Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিদ্যুতের দাম ১১.৬৯% বাড়ানোর প্রস্তাব ডেসকোর

ঢাকা: খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৭৩ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকার মিরপুর, গুলশান, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি-ডেসকো। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি, বিদ্যমান বাস্তবতায় ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ২০ পয়সার বেশি বাড়ানো উচিত হবে না বলে মত দিয়েছে। সোমবার কমিশনে আয়োজিত এই গণশুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংগঠন-ক্যাব এবং কয়েকটি বাম রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন।

বর্তমানে ডেসকোর ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৬.২৫ পয়সা। কিন্তু তারা ১১..৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬.৯৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। সবশেষ গত সেপ্টেম্বরেও খুচরা পর্যায়ে ডেসকোর বিদ্যুতের দাম বেড়েছিল ১৪.৩৬ শতাংশ।

যদিও ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরজত হোসেন গণশুনানিতে বলেন, ”সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধি এবং বেতন ভাতা, পরিচালনা ব্যয়, বৈদ্যুতিক মালামাল ও সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি মুদ্রাস্ফীতি প্রভৃতি কারণে ডেসকো ধাপে ধাপে আর্থিক সক্ষমতা হারাচ্ছে। তাই খুচরা পর্যায়ে মূল্যহার বাস্তবতার নিরিখে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”

এছাড়া টঙ্গীতে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ ডেসকো অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ড করে উল্লেখ করে ডেসকোর এমডি বলেন, এ মুহূর্তে তারা গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের জন্যই তারা বিদ্যুতের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। তবে ডেসকোর এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। কমিটির বিশ্লেষণ, ২০১২-১৩ অর্থবছরের ডেসকোর সুপারিশকৃত রাজস্ব চাহিদা থেকে চলতি পরিচালন রাজস্ব ৮০৪.৬৪ মিলিয়ন টাকা কম হওয়ায় ডেসকোর বিদ্যমান খুচরা মূল্যহার (এনার্জি, ডিমান্ড এবং সার্ভিস চার্জসহ) গড়ে ৩.৩০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বর্তমান মূল্যের সঙ্গে ২০ পয়সা বাড়ানোর যায় বলে কমিটি মনে করে।

এদিকে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং তিনি আবারো হুঁশিয়ার করে বলেন, ”এভাবে ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আমরা বিদ্যুতের বিল বন্ধ করে দেব।”

শুনানিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রাগীব আহসান মুন্না বলেন, ”বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের সময় মানুষের স্বার্থ রক্ষা ও সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বিশেষভাবে বিবেচনা করা কমিশনের আইনি দায়িত্ব।”

তারা বলেন, ”সাধারণ মানুষের আরও বাড়তি বিল দেয়ার ক্ষমতা নেই। সুতরাং বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানো হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও দাম বাড়বে। তাই বর্ধিত বিল জনগণ গ্রহণ করবে না।”

গত সেপ্টেম্বরে যখন বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে ষষ্ঠবারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়, তখন বলা হয়েছিল আগামী দুয়েক বছরে আর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। তাই সপ্তমবারের মতো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিতরণকারী পাঁচটি কোম্পানির (পিডিবি, ইআরবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো) দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গত ২৭ ডিসেম্বর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে গণশুনানি শুরু হয়। কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট