Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিদায় ২০১২ : বছর জুড়ে ছিল হত্যা, গুম আর রাজনৈতিক সহিংসতায় ভরা


ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর : ২০১২ সাল ছিল হত্যা, গুম আর রাজনৈতিক সহিংসতায় ভরা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ বছরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ছিল অস্থির। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলী, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম খুন ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। বছরের শেষ সময়ে বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরনো ঢাকায় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে নিহত হন নিরীহ পথচারী দর্জি দোকানি বিশ্বজিত্ দাস। এছাড়া গত এক বছর টেন্ডারবাজি, ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে হানাহানি ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অশান্ত ছিল। শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের গোপনে কারামুক্তি ও আত্মগোপনের ঘটনা ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি।

পুলিশ সদর দফতরের সূত্র মতে, ২০১২ সালে সারাদেশে ৩ হাজার ৪২৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। এসময় সারাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন সাড়ে ১০ হাজার মানুষ।

বছরের শুরুর দিকে ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। ঘাতকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন ছিল বছরজুড়ে।

সাংবাদিক দম্পতি খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ মার্চ গভীর রাতে গুলশানে নিজ বাসার অদূরে দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে নিহত হন সৌদি দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ সালেম আল আলী। এ ঘটনা তদন্তে সৌদি আরব থেকে কয়েক দফা তদন্ত দল ঢাকায় আসে। পুলিশ অবশ্য পরে এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় আদালত ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়।

বাংলাদেশ গামের্ন্টস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন নামের শ্রমিক সংগঠনের ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা শাখার সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনটির সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল অফিসে বসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বাইরে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আমিনুল ইসলাম। ৬ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সড়কের পাশ থেকে বেওয়ারিশ হিসাবে আমিনুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে দাফন করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। পরে তার পরিবার লাশ শনাক্ত করে। এ হত্যার পেছনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে সন্দেহ করে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলো। ঘটনার তদন্ত নিয়ে বাংলাদেশ সফর করা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গত ১৭ এপ্রিল বনানী থেকে অপহূত হন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী। ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের দাবিতে বিএনপি সারাদেশে আন্দোলন শুরু করে। ২৩ আগস্ট মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিজ ফ্ল্যাটে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন হন ডা. নিতাই চন্দ্র। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে ফুঁসে ওঠে চিকিত্সক সমাজ। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পাশাপাশি পেশাদার সন্ত্রাসীরাও সক্রিয় ছিল ২০১২ সালে। ৩ জুন পরিবাগের নাহার প্লাজার ১৩ তলায় ধর্ষণের পর দুর্বৃত্তরা ২৬ টুকরা করে হত্যা করে রুমি নামে এক তরুণীকে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় ঘাতক বাচ্চুকে গ্রেফতার করে। ১২ আগস্ট পুরনো ঢাকায় বস্তাবন্দি এক তরুণীর ২৭ টুকরা লাশ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনেও ওই তরুণীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

১১ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়া থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয় পুরনো ঢাকার হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগ মন্ডল। শিশুটির মা লিপি মন্ডল, বোন পিনাকি মন্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পরাগকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে পরাগের মুক্তিপণ হিসাবে দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়েও পরাগকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে তিন দিন পর কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার থেকে পরাগ মন্ডলকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিকল্পনাকারী হিসাবে নাম উঠে আসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল মোল্লার। পুলিশ এ ঘটনায় জুয়েল মোল্লাসহ অপহরণকারী দলের প্রধান আমির ও তার সহযোগীদের পরে গ্রেফতার করে।

২৫ নভেম্বর রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হন ১১০ শ্রমিক। ঐ দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত তাজরিন ফ্যাশনে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভোর থেকে গার্মেন্টেসের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলা থেকে উদ্ধার হতে থাকে একের পর এক লাশ। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জনের মৃতদেহ সনাক্ত করতে না পারায় ডিএনএ নমুনা রেখে তা বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের কাছে দেয়া হয় দাফনের জন্য। সংস্থাটি জুরাইন কবরস্থানে অঙ্গার হওয়া লাশগুলো দাফন করে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত দাবি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয় ৫টি পৃথক কমিটি। সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে পুলিশ সম্প্রতি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় ব্যস্ত হয়ে ওঠায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্রতিটি ঘটনাকে একেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধরে নিয়ে আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মন্তব্য করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটছে বলে সর্বত্র আলোচিত হয় ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট