলীর কিছু পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে বিদায়ী কমিটির কয়েক জন পদ হারাতে পারেন। নতুন মুখ হিসেবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সদস্য পদেও কিছুটা রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে কাউন্সিলের পর থেকে বিদায়ী কমিটির সদস্য এবং পদপ্রত্যাশী নেতারা উতকণ্ঠার মধ্যে আছেন। কাউন্সিলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়ার পর এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলের অন্য নেতারা খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। কমিটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে গোপনীয়তার সঙ্গে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা দলের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের পরামর্শ নিচ্ছেন।
প্রেসিডিয়ামের একটি শূন্য পদে চট্টগ্রাম থেকে একজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী যে কেউ এ পদে আসতে পারেন। বরিশাল অঞ্চল থেকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রেসিডিয়ামে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা ছিল কাউন্সিলের আগে থেকেই। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে প্রেসিডিয়ামে নেয়া হতে পারে। এদিকে সিলেট অঞ্চল থেকে প্রেসিডিয়ামে একজনকে নেয়া হতে পারে। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাদ পড়ার পর সিলেট অঞ্চল থেকে প্রেসিডিয়ামে আর কাউকে নেয়া হয়নি। আলোচনা আছে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়া প্রবীণ নেতাদের এ পদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দোদুল্যমান অবস্থায় আছে।
সিলেট সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ আবারও একই পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন। যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিদায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আজম সম্পাদকমণ্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যাচ্ছেন। এদিকে বিদায়ী কমিটির ৭ সাংগঠনিক সম্পাদকদের কারও কারও পদ বদল হতে পারে। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দু’-একজন নতুন মুখও আসতে পারেন।
এদিকে দলীয় সভানেত্রীর কাছে কমিটি গঠনের পুরো ভার থাকায় পদপ্রত্যাশীরা নানাভাবে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের কাছেও পদপ্রত্যাশীরা লবিং করছেন। তবে দলের পদ পেতে বিদায়ী কমিটির সদস্যরা হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। তারা সতর্কভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পেতেও নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লবিং করে যাচ্ছেন। গত ২৭ ডিসেম্বর নগর কমিটির কাউন্সিল হয়েছিল। এ কাউন্সিলেও কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ভার দলীয় সভানেত্রীর ওপর অর্পণ করেন। কাউন্সিলের পর নগর আওয়ামী লীগের কমিটি একটি না দু’টি হবে এ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন দলের হাইকমান্ড । নগর কমিটির এক বা বিভক্ত কমিটি হলে নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছেন তারা। এ কারণে পুরো কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হতে পারে। সূত্র জানায়, নগর আওয়ামী লীগের বিভক্ত কমিটি হলে দুই কমিটির মধ্যে সমন্বয় করতে একজনকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে অবিভক্ত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে আগ্রহী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ দায়িত্ব পেতে পারেন। নগর আওয়ামী লীগের বিভক্ত কমিটি হলে দক্ষিণে সভাপতি হিসেবে এম এ আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাজী সেলিম দায়িত্ব পেতে পারেন। আর উত্তরে সভাপতি হিসেবে এ কে এম রহমত উল্লাহ নীতিনির্ধারকদের পছন্দের তালিকায় আছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম এবং বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনা সপ্তমবারের মতো দলের সভাপতি মনোনীত হন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো মনোনীত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কাউন্সিলরা দলের পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্বও নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর অর্পণ করেন। এ দায়িত্ব পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জানিয়েছিলেন মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির কমিটি ঘোষণা করা হবে।
২০০৯ সালে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ কাউন্সিলের দলের অভিজ্ঞ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে প্রেসিডিয়াম থেকে সরিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য করা হয়। বাদ পড়েন আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক আখম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন নেতা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট