Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের: ‘ফাঁসিতো লিখেই রেখেছেন’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তিনটি আবেদনের শুনানিতে আজ ট্রাইব্যুনালে তীব্র হট্টগোল হয়েছে। দফায় দফায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের। হট্টগোলের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের দুই/তিন আইনজীবী আসামীর কাঠগড়ায় থাকা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দিকে তেঁড়ে গেছেন। তার আইনজীবীরাও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দিকে তেঁড়ে যান। শুনানিতে অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ফাঁসিতো লিখেই রেখেছেন। বেলজিয়াম থেকে রায় এসে গেছে। আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোন অভিযোগ নেই। অথচ প্রতিদিন পত্রিকায় লেখা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নাকি আমার বিচার হচ্ছে। মামলার কার্যক্রম শেষে তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, জরুরি অবস্থার সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশীয় সাক্ষীই পাওয়া গিয়েছিলো। শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নূর আলী, আজম জে চৌধুরীরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেইসব মামলার কি হলো। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। একইদিনে পুনর্বিচার চেয়ে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আবেদনে আদেশ দেবে ট্রাইব্যুনাল। শুনানি শেষে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানির এ দিন ধার্য্য করে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য বিচারপতিরা বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপের ব্যাপারে অবগত ছিলেন কি না-তা জানতে চেয়ে দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি হয় প্রথমে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করেনি। বিচারপতি মো. নিজামুল হক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আইন প্রতিমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আইন মন্ত্রীর বৈঠক আয়োজন করে দেয়ার কথা বলেছেন। বিচারপতি নিজামুল হককে বলা হয়েছে, তিনটা রায় দেন। আমরা আপনাকে আপিল বিভাগে নিয়ে আসবো। এসময় ক্ষুদ্ধ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ক্ষুণœ করার জন্যই এসব আবেদন করা হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। এসময় ডকে বসা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, অবশ্যই এসব শুনতে হবে। এটাকে কি গণআদালত বানাতে এসেছেন। সতিত্বের কোন পার্সেন্টিজ নেই। বলা যায় না কারও এত পার্সেন্ট সতিত্ব আছে, এত পার্সেন্ট নেই। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুসময় হৈচৈ চলে। হৈচৈয়ের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ না হলে এতোদিনেতো সাঈদী সাহেবের ফাঁসি হয়ে যেতো। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। এসময় ট্রাইব্যুনাল বিরতিতে যায়। মধ্যহ্ন বিরতি শেষে ২টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আবার শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালতে চিৎকার করছেন, বিচার কার্যক্রম বিঘিœত করছেন। তাই তাকে এজলাসে আনা হবে না। এসময় ব্যারিস্টার ফখরুল ওই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে নিশ্চয়তা দেন। পরে সালাহউদ্দিন কাদেরকে আবার এজলাসে আনা হয়। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, যে আবেদন করা হয়েছে তা আদালত অবমাননার শামিল। এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানও বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিবো। তিনি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদনে উষ্মা প্রকাশ করে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনিতো এ আবেদন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে করেছেন। আপনিতো আমাদের সার্টিফিকেট চাচ্ছেন। শুনানিতে অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগে স্ক্যান্ডাল বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। ক্যাসেট কেলেঙ্কারি মানবজমিনে প্রকাশিত হয়েছিলো। তবে বিচারপতি মো. নিজামুল হক যতবড় কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছেন এত বড় কেলেঙ্কারি আর কখনও ঘটেনি। আবারও ট্রাইব্যুনাল আবেদনের ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দাঁড়িয়ে বলেন, আপনারা আমার ওপর রাগ করেন, আমার আইনজীবীদের ওপর রাগ কইরেন না। কারণ তারা আমার নির্দেশেই এ আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, নিষ্পাপ মনে এ আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতিদের পক্ষে এ আবেদন করা হয়েছে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কোন আইনজীবী এ ধরনের আবেদন করতে পারেন না। আবেদনটি খারিজ হওয়া উচিত। একইসঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল হওয়াও প্রয়োজন। এরপর আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি হয়। ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এ আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, বিচারক জহির আহমেদকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বিচারে হস্তক্ষেপ করেছেন। একইসঙ্গে স্কাইপ সংলাপ বিচারপতি নিজামুল হকের কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনে তাকে এ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হোক। এ শুনানির জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এসব আবেদন আদালত অবমাননার শামিল। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে উভয়পক্ষে হট্টগোল বেধে যায়। সালাহউদ্দিন কাদের এবং অ্যাটর্নি জেনারেল দুই জনই এসময় উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। ট্রাইব্যুনাল কক্ষে পুলিশও প্রবেশ করে। সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল কামরুল হাসান খান আসলামসহ রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দিকে তেড়ে যান। সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন আসলামের দিকে তেড়ে যান। কয়েক মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে শুনানি করেন এহসানুল হক হেনা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট