Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কুকুর লেলিয়ে বন্ধু হত্যা আরও ২৫ খুন


নিউজডেস্ক : চট্টগ্রামে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বন্ধুকে হত্যা, গৃহশিক্ষকের হাতে মা ও দুই শিশু খুনের ঘটনা ছিল ২০১২ সালের আলোচিত হত্যাকাণ্ড। বিদায়ী বছরে ১৫ অজ্ঞাত পরিচয় লাশের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, তুচ্ছ ঘটনা ও সম্পত্তি বিরোধের কারণে গত এক বছরে ২৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে রাজনৈতিক কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বছরজুড়ে কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড না ঘটলেও বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনসহ বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর রয়েছে পুলিশ।’ এসব হত্যাকাণ্ড রোধে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনুরোধ জানান তিনি।
জানা গেছে, বছরের শুরু থেকে তুচ্ছ ঘটনায় কয়েকটি খুনের ঘটলেও মাদকের জের ধরে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে মেধাবী ছাত্র হিমাদ্রী হিমুকে বন্ধুরা খুন করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গত ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কের ফরহাদ ম্যানশনের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলার ছাদে মেধাবী ছাত্র হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেয় তার বন্ধু শাওন, ডেনি, সাজু ও রিয়াদ। এরপর তারা হিমুকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৩ মে মৃত্যুবরণ করেন হিমু। তিনি নগরীর ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ লেভেলের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে রিয়াদ ও তার বাবা সেলিম টিপু জামিনে রয়েছেন। আটক রয়েছেন সাজু।
কুকুর লেলিয়ে দিয়ে হিমু হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দুই সন্তানকে বাসায় থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে গৃহশিক্ষক তারেক। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গত ২৩ অক্টোবর নগরীর বহদ্দারহাট খতিবেরহাট এলাকায় মামণি ভিলায় প্রবাসীর স্ত্রী ডলি, দুই সন্তান আলভী ও আদিবাকে কুপিয়ে হত্যা করে গৃহশিক্ষক তারেক চৌধুরী। এ ঘটনায় নিহত ডলির পিতা ইসহাক বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে দু’দিন পর আটক হয় তারেক। পরদিন আদালতে জবানবন্দিতে খুনের দায় স্বীকার করলেও প্রকৃত কারণ স্বীকার করেনি বলে পুলিশের ধারণা। আলোচিত এ দুটি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা বেড়েছে নগরীতে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বন্ধুর হাতে বন্ধু, পুত্রবধূর হাতে শাশুড়ি, কর্মচারীর হাতে দোকান মালিক খুন হন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে খুন হয়েছেন ২১ জন। নগরীর বন্দর থানাধীন মাইজপাড়া এলাকায় সখিনা বেগমের (৩৫) হাতে খুন হয়েছেন শাশুড়ি শামসুন নাহার (৭০)। তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। দোকান কর্মচারীকে নেশা করতে বারণ করায় হত্যা করা হয় জুতা কারখানার মালিক তাজুলকে। কারিগর শফিকুল ইসলাম নেশা করে কারখানায় ফিরে সবাইকে গালাগাল করতে থাকে। এ সময় দোকান মালিক তাজুল আপত্তি জানালে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাজুলকে খুন করারও হুমকি দেয় শফিক। পরে পাশের দোকান মালিক নজরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। তাজুলকে ছুরিকাহত করে খুন করে গত ৩০ জুলাই পালিয়ে যায় দোকান কর্মচারী শফিকুল। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে পিডিবির কর্মচারী আবদুল মান্নান খুন হন গত ৬ জুন। পাওনা টাকা আদায় করতে গত ২০ জুলাই বন্ধু শামীমকে খুন করে বাবুল। এমনকি শ্বাসরোধে হত্যা করে চটের ব্যাগে ভরে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বন্ধুর লাশ ফেলে আসে বাবুল। নগরীর হালিশহর রঙ্গীপাড়া এলাকায় কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ১৪ জানুয়ারি শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদকে খুন করে জুয়েল গ্রুপের ক্যাডাররা। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারি পাহাড়তলী সাগরিকা এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন আতাউর রহমান নামে এক যুবক। গার্মেন্টে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে পারভেজ (২০) নামে এক গার্মেন্টকর্মীর মৃত্যু হয়েছে গত ১১ এপ্রিল। এভাবে নানা কারণে গত এক বছরে ৩৫টি খুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নগরীর কাট্টলী বাঁধ ও কর্ণফুলী নদীতে ভাসমানসহ ১৫টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসব লাশ পচে-গলে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলার কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট